সফলতার জন্য হতে হবে আখেরাতমুখী

এক বুযূর্গ সুন্দর কথা বলেছেন – “দুনিয়াদার চিন্তা করবে কত বেশী আরাম-আয়েসে দুনিয়াতে থাকা যায়। পক্ষান্তরে একজন দ্বীনদার চিন্তা করবে কত সুন্দরভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া যায়।”

বাস্তবিক পক্ষেই যার উদ্দেশ্য এই দুনিয়া, তার সবই এই দুনিয়াকে ঘিরে। আর যার উদ্দেশ্য আখেরাত, তার সবই আখেরাতকে ঘিরে। অর্থাৎ, একজন দুনিয়ামুখী মানুষের সব কাজই দুনিয়ার ভিত্তিতে। আর একজন আখেরাতমুখী মানুষের সব কাজই আখেরাতের ভিত্তিতে।

একজন দুনিয়ামুখী মানুষ মৃত্যুকে সর্বদা এড়িয়ে যায়; তার আসল পরিণতিকে ভুলে থাকে । আর একজন আখেরাতমুখী মানুষ দুনিয়ার হায়াত যে সংক্ষিপ্ত, সেই কথা স্মরণ রাখে; সে সকল কাজের মধ্যে দিয়ে চিরস্থায়ী আখেরাতের প্রস্ততি নিতে থাকে। আখেরাতমুখী মানুষের সকল উদ্দেশ্যই থাকে একটি উদ্দেশ্যেরই অধীন – কি করে তার রব, আল্লাহ তাআলা-কে খুশি করা যায়(?)

এই দুনিয়া ফুরিয়ে যাচ্ছে – শেষ হয়ে আসছে। আর আখেরাতের অনন্ত জীবন ধেয়ে আসছে। নবীজি ﷺ বুদ্ধিমান বলেছেন তাকে, যে কিনা মৃত্যুর তৈরী করতে থাকে, আখেরাতের পুঁজি সংগ্রহ করে নেয় দুনিয়া থেকে বিদায়ের আগে।

এই আলোচনা মানুষ তখনই একমাত্র পছন্দ করবে না যখন সে আখেরাতের প্রস্ততির বিষয়ে গাফেল তথা বিমুখ থাকবে। অথচ বাস্তবতা এটাই যে, মানুষকে মরতে হবেই। পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট ঘোষণা:

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلا مَتَاعُ الْغُرُورِ (١٨٥

অর্থ: প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ পেতে হবে আর তোমাদের সবাইকে (তোমাদের কাজের) পুরোপুরি প্রতিদান দেওয়া হবে। তারপর যাকেই আগুন থেকে দূরে রাখা হবে ও জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই প্রকৃত অর্থে সফলকাম হবে। আর (জান্নাতের বিপরীতে) এই পার্থিব জীবন তো প্রতারণার উপকরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।

দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনটা আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য কর্মক্ষেত্র। মানুষের সফলতা আর বিফলতা নির্ভর করছে সে দুনিয়ার জীবনটাকে কিভাবে ব্যবহার করছে – তার উপর। মহাপরাক্রমশালী, অসীম কুদরতের অধিকারী – আল্লাহ তাআলা মানুষকে পুনরায় জীবিত করবেন মৃত্যুর পর। কেয়ামতের দিন আমাদের সবাইকে আল্লাহ তাআলার সামনে দাঁড়াতে হবে। দুনিয়ার জীবনের হিসাব দিতে হবে। হাদীসে আছে যে, হাশরের ময়দানে পাঁচ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে মানুষ এক কদমও নড়তে পারবে না:

১. জীবন কোন পথে ব্যয় করেছো?

২. যৌবন কোন পথে ব্যয় করেছো?

৩. কোন পথে আয় করেছো?

৪. কোন পথে খরচ করেছো?

৫. যে ইলম্ তথা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করেছো, তা কোন পথে ব্যয় করেছো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *