সম্ভাষণ-অভিবাদন-শুভেচ্ছা বিনিময়ে সুন্নাহ অবলম্বন জরুরি

অভিবাদন, সম্ভাষণ, অভ্যর্থনা, ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপনে মুমিন কখনো বিজাতীয় কৃষ্টি-কালচার তো নয়ই, কখনো এমন শব্দাবলীও ব্যবহার করবে না যা সুন্নত পরিপন্থী।

যে সম্ভাষণগুলো হাদীসে বা সাহাবাগণের মাধ্যমে আসেনি তা থেকে বিরত থাকা জরুরি, যদিও সেগুলি বলতে অথবা শুনতে সুন্দর শোনায়। খোদা হাফেয, জুম্মা মুবারক ইত্যাদি নানান সম্ভাষণ ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন আজ মুসলিম সমাজে প্রচলিত ও প্রচারিত হচ্ছে। এগুলোর অর্থ খারাপ নয়। কিন্তু আশঙ্কা হলো, মানুষ এগুলোকে সুন্নত বা সওয়াবের কাজ মনে করে ফেলতে পারে; যদি এমনটি করা হয় তাহলে বিদআত হয়ে যাবে, যা কিনা স্পষ্ট গোমরাহী। দুঃখজনক হলো অনেক মুসলমান ভাই-বোনেরা আজ গুড-মর্নিং. গুড-ইভিনিংকে একেবারে স্বাভাবিক, এবং নমস্কারের মতন বিজাতীয় শব্দ ব্যবহার করাকে উদারতা বলে মনে করে থাকে। তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা, ঈমানের প্রকাশ ও অভিব্যক্তি আজ ভূষণ নয়, তাদের কাছে এটি (নাউযুবিল্লাহ) লজ্জার বিষয়! অর্থ সুন্দর হলেই কোনো শব্দ ও বাক্য অভিবাদন ও সম্ভাষণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ইসলামের শিক্ষা কুরআনসুন্নাহ ভিত্তিক। এঁর বাইরে কোনকিছু ব্যবহার করা অর্থই গোমরাহী তথা পথভ্রষ্টতা। আজতো হ্যাপি নিউ ইয়ার, হ্যাপি বার্থ্-ডে আরো কত ডে বানিয়ে আমরা মনোরঞ্জনে মত্ত। এগুলো তো আমাদের জাগতিক জীবনকেই ‘হ্যাপি’ অর্থাৎ খুশি বা সুখী করতে পারছে না, আখেরাতকে কিভাবে সফল করবে?! সুন্নাহ থেকে যতই মুসলমান দূরে সরবে ততই তার সমস্যা বাড়বে, কমবে না। এসব অনর্থক, বিজাতীয় সম্ভাষণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় কেবল বাহ্যিক তৃপ্তি নিয়ে আসে; এগুলো না কোনো দোয়া, না এগুলোর মধ্যে আছে সেই আন্তরিকতা যা আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন।

আজকাল মুসলমান সমাজে দেখা যাচ্ছে রমযান কিংবা ঈদ উপলক্ষে রমযানুল মুবারক কিংবা ঈদ মুবারক বলা হয়ে থাকে। এভাবে শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেবল জায়েয বলা হয়েছে, এগুলোও সুন্নত নয়। রমযান ‘মুবারক’ তথা বরকতময় মাসই। আর সবাই নিজ দোয়ার সময়, হে আল্লাহ, এই রমযানকে আমার ও পুরা উম্মতে মুসলিমার জন্য মুবারক করে দাও — এমন বলাতে কোনো অসুবিধা নেই, যেহেতু এটি একটি নেক দোআ। নেক দোয়া এভাবে করাতে শরীয়ত নিষেধ করেনি, বরং উৎসাহিত করেছে। একইভাবে, ঈদে যে আমরা ঈদ-মুবারক বলি, এটা সুন্নত হিসেবে বলা যাবে না। এবং এটা বলা এর জবাব দেওয়া — কোনোটিকেই  জরুরি মনে করা যাবে না। মুফতীগণ শুধু বলেছেন, সাধারণভাবে এমনটি বলা জায়েয হবে। কিন্তু গণহারে জুম্মা-মুবারক, রমযানুল-মুবারক ও ঈদ-মুবারক বলতে থাকলে, বলা যায় না, কত সাধারণ মানুষ এগুলোকে দ্বীনের জরুরী অংশ বানিয়ে ফেলে! আজ এসব শব্দ, সম্ভাষণ ও অভিবাদনই যেন আমরা আমাদের দ্বীনের জরুরি অংশ বানিয়ে ফেলেছি। অথচ দিনগুলোর সত্যিকার মর্যাদা তাকওয়া ও নেক আমল দিয়ে করে দিতে হয় — এটিই ভুলে বসেছি আমরা!

সর্বদা সালাম আদান প্রদান, হাসিমুখে কথা বলা, পরস্পরের সাক্ষাতে এবং কথাবার্তায় আরো যেসব দোয়া আদান প্রদান (যেমন: জাযাকআল্লাহ, মাশাআল্লাহ ইত্যাদি) করা হয়ে থাকে — এগুলো সুন্নত। অতএব এগুলো বলার বেশি অভ্যাস ও প্রচলন করা উচিত। এতে আল্লাহ তাআলার রহমত, বরকত দিয়ে জীবন ভরে যাবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *