শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয় – ৩

দেখুন, সাধারণত কেউ অসুস্থ হলে নিজ বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে উদ্দেশহীন-ভাবে অতিরিক্ত ঔষধ খায় না বা সজ্ঞানে বেশি মাত্রার ঔষধ খেয়ে ফেলে না। বিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াই সুস্থ বিবেকের দাবী। কিন্তু যেটা পূর্বে বলা হয়েছে, জাগতিক কাজে এতটুকু চিন্তা-চেতনা ধারণ করলেও দ্বীনি ক্ষেত্রে আমাদের বুদ্ধি যেন একটু বেশিই অগ্রসর হয় – সীমা অতিক্রম করে যায়; মন এই বলে, সেই বলে। শবে বরাতে বা এ জাতীয় কোন উপলক্ষে, অনেক ভাইকে হঠাৎ করেই খুব নফল নামাজ পড়তে দেখা যায়, অথচ সারা বছর ফরয নামাজ থেকে তারা সম্পূর্ণ গাফেল! এ রাত উপলক্ষে মনগড়া ভাবে নির্দিষ্ট সূরা দিয়েও নামাজ পড়তে দেখা যায়। তাতে আপত্তি তোলা হলে বলা হয় ‘বেশি পড়লে কি কোন অসুবিধা আছে নাকি, আমি তো নামাযই পড়লাম..!?’

প্রিয় ভাই-বোনেরা, দ্বীন মনগড়া কোন কাজের নাম নয়। আল্লাহ তা’আলার যখন-যেখানেযেমন হুকুম – সেটা জেনে নিয়ে তা মানার নাম হল দ্বীন। শবে বরাতে আমাদের সবার উচিত বাসায় বসে কুরআন তেলাওয়াত করা, তাসবীহ-তাহলীল করা, নফল নামায (দু’রাকআত করে যত ইচ্ছা) পড়া, দরূদ শরীফ পড়া, তওবা-ইস্তেগফার করা ও মন-প্রাণ খুলে দু’আ করা। আমরা বছরের একটি দিন/একটি রাত আল্লাহর ইবাদতের জন্য আদিষ্ট হইনি। আদিষ্ট হয়েছি সারাজীবন আল্লাহর ইবাদত করতে। আর সারা বছর ফরযকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নফলে একদিন ডুবে থাকা যে সুস্পষ্ট ধোঁকা – সেটা তো বলাই বাহুল্য! সঠিকভাবে আমল করা জরুরী। এতেই ফায়দা ও সফলতা।

আর যদি বিষয়টি এমন হয় যে, শবে বরাতে কারো এই বোধোদয় হয় – হায়! আমি সারা জীবন করলাম কী?! ফরয নামায ছেড়েছি, কত রোযা ছেড়েছি, জীবনে কত নাফরমানি আমার দ্বারা হয়েছে আর হচ্ছে! অতএব আমার তো তওবা করা উচিত। এটা অবশ্যই উত্তম অবস্থা। এঁর কদর করা উচিত। তওবা তো সবসময় যথাশীঘ্রই করা উচিত। শবে বরাত সব বান্দার জন্যই গুনাহ থেকে তওবার সুবর্ণ সুযোগ। এ সময়ে খাঁটি অন্তরে তওবা করে জীবন আরো বেশি আল্লাহ-মুখী করা সবারই উচিত। আর যেহেতু রমযান অতি নিকটে, হায়াত ও তৌফিক পেলে, তওবার উপর অবিচল থাকাটা আরো সহজ! আল্লাহ তাআলা আপন রহমতে আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন! আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *