১৮তম তারাবীহ: ২১তম পারার মর্মার্থ

একুশতম পারায় সূরা আনকাবূতের যে অংশ রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নিম্নরূপঃ
১. একুশ পারার প্রথম আয়াতে আল্লাহর কালাম কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের এবং নামায কায়েমের আদেশ প্রদান করা হয়েছে। নামায অশ্লীল এবং মন্দ ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে।
যদি নামাযের শর্তাবলী ও নিয়মাবলী রক্ষা করে নামায আদায় করা তাহলে অবশ্যই নামাযের ফল ও ফায়দা পাওয়া যায়। নামায নামাযী এবং গুনাহের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করে দেয়।
ইমাম আবুল আলিয়া রহ. বলেন, নামাযীর মাঝে তিনটি গুণ পাওয়া যায়: ইখলাস, ভয় এবং আল্লাহর যিকির। ইখলাস নামাযী ব্যক্তিকে সৎ কাজের প্রতি উৎসাহিত করে। খশয়াত ও ভয় তাকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে আর আল্লাহর যিকির ‘কুরআন’ যুগপৎভাবে তাকে সৎ কাজের প্রতি উৎসাহিত করে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখে। যে নামাযের মাঝে এই তিন গুণের কোনটি অনুপস্থিত থাকবে সেটা বাস্তবিক পক্ষে নামায-ই নয়।
প্রসঙ্গত ভেবে দেখা উচিত, কেন আজ আমাদের নামাজগুলো আমাদেরকে গুনাহ বিমুখ করে না? আমাদের নামায বে-জান কেন? মসজিদে মুসল্লীও আছে এবং ঘরে বাইরে সুদ-ঘুষ, জুলুম-অত্যাচার, ছিনতাই রাহাজানিও চলছে- এর কারণ কি? কারণ একটাই, আজ আমরা নামাজকে মসজিদের চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছি। নামাযের বার্র্র্তাকে আমর মসজিদের বাইরে নিতে প্রস্তুত নই। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক, চারিত্রিক এবং রাজনৈতিক জীবনে যদি আমরা নামাযের শিক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলেই আমাদের নামায সত্যিকার অর্থের নামায হবে এবং সমাজে শান্তি-শৃংখলা প্রতিষ্ঠিত হবে।
২. হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যবাদী হওয়ার একটি স্পষ্ট নিদর্শন বর্ণনা করা হয়েছে যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিরক্ষর ছিলেন, না লিখতে পারতেন আর নাইবা পড়তে পারতেন। যদি লেখা পড়া জানতেন তাহলে বাতেল-পূজারীরা এই সন্দেহ করতে পারত যে, হয়ত হুজুর সাল্লাল্লাহু আলআহি ওয়াসাল্লাম পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ থেকে এ সকল জ্ঞান অর্জন করেছেন।
সত্যবাদিতার এ সুস্পষ্ট এবং চিরন্তন নিদর্শন ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অস্বীকারকারীরা এই প্রশ্ন তুলে যে, যে সকল মু’জিযা বা অলৌকিক জিনিসের দাবী আমরা করি তা কেন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলআহি ওয়াসাল্লামের থেকে প্রকাশ পায় না? আল্লাহ তা’আলা বলেন, কুরআনের মু’জিযাটি তাদের জন্য যথেষ্ট নয় কি? তাদের কবি সাহিত্যিকরাও তো কুরআনের মত কোন দৃষ্টিান্ত পেশ করতে অপারগতা জানিয়েছে। কুরআনে কারীম তো সকল মু’জিযার বড় মু’জিযা। এর উপস্থিতিতে অন্য কোন মু’জিযার দাবী করা সীমাহীন বিদ্বেষ ও চরম অজ্ঞতা ছাড়া আর কি হতে পারে? তাদের অজ্ঞতার ধরণ তো এমন যে, কখনো কখনো তারা শাস্তিরও দাবী করে বসে!
কুরআন পূর্বেও মু’জিযা ছিল, বর্তমানেও মু’জিযা হিসেবে বহাল আছে। কুরআন জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার যে দ্বার উন্মোচন করেছে তৎকালীন আরব-অনারবের জ্ঞানী পণ্ডিতরাও তা অনুধাবন করতে অক্ষম ছিল। কিন্তু এ যুগের মানুষ কুরআনের জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিষয়গুলো কিছুটা অনুধাবন করতে পারছে। তাই অধমের মতামত হল, মানুষের জ্ঞান-গবেষণার পরিধি যত বাড়বে কুরআনের অলৌকিকতার ঝলক ততটাই তাদের সামনে স্পষ্ট হতে থাকবে।

পুরো পড়তে ক্লিক করুন: ২১তম পারা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *