হজ্ব: ১

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো হজ্ব। সামর্থ্যবানদের জন্য জীবনে একবার ফরয। ফযীলত ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বিস্ময়কর ইবাদত।

যারা হজ্বে গিয়েছেন, আল্লাহ‌ তাআলার ঘর যিয়ারত করেছেন, কুরআন-হাদিসে বর্ণিত হজ্বের আহকামগুলো মেনে হজ্ব পালন করেছেন, তাদের উপলব্ধি ভাষায় প্রকাশ করা দুঃসাধ্য। আল্লাহ তাআলার ভালোবাসার বিষয় সব ইবাদতের মধ্যেই রয়েছে, কিন্তু হজ্ব যেন আদ্যোপান্তই আল্লাহ ও বান্দার ভালোবাসা! দুই টুকরা সেলাইবিহীন কাপড় পড়ে আল্লাহ তাআলার বান্দা যখন “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক….লাব্বাইক লা শারীকালাকা লাব্বাইক….” বলে বায়তুল্লাহ – কা’বা ঘরের দিকে রওয়ানা দেয় – তখনই কেমন এক অনুভূতি জেগে উঠে! আল্লাহ তাআলার ঘরের দিকে ছুটে যাওয়ার জন্য তাঁর বান্দা কত ব্যাকুল। একদিন তো বান্দা দুনিয়া ছেড়ে তার মাওলার কাছেই ফিরে যাবে! হজ্বের মাধ্যমে যেন তারই মহড়া, তারই প্রস্তুতি আর ব্যাকুলতা – কবে যাব ফিরে তোমার কোলে আবার?!

আমাদের উলামাগণ-আকাবিরীন যেভাবে হজ্ব সফরনামা লিখেছেন তা হয়রান করে। যারা এবার হজ্ব যাচ্ছেন, সামনে যাবেন বা ভবিষ্যতে যাবেন ইনশাআল্লাহ‌, এবং সবার কাছেই অনুরোধ, সেই সব সফরনামার কিছুটা হলেও পড়ুন! ইনশাআল্লাহ‌ তাতে অন্তরে বায়তুল্লাহ যিয়ারতের আকাঙ্ক্ষা বহু গুণ বৃ্দ্ধি পাবে। সেখানে গিয়ে আমলের যওক-শওক অনেক বাড়বে। সেই সফরনামার দু একটি পড়লেও আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা লাভে তা বিশেষ সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ ওয়ালাদের যেকোনো অভিজ্ঞতার কাহিনীই আমাদেরকে অনেক জ্ঞানের খোরাক দেয়। আর  হজ্বের সফর তো সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের একটি সফর।

আমাদের সাইটে হজ্ব সংক্রান্ত কিছু মৌলিক বিষয় আলোচনা করাই উদ্দেশ্য। তার মধ্যে হজ্বের ফযীলত, গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য, মাসআলা-মাসায়েল মুখ্য। কয়েকটি কিস্তিতে ইনশাআল্লাহ তা আলোচনা করার নিয়ত আছে। সম্মানিত পাঠকদের দোআ কামনা করছি – আল্লাহ তাআলা যেন তাওফীক দেন।

খাঁটি নিয়ত (কেবল আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্য) আমল কবুলের পূর্বশর্ত। হজ্ব পালনে এই বিষয়টি একটু বেশি খেয়াল রাখতে হয়। কারণ মানুষ আমাকে হাজী বলবে বা আমার নামের আগে আল-হাজ্ব লাগাব ইত্যাদি বিষয় আমার আমলকে নষ্ট করে দেবে। খাঁটি নিয়ত উপেক্ষিত হওয়া বড় আফসোসের কথা! নামাযতো দিনে পাঁচবার। এভাবে দান-সাদাকা, রোযা – ইত্যাদি ইবাদত সবসময় করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু হজ্ব? সুনির্দিষ্ট সময়ে, সুনির্দিষ্ট স্থানে, সুনির্দিষ্ট নিয়মে কষ্ট-ক্লেশ করে জীবনে একটি বার করা ফরয্। যার দরুন আল্লাহ তাআলা সারা জীবনের গুনাহ ক্ষমা করেন, বান্দাকে আজীবনের জন্য দারিদ্র্যতা থেকে মুক্তি দেন, বান্দার অন্তরে আখেরাতের বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে দেন, আর সর্বোপরি আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাকে নিজ ভালোবাসা দ্বারা ধন্য করেন! জীবনের প্রথম হজ্বটি ফরয্ পর্যায়ের, তাই পরে যতবারই করা হোক, তা প্রথমটির সমকক্ষ নয়। অতএব, নিয়ত থেকে শুরু করে সববিষয়ই ভালো করে জেনেই হজ্বের উদ্দেশ্যে যাওয়া উচিত।

নিয়ত ঠিক করার প্রসঙ্গে আরেকটি কথা এই যে, আমার আশে পাশের মানুষ হয়ত কিছু বলবে যা আমার নিয়ত খারাপ করতে পারে। আমাকে হাজী সাহেব বলবে অথবা আল-হাজ্ব বলবে। এ থেকে বাঁচার জন্য সর্বপ্রথম আল্লাহ তাআলার আশ্রয় চাব। এ চিন্তা করব যে, আমি এসব টাইটেল-প্রশংসা পাওয়ার জন্য হজ্ব করতে যাচ্ছি না বা হজ্ব করিনি। সবরকম সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ পাকের তাওফীক ছাড়া হজ্ব নসীব হয় না। আবার হজ্বের হুকুম-আহকাম পালন করলেই হজ্ব কবুল হবে – কোনো গ্যারান্টি নাই; আমাদের কাজে কত ত্রুটি! আল্লাহ তাআলার রহমতেই সবকিছু সম্ভব। অর্থাৎ, মানুষ যা-ই বলুক; আমার  উদ্দেশ্য শুধুমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টি। বিপরীত চিন্তা ও নিয়ত এলে ইস্তেগফার হলো প্রতিষেধক। মানুষের কথায় কান না দেওয়া, সেই প্রসঙ্গ আসলে আলোচনা অন্যদিকে ঘুরিয়া দেওয়া – এটা বুদ্ধিমানের কাজ। হজ্বে যাওয়ার আগে অন্তত, এই প্রচেষ্টার সাথে আল্লাহ তাআলার কাছে দোআ করতে থাকব। আল্লাহ তাআলা আমাদের হজ্ব কবুল করুন, সহজ করেন; যা করণীয় তা করার তাওফীক দান করুন; যা নিষিদ্ধ তা থেকে বিরত থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *