রমযানুল মুবারকের প্রভাব কাজে লাগানোর সুবর্ণ সুযোগ

পবিত্র কুরআনের মাস অতিবাহিত হওয়ার পর প্রত্যেক ঈমানদারের অন্তরে কুরআন তেলাওয়াত ও তাঁর আমলের সবিশেষ আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। এটি খুবই স্বাভাবিক। অনেকে নতুন করে চিন্তা করতে থাকে কিভাবে তেলাওয়াত ও আমল বৃদ্ধি করা যায়। অনেকেই সূরা বা বাছাই করা আয়াতসমূহ মুখস্থ করার কথাও ভাবে মাশাআল্লাহ।

আর এখন এমনই একটি সময় যখন রমযানের পবিত্র প্রভাবটি কিছুটা হলেও রয়ে গেছে (কারণ রমযান সমাপ্ত হয়েছে মাত্র)। এই সুযোগটিকে যারা কাজে লাগায় তারা কুরআনুল কারীমের বিষয়ে যত্নবান তো হয়ই, নিয়মতান্ত্রিকভাবে কুরআনের প্রতি মনোনিবেশ করে। আর এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো আলামত। নেয়ামতকে পেয়ে শোকর আদায়ের চেষ্টা করার একটি প্রমাণও বটে। চলুন আমরাও এমন সৌভাগ্যবান হওয়ার প্রচেষ্টায় পিছপা না থাকি ইনশাআল্লাহ!

যারা রমযানে আফসোস করছিলাম আমার তেলাওয়াত শেখা হচ্ছে না, তারা শীঘ্রই শেখা শুরু করি ইনশাআল্লাহ। যারা তেলাওয়াত শিখেও রুটিন করে নিয়মিত তেলাওয়াত করতাম না — তারা দৈনিক তেলাওয়াতের রুটিন করে তেলাওয়াত করতে থাকি ইনশাআল্লাহ।

হাদীসে আছে:

الصِّيام والقرآن يشفعان للعبد يوم القيامة يقول الصيام أي ربِّ منعته الطعام والشَّهوة فشفعني فيه ويقول القرآن منعته النَّوم بالليل فشفعني فيه قال فيشفعان

অর্থ: রোযা ও কুরআন ব্যক্তির পক্ষে কেয়ামতের দিন সুপারিশ করবে। রোযা বলবে: হে রব! আমি তাকে খাওয়া ও জৈবিক চাহিদা মেটানো থেকে বিরত রেখেছি তাই তার পক্ষে আমার সুপারিশ তুমি কবুল কর! কুরআন বলবে: আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি তাই আমার তার পক্ষে আমার সুপারিশ তুমি কবুল কর! তাদের সুপারিশ গৃহীত হবে। মুসনাদ আহমাদ

হাদীসে আরও আছে (অর্থ): কুরআন এক সুপারিশকারী  ও বিতর্ককারী যার সুপারিশ ও বিতর্ক গৃহীত হবে। যে কুরআনকে তার সম্মুখে রাখবে, কুরআন তাকে জান্নাতে পৌঁছে দেবে আর যে কুরআনকে পেছনে রাখবে তা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। ইবনে হিব্বান  

একটি হাদীসের শুরুর অংশ:

اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لأَصْحَابِهِ

অর্থ: কুরআন তেলাওয়াত কর কেননা তা কেয়ামতের দিন তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হবে। মুসলিম

একজন মুমিনের জন্য, কুরআনুল কারীম তাজবীদের সঙ্গে তেলাওয়াত না শিখে কবরে যাওয়ার থেকে দুর্ভাগ্যের আর কী হতে পারে?! তেলাওয়াত সঠিকভাবে শেখা তো কুরআনুল কারীমের সঙ্গে সুসম্পর্কের প্রথম ধাপ। আর কুরআনুল কারীম আল্লাহ তাআলার কালাম (কথা)। কুরআনুল কারীমের সঙ্গে সুসম্পর্ক করার অর্থ হল আল্লাহ তাআলার সঙ্গেই সুসম্পর্ক করা। শ্রেষ্ঠ ইবাদত সালাত বা নামায তো শুদ্ধ তেলাওয়াত ব্যতীত শুদ্ধই হবে না! কিন্তু আমাদের গাফিলতির অন্ত নেই। আমরা সব কাজের জন্য পৃথক সময় ব্যয় করে ফেলি, কিন্তু সঠিকভাবে কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত শেখার জন্য কিছু সময় বের করতে পারি না! আল্লাহ তাআলার সামনে এর কী জবাব হবে?

অতএব, আজই প্রত্যেকে নিজ অবস্থা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করি যেন তেলাওয়াতে কুরআনে আর অবহেলা না হয়!

Leave a Reply

Your email address will not be published.