সতর্ক হও মুসলিম

ঈমান ও আমলের সমূহ ক্ষতি করে আজ আমরা বাস্তবতা থেকে দূরে সরে গিয়েছি; দিন দিন বাস্তবতা থেকে আমাদের দূরত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে। চিন্তা করুন এই একটি ছোট্ট উদাহরণ: একটি বছর জীবন থেকে চলে যায়, নতুন বছর আসে। এই উপলক্ষে যে ধরণের মানসিকতা পোষণ ও প্রকাশ করা হয়, তা বাস্তবতার কতটুকু কাছাকাছি? যে বছর চলে গেল তার কোন হিসাব তো নেয়াই হল না বরং অনিশ্চিত ও অনাগত ভবিষ্যতের জন্য শুধু ইতিবাচক ও স্বপ্নে-ভরা পরিকল্পনা করা হল। কোন ভয়-ভীতি নেই, নেই কোন দু’আ, শুধু মুখে জ্ঞাপন করা হচ্ছে “Happy New Year”। এই অসাড় ও সাময়িক সম্ভাষণ আমাদের কী ফায়দা দিয়েছে বা কী ফায়দা দেয়? মুসলমান তো দ্বীন-দুনিয়ার ফায়দা ছাড়া কোন কাজ করবে না!

কুরআন-সুন্নাহ আমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে ফায়দা তথা লাভের ক্ষেত্র বলে দিয়েছে।  রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর পবিত্র-জীবন উম্মতের জন্য একমাত্র আদর্শ। সময়ের পরিবর্তনে নতুন জিনিসের উদ্ভাবন হবে, নতুন নতুন অবস্থা আসবে কিন্তু কুরআন-হাদীসের কোন নবায়ন হবে না। কারণ, যত নতুনত্বই আসবে, যত কিছুই আবিষ্কার হবে, যত অবস্থার সম্মুখীন বান্দা হবে সৃষ্টিকর্তাই তা সর্বাধিক অবগত। নবীকে দেয়া জ্ঞান তিনি অপূর্ণ রাখেননি। প্রয়োজন সব জ্ঞান নবীকে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব মূলনীতি ও সমাধানের পথ বাতলানো হয়েছে। কুরআন ও হাদীস থেকে সমসাময়িক উলামাগণ যুগে যুগে সমাধান বের করে আনছেন, আনবেন – এই নির্দেশনা কুরআন ও হাদীসে রয়েছে এবং এর সীমারেখা কী তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ যারা কুরআন ও হাদীসকে অস্বীকার করে উন্নতির কথা বলে, আজ যারা উন্নতির জন্য যথেচ্ছ বিষয়াদি গ্রহণের পক্ষে কথা বলে, তারা এ দাবী করতে পারছে না যে, তাদের নিয়মনীতি, উন্নতির এই সব প্রস্তাবনা ও পদক্ষেপ কোন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বরং প্রতিটি আবিষ্কার ও নতুন উপস্থাপিত বিষয়ের উপকার ও লাভের আলোচনার পাশাপাশি ক্ষতির ফিরিস্তি রাখা হয়। অন্যদিকে, ইসলাম ভারসাম্যতার কথা বলে। নব আবিষ্কার ও নতুন উদ্ঘাটনকে কিভাবে ব্যবহার করলে তা মানবসভ্যতার জন্য চূড়ান্তভাবে উপকারী হবে সে পথ দেয়ায়। যদি কোন কিছু ইসলামে নিষিদ্ধ হয়, তা এমন যে, তাৎক্ষণিকভাবে বা অতি শীঘ্রই সে জিনিসগুলি ব্যবহারের নেতিবাচক ফলাফলও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে যায়। আসলে তো অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ মৌলিক বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা তো খোদ খোদা-প্রদত্ত! সেখানে কার নাক-গলানোর অবকাশ আছে?! ইসলাম বিদ্বেষীরা তো ইসলামকে জেনে-বুঝেই ‘ইসলাম উন্নতির পথে অন্তরায়’ এরূপ অপবাদ দেয়। আর হায় অজ্ঞ মুসলমান‍! তোমরাও এমন অপবাদ দাও তোমাদের শত্রুর অন্ধ-অনুকরণে!

এক শ্রেণী আছে অস্বীকারকারী ও হঠকারী। তারা চিরকাল অস্বীকার করবে। তাতে কী যাবে আর কীই বা আসবে! কিন্তু তাদের এই অসাড় চিন্তা-চেতনা আর উদ্ভট বিষয়কে যখন আমরা, মুসলমানগণ গ্রহণ করব, তখন কী হবে? তখন তো আল্লাহ্ তা’আলার এ জমিনে আমরা মহা কষ্ট-ক্লেশে আপতিত হব। পদে পদে আমাদের জন্য আসবে লাঞ্ছনা আর বঞ্চনা। যে অবস্থা আজ আমাদের উপর এসেই পড়েছে, আল্লাহ্ ক্ষমা করুন!

বাস্তবতা বলতে আজ বড় সংখ্যক মুসলামানও বুঝেছে পার্থিব আয়-উন্নতি আর সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা। অথচ পার্থিব জীবনে যে লাগামহীন চলার সুযোগ রয়েছে, তা অমুসলামানরা গ্রহণ করবে। মুসলমান হলেই মানুষ এক সীমানার মাঝে থাকবে। মুসলমানের শত্রুরা মুসলমানদের বোঝালো সীমানার কী দরকার?! সীমাহীন কাজ কর, সীমা ছাড়িয়ে অভিলাষ-ইচ্ছা-পরিকল্পনা কর। দেখুন কত অবাস্তব কথা! যেখানে হায়াতটাই অনিশ্চিত, সেখানে স্বপ্ন, পরিকল্পনা, আয়-উন্নতির লাগামহীন প্রচেষ্টার আহবান?! আজ যে আবদুল্লাহ আর আবদুর রাহমানরা পথে ঘাটে ফেইসবুকে বলছে happy new year – এগুলো আর কিছু নয়, ঐ সীমা অতিক্রমের অন্যতম বিষধর ফলাফল!

যদি মুসলিম পরিবারের কর্তা এই দিকে মনোযোগী না হন, তবে আরও অনেক বড় বড় ফেতনা তার সন্তান দ্বারা ও বংশ পরম্পরায় সংগঠিত হবে। আল্লাহ তা’আলার পানাহ! আল্লাহ্ তা’আলার হুকুম সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে পার্থিব জীবনেই কিন্তু অশান্তির দাবানল আমাদের ঘরে ঘরে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠছে! তা ছেয়ে গেছে ব্যক্তিগত, পারিবারিক জীবনে। তার বেদনাদায়ক চিত্র এখন দেখতে হচ্ছে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও। কিন্তু আফসোস, আমাদের সম্বিৎ হবে কবে!?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *