সাপ্তাহিক হাদীস আর্কাইভ

অসুস্থতার সময়েও সওয়াব

আবু মূসা আশ’আরী رضي الله عنه বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন: আল্লাহর বান্দা যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফর করে তখন সুস্থ ও গৃহবাসী অবস্থায় যে পরিমাণ কাজ করত, সেই পরিমাণ কাজের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হয়। বুখারী

রমযানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোযা

সাইয়্যেদুনা আবু হুরায়রা رضي الله عنه থেকে বর্ণিত এক হাদীসে নবী করীম ﷺ বলেন (অর্থ): রমযানের পর আল্লাহর মাস মুহাররমের রোযা হল সর্বশ্রেষ্ঠ। (মুসলিম, তিরমিযী)

জুমআর খুতবা শোনা

আবু হুরায়রা رضي الله عنه বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি খুব ভালোভাবে অযু করে, তারপর মসজিদে এসে চুপচাপ খুত্‌বা শোনে, তার এক জুমআ থেকে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত এবং তারপরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি (খুতবা সময়) হাত দিয়ে কোন পাথর খণ্ড নাড়াচাড়া করে, সে গর্হিত কাজ করে। (মুসলিম)

ফজর ও আসর-এর নামায এবং জান্নাত

আবু মূসা আশ্‌আরী  رضي الله عنه বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন: সে জান্নাতে প্রবেশ করল যে ব্যক্তি ফজর ও আসর-এর নামায (যথারিতী) আদায় করল। বুখারী ও মুসলিম

জান্নাতে সকাল বা সন্ধ্যায় মেহমানদারী

আবু হুরায়রা رضي الله عنه বর্ণনা করেছেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি সকাল বা সন্ধ্যা মসজিদে যায় আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতে সকাল বা সন্ধ্যায় মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেন। (বুখারী ও মুসলিম)

সৎ কাজকে তুচ্ছ মনে না করা

আবু যার رضي الله عنه বর্ণনা করেন, আমাকে রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন: কোন সৎ কাজকে তুচ্ছ মনে কর না, সেটা তোমার ভাই-এর সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করার কাজও হলেও নয়। (মুসলিম)

ওযর কবুলের শেষ সময়

আবু হুরায়রা رضي الله عنه বর্ণনা করেছেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেন: আল্লাহ যে ব্যক্তির মৃত্যুকে পিছিয়ে দেন, তার বয়সের ৬০ বছর পর্যন্ত তার ওযর কবুল করতে থাকেন। (অর্থাৎ বয়সের ৬০ বছর হচ্ছে ওযর কবুলের শেষ সময়। এরপর আর কোন ওযর চলে না )। বুখারী

উত্তম ব্যক্তি

আবু সাফওয়ান আবদুল্লাহ ইবনে বুস্‌র আসলামী رضي الله عنه বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন: (লোকদের মধ্যে) সেই ব্যক্তি উত্তম যার বয়স দীর্ঘ এবং কাজও সুন্দর। ইমাম তিরমিযী একে ‘হাসান হাদীস’ রূপে আখ্যায়িত করেছেন।

আখেরাতে আল্লাহ তাআলার রহমত অসংখ্যভাবে প্রকাশ পাবে: একটি নমুনা

সাইয়্যেদুনা আবু হুরায়রা رضي الله عنه সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন - (অর্থ): দুই ব্যক্তি জাহান্নামের মধ্যে তীব্রভাবে চিৎকার করতে থাকবে। আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলা আদেশ করবেন: এদের বের করে আন। তাদেরকে যখন বের করে আনা হবে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন: তোমাদের এমনভাবে চিৎকার করার কী কারণ? তারা জবাবে বলবে, আমরা এজন্য চিৎকার করেছি যেন আপনি আমাদের প্রতি দয়াপরবেশ হন! আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমাদের ওপর আমার অনুগ্রহ এটি যে, ফিরে যাও আগুনে যেখানে তোমরা ছিলা! তারা এ কথা শুনে চলে যাবে। তাদের একজন তাতে (জাহান্নামের আগুনে) প্রবেশ করবে এবং আল্লাহ তাআলা জাহান্নামকে ঐ ব্যক্তির জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক বানিয়ে দেবেন। আর আরেকজন সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, আগুনে প্রবেশ করবে না। আল্লাহ তাআলা এই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি তোমার সঙ্গীর মতন নিজেকে নিক্ষেপ করছ না কেন? সে জবাবে বলবে, ও আমার রব! আমি তো এই আশা করি যে, একবার যেহেতু সেখান থেকে তুমি আমাকে বের করেছ, আবার তুমি সেখানে আমাকে ফিরিয়ে দেবে না। দয়াময় আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলা বলবেন, তোমার জন্য যা তা-ই যা তুমি আশা করেছ। অতএব উভয়কেই আল্লাহ তাআলার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। তিরমিযী: ২৫৯৯

নবীজি ﷺ-এর দানশীলতা ও মহানুভবতা

সাইয়্যেদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস رضي الله عنهم বলেন, রাসূল ﷺ ছিলেন সর্বাধিক দাতা ও মহানুভব। রমযানে তিনি আরো বেশী দানশীল ও মহানুভব হয়ে যেতেন, যখন হযরত জিবরাঈল আ. তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন। আর রমযানের প্রতি রাতেই জিবরাঈল আ. তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁরা পরস্পর কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয় রাসূল ﷺ প্রবাহিত বাতাস থেকেও অধিক দানশীল ও মহানুভব ছিলেন। বুখারী

জান্নাত ও দোযখ অবস্থান

ইবনে মাসঊদ رضي الله عنه বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম আকরাম ﷺ বলেন: জান্নাত তোমাদের প্রত্যেকের জন্যে তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটে; আর দোযখের অবস্থানও তাই। বুখারী

মৃত ব্যক্তিকে তিনটি জিনিস অনুসরণ করে

আনাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেন: মৃত ব্যক্তিকে তিনটি জিনিস অনুসরণ করে: তার পরিবার, তার ধন-মাল এবং তার আমল (বা কাজ) তারপর দু’টি জিনিস ফিরে আসে, তার পরিবার ও ধন-মাল। আর সঙ্গে থেকে যায় তার ‘আমল’। বুখারী ও মুসলিম

রব অতি দয়াময় ও লজ্জাশীল

সাইয়্যেদুনা সালমান ফারসী رضي الله عنه থেকে বর্ণিত প্রিয় নবীজি ﷺ বলেন (অর্থ): নিশ্চয়ই তোমাদের রব অতি দয়াময় ও লজ্জাশীল। যদি তাঁর বান্দা তাঁর কাছে (দোআর উদ্দেশ্যে) হাত তোলে, তিনি তা খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। তিরমিযী, হিব্বান, হাকেম। 

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা

এক বেদুঈন যখন নবীজি কে জিজ্ঞেস করলেন "কেয়ামত কবে?" নবীজি ﷺ তাকে জিজ্ঞেস করেন (অর্থ): তুমি কেয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ? তিনি জবাবে বলেন, শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা। (অন্য বর্ণনা মতে, নামায, রোযা ও সদকা তেমন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নয়, কিন্তু আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি) তখন নবীজি ﷺ তাকে বলেন (অর্থ): তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের তুমি ভালবাস। বুখারী ও মুসলিম

রমযানের শেষ দশক

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ (রমযান মাসে) শেষ দশক এলে সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারবর্গকেও জাগিয়ে দিতেন। এ সময় তিনি কোমর বেঁধে ইবাদতে লেগে যেতেন। বুখারী ও মুসলিম

পাখির মত অন্তর

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ﷺবলেছেন: “জান্নাতে এমন অনেক লোক যাবে যাঁদের অন্তর পাখীর অন্তরের মতো হবে। মুসলিম

আল্লাহর পথে অগ্রসর হওয়া

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মহান আল্লাহ বলেছেন: “বান্দা যখন আধ হাত আমার দিকে এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। আর যখন সে এক হাত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে দুই হাত এগিয়ে যাই। আর যখন সে আমার কাছে হেঁটে আসে, আমি তার কাছে দৌড়িয়ে যাই।” বুখারী

অন্তরের সৌন্দর্য্য

আবু হুরায়রা رضي الله عنه থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: বাজে কাজ ও কথা পরিহার করা মানুষের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। তিরমিযী

উত্তম আবেদন

ইবনে মাসঊদ রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলতেন [অর্থ]: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা প্রার্থনা করছি। মুসলিম

জীবনের শেষ নামায

আবু আইয়ূব রা. বর্ণনা করেন (অর্থ): একজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করল: আমাকে কিছু উপদেশ দিন এবং সংক্ষেপে (দিন উপদেশটি): রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যখন নামাযে দাঁড়াও মনে করো এটা তোমার জীবনের শেষ নামায, এমন কোনো কথা বলো না যার জন্য তোমাকে আক্ষেপ করতে হবে এবং মানুষের কাছে যা আছে তা পাওয়ার ইচ্ছাকে পরিত্যাপ করো। [ইবনে মাজা]

নাজাত কিসে


‏وعن عقبة بن عامر رضي الله عنه قال‏:‏ قلت يا رسول الله ما النجاة‏؟‏ قال‏:‏ ‏ “‏أمسك عليك لسانك، وليسعك بيتك، وابكِ على خطيئتك‏”‏

উকবা বিন আমের রা. বলেন (অর্থ), আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেস করেছি, নাজাত কীসে? আমাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, জিহ্বাকে সংযত রাখো, বাড়ীতে অবস্থান করো (যথাসম্ভব বাড়ীতেই থাকো, অপ্রয়োজনে বাড়ী থেকে বের হয়ো না) এবং নিজের গুনাহের ওপর কাঁদো। [তিরমিযী]

 

জান্নাত ও জাহান্নামে প্রবেশ

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল [অর্থ], কোন্ জিনিস অধিক মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি ﷺ বলেছেন, তাকওয়া (আল্লাহ তাআলার ভয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা) ও উত্তম চরিত্র। রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন্ জিনিস অধিক মানুষকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে? তিনি ﷺ বলেছেন, মুখ ও লজ্জাস্থান। [তিরমিযী]

নামাযে তাশাহুদ ও সালাম ফেরানোর মাঝে পড়ার দুআ

আলী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলে আকরাম ﷺ নামাযে তাশাহুদ ও সালাম ফেরানোর মাঝে এ দুআটি পড়তেন:

االلَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করো, যা আমি করেছি গোপনে ও প্রকাশ্যে এবং যেসব ক্ষেত্রে আমি অবাধ্যতা করেছি এবং যা সম্পর্কে তুমি আমার চেয়ে বেশিঅবগত। তুমি শুরু ও তুমিই শেষ এবং তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। – মুসলিম

শেষ দশদিন ইতিকাফ

হাদীস শরীফে এসেছে- "নবী কারীম ﷺ রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন।" সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম

রমযান মাসের ফযীলত

হাদীসে রমযান মাসের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে যে, "রমযান মাসের শুভাগমন উপলক্ষে জান্নাতের দরজাসমুহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানকে শৃংখলাবদ্ধ করা হয়।" সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম

রমযান মাসে দান

হাদীস শরীফে এসেছে- "রাসূলুল্লাহ ﷺ দুনিয়ার সকল মানুষ অপেক্ষা অধিক দানশীল ছিলেন। রমযান মাসে তাঁর দানের হস্ত আরো প্রসারিত হত।" সহীহ বুখারী

রমযানের রোযা

হাদীস শরীফে এসেছে- "যে ব্যক্তি কোনো ওযর বা অসুস্থতা ব্যতিরেকে রমযানের একটি রোযা পরিত্যাগ করবে সে যদি ঐ রোযার পরিবর্তে আজীবন রোযা রাখে তবুও ঐ এক রোযার ক্ষতি পূরণ হবে না।" তিরমিযী

রমযানে রাত জেগে নামায পড়া

রাসূলে করীম ﷺ বলেছেন-
"আল্লাহ তাআলা এই মাসের রোযা তোমাদের উপর ফরয করেছেন এবং এই মাসে রাত জেগে নামায পড়াকে সুন্নত করেছি।" নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ

পাঁচটি স্তম্ভ

হাদীস শরীফে এসেছে-
"পাঁচটি স্তম্ভের উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত : আল্লাহ তাআলা এক বলে স্বীকার করা, নামায কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের রোযা রাখা ও হজ্জ পালন করা।" সহীহ মুসলিম

দ্বীন শিক্ষা দেয়ার জন্য উপযুক্ত সময় ও অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত

ইবনে মাসউদ رضي الله عنه থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের দ্বীন শিক্ষা ও নসীহত প্রদানের জন্য উপযুক্ত সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন যেন আমরা অবসাদগ্রস্ত না হয়ে যাই। (অর্থাৎ সবসময় আমাদেরকে তালীম-তরবিয়তমূলক কথা বলতেন না)। বুখারী

বান্দা আল্লাহ'র সবচেয়ে কাছে কখন

আবু হুরাইরাহ رضي الله عنه বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন (অর্থ): বান্দা সেজদার সময় তার প্রতিপালকের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। তাই সেজদা অবস্থায় তোমরা দুআ বৃদ্ধি করো। মুসলিম

প্রিয় নবীজি ﷺ এর তেলাওয়াত

ইয়া'লা رضي الله عنه থেকে বর্ণিত [অর্থ] আমি উম্মে সালামা رضي الله عنه কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবীজি ﷺ কিভাবে কুরআন পড়তেন। তিনি বলেন যে, তাঁর পড়া পরিষ্কার ও স্পষ্ট হত, প্রত্যেক হরফ আলাদা আলাদা শোনা যেত। তিরমিযী

জুলুম প্রতিষ্ঠা করার পরিণতি

লোকেরা যদি জালেমকে জুলুম করতে দেখে এবং ওকে প্রতিহত করতে চেষ্টা না করে, তাহলে তারা যেন আল্লাহ'র পক্ষ থেকে সর্বগ্রাসী আযাবের জন্য অপেক্ষা করে। আবু দাউদ

আল্লাহ'র দয়া লাভের উপায়

জারীর ইবনে আবদুল্লাহ রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেন [অর্থ]: যে ব্যক্তি মানুষকে দয়া করে না, আল্লাহও তাকে দয়া করেন না। বুখারী ও মুসলিম

জুলুমের শাস্তি

উম্মুল মু’মিনীন আশেয়া رضي الله عنها থেকে বর্ণিত [অর্থ]: যে ব্যক্তি এক বিঘৎ পরিমাণ জমিতে জুলুম করল (অর্থাৎ জোরপূর্বক ১ বিঘৎ পরিমাণ জমি দখল করল, কেয়ামতের দিন আল্লাহ) তার গলায় সাত তবক জমিন পরিয়ে দেবেন। বুখারী ও মুসলিম

জান্নাতে মেহমানদারীর ব্যবস্থা

আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেছেন, রাসূলে আকরাম বলেছেন [অর্থ]: যে ব্যক্তি সকাল বা সন্ধ্যা মসজিদে যায় আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতে সকাল বা সন্ধ্যায় মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেন। বুখারী ও মুসলিম

উত্তম আবেদন

ইবনে মাসঊদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলতেন [অর্থ]: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা প্রার্থনা করছি। মুসলিম

মানুষের সৌন্দর্য

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ বলেছেন [অর্থ]: বাজে কাজ ও কথা পরিহার করা মানুষের সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত। তিরমিযী

আল্লাহ তাআলার আত্মমর্যাদাবোধ

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: আল্লাহ তাআলা (বান্দার ব্যাপারে) আত্মমর্যাদা অনুভব করেন। আর মানুষের জন্য আল্লাহ যা হারাম করেছেন যখন সে তাতে লিপ্ত হয় তখনই আল্লাহ’র আত্নমর্যাদাবোধ জেগে ওঠে। বুখারী ও মুসলিম

আমাদের কাছে হালকা

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন [অর্থ]: তোমরা এমন সব কাজ করে থাক যেগুলো তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও বেশী হালকা-পাতলা। কিন্তু আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺএর যুগে সেগুলোকে ধ্বংসকর ও মহা ক্ষতিকর হিসেবে গণ্য করতাম। বুখারী

ভালবাসার পরীক্ষা

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেছেন [অর্থ]: আমি যখন আমার বান্দাকে তার দু’টি প্রিয় বস্তুর মাধ্যমে পরীক্ষা করি (তার দু’টি চোখের দৃষ্টি শক্তি নষ্ট করে দেই) আর সে তাতে সবর করে, তখন আমি তাকে তার বদলে জান্নাত দান করি। বুখারী

শাহাদতের মৃত্যু

বদরী সাহাবী সাহল ইবনে হুনাইফা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: যে ব্যক্তি আল্লাহ’র নিকট সত্যিই শাহাদাতের মৃত্যু চায়, সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করলেও আল্লাহ তাকে শহীদগণের মর্যাদায় পোছিয়ে দেন। মুসলিম

ক্ষমার জন্য তওবা

আগার ইবনে ইয়াসার মুযান্নী রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]: হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহ’র কাছে তওবা কর এবং (গুনাহর জন্যে) তাঁর কাছে ক্ষমা চাও। আমি প্রত্যেহ একশো বার তওবা করি। মুসলিম

মু’মিনের সমস্ত কাজই কল্যাণকর

আবূ ইয়াহইয়া সুহায়েব ইবনে সিনান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: মু’মিনের ব্যাপারটা আশ্চর্যজনক। তার সমস্ত কাজই কল্যাণকর। মু’মিন ছাড়া অন্যের ব্যাপারে এরূপ নয়। তার জন্য আনন্দের কোন কিছু হলে সে আল্লাহ’র শোকর করে, তাতে তার মঙ্গল হয়। আবার ক্ষতিকর কোন কিছু হলে সে ধৈর্যধারণ করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়। মুসলিম

উম্মতের কল্যাণ

সাহল ইবনে সা’দ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন [অর্থ]: যতদিন মানুষ বিলম্ব না করে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে। মুসলিম

গুনাহের কাফফারা

আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]: পাঁচ ওয়াক্তের নামায, এক জুমআ থেকে আরেক জুমআ এবং এক রমযান থেকে আরেক রমযানের মধ্যবর্তী দিনগুলোর ছোটখাট গুনাহের কাফ্‌ফারায় পরিণত হয়, যদি বড় বড় গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকা হয়। মুসলিম

মৃত্যু কামনা

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: তোমাদের কারো কোনো বিপদ বা কষ্ট হলে সে যেন মৃত্যুর কামনা না করে। যদি কেউ এরূপ করতেই চায়, তবে যেন বলে: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জীবিত রাখ যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত থাকা আমার জন্য কল্যাণকর। আর যখন আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর তখন আমাকে মৃত্যু দাও। বুখারী ও মুসলিম

দুই মুসলমান পরস্পর যুদ্ধরত হয়ো না

আবু বাকরাহ নুফাই’ ইবনে হারিস সাকাফী রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]: যখন দু’জন মুসলমান তরবারী কোষমুক্ত করে পরস্পর লড়াইয়ে লিপ্ত হয়, তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামের যোগ্য হয়ে যায়। আমি নিবেদন করলাম; হে আল্লাহ’র রাসূল! হত্যাকারী জাহান্নামের হকদার হওয়াটা তো বুঝলাম; কিন্তু নিহত ব্যক্তির জাহান্নামী হওয়ার কারণটা কী? রাসূলে আকরাম ﷺ বললেন [অর্থ]: কারণটা হল এই যে, সেও তো তার প্রতিপক্ষকে হত্যা করতে চেয়েছিল। বুখারী ও মুসলিম

কোন অবস্থায় আখেরাতে ওঠানো হবে

জাবের রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেন [অর্থ]: কেয়ামতের দিন প্রতিটি বান্দাকে সেই অবস্থায়ই পুনর্জীবিত করা হবে, যে অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেছে। মুসলিম

শহীদদের মৃত্যু

বদরী সাহাবী  সাহল ইবনে হুনাইফা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: যে ব্যক্তি আল্লাহ’র নিকট সত্যিই শাহাদাতের মৃত্যু চায়, সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করলেও আল্লাহ তাকে শহীদগণের মর্যাদায় পোছিয়ে দেন। মুসলিম

অন্যায় রাগ দমন

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: যে ব্যক্তি অন্যকে ধরে আছাড় দেয় সে শক্তিশালী নয়, বরং শক্তিশালী সেই ব্যক্তি যে রাগের সময় নিজেকে সংযত রাখে। বুখারী ও মুসলিম

প্রকৃত সফল কে?

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত রাসূলে কারীম ﷺ বলেন [অর্থ]: ঐ ব্যক্তি সফল যে ইসলাম গ্রহণ করেছে, যথেষ্ট পরিমাণ রিযিক প্রাপ্ত হয়েছে এবং আল্লাহ পাক যা দান করেছেন তারই উপর সে তুষ্ট আছে। [মুসলিম]

কটু কথার প্রভাব

তরবারীর আঘাত মানুষের শরীর আহত করে, কিন্তু কটু কথা দ্বারা মানুষের অন্তর রক্তাক্ত হয়। উসমান رضي الله عنه

যেকোন কষ্টের কারণে গুনাহ মাফ

আবু সাঈদ ও আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন [অর্থ]: মুসলিম বান্দার যে কোন ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, উদ্বিগ্নতা, কষ্ট ও অস্থিরতা হোক না কেন, এমন কি কোন কাঁটা ফুটলেও তার কারণে মহান আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন । বুখারী ও মুসলিম

রাসূলে আকরাম ﷺ-এর ইস্তেগফার

আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, আমি রাসূলে আকরাম ﷺ কে বলতে শুনেছি [অর্থ]: আল্লাহ্‌’র কসম! আমি একদিনে সত্তর বারের চেয়েও বেশি তওবা করি এবং আল্লাহ’র কাছে ক্ষমা চাই। বুখারী

মুমিনের বৈশিষ্ট্য

ইবনে মাসঊদ রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]: মুমিন কাউকে বিদ্রূপ করেনা, কাউকে অভিশাপ দেয়না, সে অশ্লীলভাষী হয়না এবং বেহুদা কথাবার্তাও বলেনা। তিরমিযী

রিযিক ও হায়াতে বরকত

আনাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেন [অর্থ]: যে ব্যক্তি নিজের জীবিকা প্রশস্ত হওয়া এবং নিজের হায়াত (আয়ুষ্কাল) বৃদ্ধি হওয়া পছন্দ করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। বুখারী ও মুসলিম

মৃত ব্যক্তিরও নিন্দাবাদ অনুচিত

আয়েশা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]: মৃত ব্যক্তির নিন্দাবাদ কর না; কেননা, তারা (ভাল-মন্দ) যা কিছু আমল করেছে তা তারা (ইতিমধ্যেই) পেয়ে গেছে। বুখারী

উত্তম কে

আবু সাফওয়ান আবদুল্লাহ ইবনে বুস্‌র আসলামী রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]: (লোকদের মধ্যে) সেই ব্যক্তি উত্তম যার বয়স দীর্ঘ এবং কাজও সুন্দর। তিরমিযী

ইলম অর্জনে মুমিনের পিপাসা

আবু সাঈদ খুদরী রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]: মুমিন  দ্বীনের ইলম অর্জনে কখনো পরিতৃপ্ত হয়না (অর্থাৎ তার দ্বীনি জ্ঞানের চাহিদা মেটেনা)। অবশেষে এর সমাপ্তি ঘটে জান্নাতে। তিরমিযী

বিশেষ উপদেশ

আবু যার ও মু’আয ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: তুমি যেখানেই থাক, আল্লাহকে ভয় কর এবং অসৎ কাজ করলে তারপর সৎ কাজ কর। তাহলে সেটা মন্দ কাজকে শেষ করে দেবে। আর মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার কর। তিরমিযী

কেয়ামতের দিন নবীজী ﷺ-এর সবচেয়ে নিকটবর্তী

ইবনে মাসঊদ রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]: কেয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে সেই লোকেরা যারা আমার প্রতি সবচেয়ে বেশি দরূদ প্রেরণ করবে। তিরমিযী

আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল

আবু মূসা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]: মহান আল্লাহ দিনের পাপীদের ক্ষমা করার জন্য রাতের বেলা তাঁর (ক্ষমার) হাত প্রসারিত করে রাখেন এবং রাতের পাপীদের ক্ষমা করার জন্যে দিনের বেলা তাঁর হাত প্রসারিত করেন। পশ্চিম আকাশে সূর্যের উদয় হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এরূপই করতে থাকবেন। মুসলিম

ধন বৃদ্ধির উদ্দেশ্য ভিক্ষাবৃত্তি

আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]: যে ব্যক্তি ধন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে লোকদের কাছে ভিক্ষা চেয়ে বেড়ায়, সে মূলত জ্বলন্ত অঙ্গারই ভিক্ষা করে, তা সে অল্পই করুক কিংবা বেশিই করুক। মুসলিম

ভাল কথা সাদাকাহ

আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]:  (তোমরা ভাল কথা বল) ভাল কথা বলাও সাদকা। বুখারী ও মুসলিম

রেশমের পোশাক

আনাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]: যে (পুরুষ) ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমের পোশাক পরিধান করলো, সে আখেরাতে তা পরিধান করতে পারবে না। বুখারী ও মুসলিম

দুই নেয়ামত

ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: দু’টি নেয়ামত (আল্লাহর দান) যার ব্যাপারে বহু লোক ক্ষতিগ্রস্থ তা হচ্ছে: স্বাস্থ্য ও অবসর সময়। বুখারী

সম্পদ ব্যয়ের উপকারিতা

জাবির رضي الله عنه বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম বলেছেন [অর্থ]: মহান আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! (তুমি সম্পদ) ব্যয় কর; (তাহলে) তোমার জন্যও ব্যয় করা হবে। বুখারী ও মুসলিম

রমযানুল মুবারকে বিশেষ ব্যবস্থা

আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন [অর্থ]: রমযান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শৃংখলিত করে দেয় হয় শয়তানগুলোকে। বুখারী

মানুষের প্রতি দয়া

জারীর ইবনে আবদুল্লাহ রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ইরশাদ করেন [অর্থ]: যে ব্যক্তি মানুষকে দয়া করে না, আল্লাহও তাকে দয়া করেন না। বুখারী ও মুসলিম

জান্নাতে মেহমানদারীর ব্যবস্থা

আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেছেন, রাসূলে আকরাম বলেছেন [অর্থ]: যে ব্যক্তি সকাল বা সন্ধ্যা মসজিদে যায় আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতে সকাল বা সন্ধ্যায় মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেন। বুখারী ও মুসলিম

দৃষ্টিপাত না বরং লক্ষ্য আরোপ

আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন যে [অর্থ]: আল্লাহ্‌ তা’আলা তোমাদের চেহারা ও দেহের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না; বরং তোমাদের অন্তর ও কর্মের প্রতি লক্ষ্য আরোপ করেন। মুসলিম

জান্নাত ও জাহান্নাম জুতার ফিতার চেয়েও নিকটে

ইবনে মাসঊদ রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেন [অর্থ]: জান্নাত তোমাদের প্রত্যেকের জন্যে তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটে, আর দোযখের অবস্থানও তাই। বুখারী

প্রতিটি ভাল কাজই সাদকা

জাবির  رضي الله عنه থেকে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেছেন [অর্থ]: প্রতিটি ভাল কাজই সাদকা । বুখারী

বান্দার দোষ-ত্রুটি গোপন

আবু হুরায়রা রা.–এর বর্ণনা মতে, রাসূলে আকরাম ﷺ বলেন [অর্থ]: যে বান্দা অন্য বান্দার দোষ-ত্রুটি এ দুনিয়ায় গোপন রাখবে আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপর রাখবেন। মুসলিম 

জুম্মার দিন দুরূদ শরীফ

রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে এই তাগিদ করেছেন যেন জুমুআর দিন তাঁর (ﷺ) উপর আমরা বেশী বেশী দরূদ শরীফ পড়ি। (আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ

দুনিয়ার মূল্য

অর্থ: যদি আল্লাহ তাআ’লার নজরে এই দুনিয়ার মূল্য মশার পাখা বরাবর থাকত, তবে তিনি কোন কাফিরকে এক ফোঁটা পানি পর্যন্ত পান করতে দিতেন না। (তিরমিযী: ২৩২০)

আমলের ক্ষতিপূরণ
مَنْ نَامَ عَنْ حِزْبِهِ، أَوْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ، فَقَرَأَهُ فِيمَا بَيْنَ صَلَاةِ الْفَجْرِ، وَصَلَاةِ الظُّهْرِ، كُتِبَ لَهُ كَأَنَّمَا قَرَأَهُ مِنَ اللَّيْلِ

যে তার নির্ধারিত আমল বা তার কিছু অংশ আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে, এরপর ফজর-যোহরের মাঝে তা পড়ে নেয় তার সম্পর্কে লেখা হবে যেন সে রাতেই তা পড়েছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৪৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ৫৮১

ঈমানের মিষ্টতা

হযরত আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন (অর্থ): যে কিনা তিনটি গুণ অর্জন করবে, সে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করতে পারবে: যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ কে সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালবাসবে; কোন ব্যক্তিকে ভালবাসলে সে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালবাসে; কুফুর পরিত্যাগের পর সেই দিকে প্রত্যাবর্তন তার কাছে আগুনে ভেতর প্রবেশের সমান। [বুখারী ও মুসলিম]

ভূমিকম্পের কারণ ও তার প্রতিকার

ইবনে আবিদ্দুনিয়া রেওয়ায়ত করেছেন, মা আয়েশা রা. এর কাছে ভুমিকম্পের কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেছিলেন (অর্থ): মানুষ যখন জায়েয কাজের মত যেনা (অবৈধ যৌন কাজ) করে ও মদ খায় এবং প্রকাশ্যে গানবাজনা করে, আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত অসুন্তষ্ট হয়ে যমীনকে কাঁপতে আদেশ করেন, যেন মানুষ পাপ কাজ ত্যাগ করে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।

নির্ধারিত সময়ে আমল করতে না পারলে

যে তার নির্ধারিত আমল বা তার কিছু অংশ আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে, এরপর ফজর-যোহরের মাঝে তা পড়ে নেয় তার সম্পর্কে লেখা হবে যেন সে রাতেই তা পড়েছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৪৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ৫৮১

আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর দু’আ

শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রার্থনা–

اللهم اجعل في قلبي نورا وفي بصري نورا …

ইয়া আল্লাহ! আমার অন্তরে আলো দিন। আমার চোখে আলো দিন।

রাসূলুল্লাহﷺ কে ভালবাসা ঈমানের অংশ

আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত,  রাসূলুল্লাহ ﷺ   ইরশাদ করেন (অর্থ): সেই পবিত্র সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে বেশী প্রিয় হই । [বুখারী]

প্রতিফল নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল

উমর ইবনে খাত্তাব রা. বর্ণনা করেন (অর্থ), আমি রাসূলে আকরাম ﷺ -কে বলতে শুনেছি যে, সব কাজের প্রতিফল কেবল নিয়্যতের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তিই নিয়্যত অনুসারে তার কাজের প্রতিফল পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের (সন্তুষ্টির) জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও রাসূলের সন্তুষ্টির জন্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। পক্ষান্তরে যার হিজরত দুনিয়া অর্জন করা কিংবা কোন নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হবে, তার হিজরত সে লক্ষ্যেই নিবেদিত হবে । রিয়াদুস-সালেহীন।

দিনে-রাতে তওবার সুযোগ

আবু মূসা আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস আশ’আরী রা. রাসূলে আকরাম ﷺ থেকে বর্ণনা করেন(অর্থ) : আল্লাহ তা’আলা পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত (কেয়ামত পর্যন্ত) প্রতি রাতে তাঁর ক্ষমার হাত প্রসারিত করতে থাকবেন, যাতে করে দিনের গুনাহগার তওবা করে। আর তিনি দিনে তাঁর ক্ষমার হাত প্রসারিত করতে থাকবেন, যাতে করে রাতের গুনাহগার তওবা করে। মুসলিম, রিয়াদুসসালেহীন(১ম খন্ড)

সালাম প্রদানের আদব

যায়েদ বিন আসলাম রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন(অর্থ): সওয়ার ব্যক্তি পথচারীকে সালাম দেবে। আর যখন দলের এক ব্যক্তি সালাম করে, তা সবার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। মুয়াত্তা (দ্বিতীয় খন্ড)

দুআ করলে তিনটির একটি অবশ্যই পাবে

যায়েদ ইবনে আসলাম রা. থেকে বর্ণিত যে কোন ব্যক্তি দুআ করে, সে তিনটির একটি অবশ্যই পাবে; হয় তার দুআ কবুল হবে, অথবা প্রার্থিত বস্তু তার জন্য সঞ্চিত রাখা হবে (অর্থাৎ, বিলম্বে হলেও তা দেয়া হবে), অথবা এ দুআ তার গুনাহের কাফফারা হবে। মুয়াত্তা

ক্রোধ দমনের পুরস্কার

মু’আয ইবনে আনাস রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ প্রদর্শনের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা দমিয়ে রাখে তাকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন সব মানুষের ওপর মর্যাদা দিয়ে ডাকবেন। এমনকি তাকে তার ইচ্ছামত বড় বড় চোখ বিশিষ্ট হুর [জান্নাতের রমণী] মধ্য থেকে বেছে নেয়ার স্বাধীনতা দিবেন। আবূ দাউদ ও তিরমিযী

আল্লাহকে ভয় করা ও সৎ কাজ করতে থাকা জরুরী

আবু যার রা. ও মু’আয ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: তুমি যেখানেই থাক, আল্লাহকে ভয় কর এবং অসৎ কাজ করলে তারপর সৎকাজ কর। তাহলে সেটা মন্দ কাজকে শেষ করে দেবে । আর মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার কর । তিরমিযী

আল্লাহ তা’আলার প্রতি সুধারণা

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলে আকরাম ﷺ-কে তাঁর ইন্তেকালের মাত্র তিন দিন আগে বলতে শুনেছেন [অর্থ]: তোমাদের কেউ যেন মহিমাময় আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ না করে মৃত্যুবরণ না করে। মুসলিম

মুমিনের বিপদাপদ গুনাহ মাফের কারণ

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: মুমিন নর-নারীর জান, মাল ও সন্তানের উপর বিপদ-আপদ আসে। অবশেষে আল্লাহর সাথে সে সাক্ষাত করে এমন অবস্থায় যে, তার আর কোন গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না। তিরমিযী

শাহাদতের আন্তরিক আকাঙ্ক্ষার ফল

বদরী সাহাবী  সাহল ইবনে হুনাইফা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সত্যিই শাহাদাতের মৃত্যু চায়, সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করলেও আল্লাহ তাকে শহীদগণের মর্যাদায় পৌছিয়ে দেন। মুসলিম

প্রিয়জনের মৃত্যুকে সবর

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন [অর্থ]: আল্লাহ তাআলা বলেন [অর্থ]: যখন আমি দুনিয়া থেকে তার প্রিয়জনকে নিয়ে যাই আর এ সময় সে সবর করে, তখন আমার মুমিন বান্দার জন্য আমার কাছে জান্নাত ছাড়া আর কোন পুরস্কার নেই। বুখারী

ইখলাসের শুরু

অর্থ: তুমি আল্লাহ্ তায়ালার ইবাদত করবে এমনভাবে যেন তুমি তাকে দেখছ; আর এটা সম্ভব না হলে অন্ততপক্ষে এই ভাবনার সাথে ইবাদত করবে যে, তিনি তো তোমাকে অবশ্যই দেখছেন। বুখারী: ঈমান অধ্যায়, হাদীস নং: ৪৮; মুসলিম: ঈমান অধ্যায়, হাদীস নং: ৯