হজ্জ: ২

হজ্জের পূর্বে খুবই বিনয়ী মনোভাব তৈরি করা উচিত। আল্লাহ‌ তাআলার শোকরের সমুদ্রে ডুব দেয়া উচিত। এই চিন্তা করা উচিত যে, আল্লাহ তাআলা আমাকে তাঁর ঘরে ডেকেছেন। এটা তো পরম সৌভাগ্যের কথা! এঁকে সাধ্য অনুযায়ী কদর করা উচিত। আল্লাহ তাআলার মেহমান হওয়া কেমন? এ কথা কল্পনা করাই তো কত বড় আনন্দের বিষয়! আমিই কী, আর আর আমার অস্তিত্বই বা কী! তারপরও আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাকে যদি এমন সৌভাগ্য দান করেন, তো এই দানের উপর শুকরিয়া করে সারা জীবনেও তা শেষ করা যাবে না।

আপনি কি কখনো কারো বাড়ীতে মেহমান হননি? এমন কি কখনো হয়েছে যে, মেজবান আপনাকে বলেছে যে, ঠিক আছে আপনি আমার বাড়ীতে আসুন, কিন্তু নিজের থাকা, খাওয়া – সব ফিকির আপনি নিজেই করবেন! না, নিশ্চয় না। তাহলে বায়তুল্লায় যাবেন, রাব্বুল আ’লামীনের ঘরে যাবেন – কি আর চিন্তা! সফরের সুন্নত পরিমাণ প্রস্তুতি তো নিয়েছেন ও নিবেন, কিন্তু পেরেশানির প্রশ্নই আসে না। সেখানে মেজবান স্বয়ং আল্লাহ‌ আর মেহমান আপনি। এ কথাটি অন্তরে গেঁথে ফেলুন। যত দৃঢ় ভাবে গাঁথবেন, ততই তাঁর মেহমানদারি উপলব্ধি করবেন ইনশাআল্লাহ‌! খুব সহজ সরল ভাবে কথাটি বলা হয়ে গেল, বিষয়টি আসলেই তাই, আল্লাহ তাআলা বোঝার তৌফিক দিন। আমরা আল্লাহ-মুখী হব, আর তিনি আমাদের প্রতি মনোযোগী হবেন না! এমন আসলে কখনো হবে না। যদি অন্তরে এর সন্দেহ কিছু মাত্রও থাকে – তা আমাদের দুর্বলতা। এজন্যই প্রয়োজন এই দুর্বলতা, বিশেষত: যা ঈমানি দুর্বলতা ইস্তেগফার-তওবার মাধ্যমে তা দূর করা।

উলামাগণ খুব তাগিদের সাথে হজ্জ সফরের আগে তওবা করতে বলেন। সেই পবিত্র ভূমিতে গিয়েতো তওবা করবই ইনশাআল্লাহ‌, যাওয়ার আগেও তওবা করা উচিত। আল্লাহ তাআলার মেহমান হয়ে যাব, আল্লাহ তাআলার সাথে ভাব করে যাব। শত্রুতা নিয়ে কি কারো মেহমান হওয়া যায় বা উচিত? আল্লাহ তাআলার মেহমান হব গুনাহ্ নিয়ে! এটা সুস্থ-মস্তিষ্কের পরিচয় নয়। তাই নিয়্যত ঠিক করার পর তওবা করব। আর তওবা করব সারা জীবনের সমস্ত গুনাহ্ থেকে, সঠিকভাবে – যথাসম্ভব। পার্থিব ক্ষেত্রে সাধ্য অনুযায়ী অর্থাৎ “যতুটুকু সম্ভব” তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফার্স্ট ক্লাস না পেলে সেকেন্ড ক্লাস হলেও চলে। বড় চাকরী এখন পাচ্ছি না, আচ্ছা ছোট চাকরীই করি। তবু আমরা কাজকর্ম বন্ধ রাখি না। কিন্তু দ্বীনের ক্ষেত্রে এভাবে চেষ্টা করা হয় না। আল্লাহ তাআলার পথে আগানোর জন্য ছোট পদক্ষেপ নিতে অবহেলা করা হয়ে থাকে। তাহলে বড় বড় হিম্মত আর কবে হবে! তাই বলছি – এক দুই গুনাহ্ থেকে হলেও তওবা করা শুরু করা উচিত। ইনশাআল্লাহ তখনই তৌফিক হবে অন্য সব গুনাহ থেকে তওবার।

আজ তওবা সংক্রান্ত ইলমও আমরা হারাতে বসেছি! কেউ তো তওবা বলতে একেবারে “এলাহি কোন কান্ড” মনে করে। আবার কেউ কেউ তওবাকে মৌখিক জমা-খরচ অর্থাৎ, তওবাও করব, গুনাহও করব – এমন মনে করে। আবার কেউ এমনও আছে, মনে করে তওবা ‘রিটায়ার্ড’ বা অবসরগ্রহণের পর করা উচিত। শেষ জীবনে করা উচিত। বা তওবা হল একেবারে মৃত্যু মুহূর্তের বিশেষ-আমল (যদিও মৃত্যু মুহূর্তে তওবা নসীব অবশ্যই সৌভাগ্যের, কিন্তু সব তওবা কি তখন সম্ভব?)। এই সব ধারণা লালিত করে অনেকেই মনে করেন, তওবা কোন তাড়াহুড়ার বিষয়ই না! অথচ এগুলো সবই ভুল। আল্লাহ তাআলা আমাদের এ বিষয়ে সঠিক ভাবে জানার, বোঝার ও আমল করার তৌফিক দিন! আমীন। (ইনশাআল্লাহ সামনের পর্বে তওবা কিভাবে করতে হবে তার আলোচনা হবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published.