শেষ দশক: কী পেলাম, কী হারালাম?

আল্লাহ তাআলার কোন নেয়ামত ক্ষুদ্র নয়। কোন নেয়ামতকে ক্ষুদ্র মনে করা ঠিক নয়। আলহামদুলিল্লাহ, কোন মুসলমান আল্লাহ তাআলার নেয়ামতসমূহকে ক্ষুদ্র মনে করে না। কিন্তু কখনো কখনো গাফলতের কারণে, লক্ষ না করার কারণে প্রাপ্ত নেয়ামতের কথা আমরা ভুলে যাই, নেয়ামতের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না, তাই শুকরিয়াও আদায় হয় না…

সেজন্যই তো সাধারণভাবে হলেও সবসময় আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের শুকরিয়া করা উচিত। দাউদ আলাইহিসসালাম আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে করতে এক পর্যায়ে চিন্তা করলেন যে, হায়! এই যে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি…এর উপরও তাঁর পৃথক শুকরিয়া আদায় করা উচিত। কারণ শুকরিয়া আদায়ের তৌফিকটাও আল্লাহ তাআলাই আমাকে দিয়েছেন!

আর বাস্তবিকই যখন ‘নেয়ামত হাতছাড়া হলে বোঝা যায় কী হারালাম’ তখন আর শুধু হা-হুতাশ করে কী লাভ!? কখনো তো হা-হুতাশেরও সময় থাকে না।

আমরা হাতছাড়া করি, প্রতিদিন প্রতি ক্ষণ আর প্রতি ‘মুহুর্ত’কে হাতছাড়া করছি। কিন্তু অনুভুতি নেই যেন। এত অমূল্য সময়…এতটাই অবহেলায় হারাচ্ছি, তারপরও কোন আফসোস নেই, নেই অনুশোচনা ও সংশোধন। পূর্ব যুগের মানুষ, আমাদের যাঁরা পূর্বসুরী ও গৌরব – উনাদের জীবনচরিত পাঠ করলে তো হতভম্ব হতে হয় এবং এখনও আল্লাহর অমন বান্দারা আছেন।

আমরা ভাল না হওয়ার কারণে মনে করছি ‘এখন’ আর ‘অমন’ ভাল মানুষ নাই। বরং সবসময় এটাই ধারণা থাকা উচিত যে, আমার মতন খারাপ মানুষ আর নাই।

যাহোক… রমযান তো প্রায় শেষ! আখেরাতের জন্য কে কী জমা করলাম? আল্লাহর কাছে আমার আমল পেশ হচ্ছে…আমার কী অবস্থা? কুরআনের মতন নেয়ামত, রমযানের মতন নেয়ামত, রহমত, মাগফেরাত আর নাজাতের মতন নেয়ামত – এগুলো তো বিশেষ নেয়ামত। যার একটা হাসিল হলেই দুনিয়া ও আখেরাত সফল!

আমার অবস্থা কী? কী পেলাম, কী হারালাম? এ চিন্তাটুকু করে এ শেষ সময়টিতে তওবা ও ইস্তেগফারে ডুবে যাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *