শীঘ্রই নেয়ামতের মূল্য বুঝে আসবে

নেয়ামত থাকতে নেয়ামতের কদর করতে হবে। আজ সুস্থ আছি। হাত, পা, চোখ, কান, নাক, মুখ, মস্তিষ্ক – সব সচল আছে। এখনি তো বেশী বেশী তেলাওয়াতে কুরআনের সময়। এখনি তো বেশী বেশী নফল নামায, নফল রোযা, তাসবীহ-তাহলীল্ করব, এখনি তো দান সদকা, মানুষের উপকার ইত্যাদি যত নেক কাজ আছে – সেগুলিতে হব বেশী বেগবান।

মন অবশ্য চাবে না। মন দুনিয়ার অপ্রয়োজনীয় কাজে আর গুনাহের কাজে বাঁধা দেবে না। প্রবৃত্তির স্বভাবই তা-ই। কিন্তু সফলতা হলো প্রবৃত্তির দমনে। শান্তি হলো – মনের বিপরীত চলায়, মনের বিরুদ্ধাচরণে। প্রিয় নবীজী ﷺ তো এজন্যই হুশিয়ার করেছেন (অর্থ): বুদ্ধিমান সে-ই যে তার প্রবৃত্তিকে দমন করে, মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

আমরা কবে বুঝব? কবে আমাদের হুঁশ হবে? যৌবন পার হয়ে বৃদ্ধ হয়ে গেলে (অর্থাৎ, যদি সেই হায়াত পাই), তখন? নাকি মৃত্যুর পর?

অনেক মানুষের সময় শেষ হয়ে গেছে। তারা আজ কবরে। আলমে বারযাখে – কবর জগতে। তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে দুনিয়া আর আখেরাতের পার্থক্য। কবরস্থানে গেলে তাই-তো পড়তে বলা আছে (কবর যিয়ারতের একটি দু’আ):

السلام عليكم أهل الديار من المؤمنين والمسلمين وإنا إن شاء الله للاحقون أسأل الله لنا ولكم العافية (صحيح مسلم2302)

অর্থ: শান্তি বর্ষিত হোক ও কবরবাসি, তোমাদের উপর এবং তাদের উপর যারা আল্লাহ তাআলার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। ইনশাআল্লাহ নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের অনুগামী। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে নিজেদের ও তোমাদের জন্য “আ’ফিয়াত” (শান্তি, নিরাপত্তা) চাই। (মুসলিম শরীফ: ২৩০২)

(আমাদের যাওয়ার সময়-ও নিকটবর্তী; জীবিতরা তখন আমাদের কবর দেখে এই দু’আ পড়বে)

প্রিয় নবীজি ﷺ যে চমৎকার ও শিক্ষণীয় দু’আ গুলি আমাদের শিখিয়েছেন, সেগুলি আমাদের পড়া উচিত, কখনো কখনো অর্থের উপর চিন্তা-ফিকির করা উচিত। আসলেই এগুলির মধ্যে আমাদের জন্য অমূল্য নসিহত তথা উপদেশ লুকায়িত রয়েছে। প্রকৃত অনুসন্ধানীদের জন্য, যারা আল্লাহ তাআলার পথে হেদায়াত কে সন্ধান করে, তাঁদের জন্য লুকায়িত রয়েছে অফুরন্ত আলো!

হায় মুসলমান! আমরা আজ সপ্তাহে এরকম এক-দুইটা দু’আ-ও যদি মুখস্থ করতাম!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *