রমযানুল মুবারক: নিজের জন্য বিশেষ পুঁজি সংগ্রহের সময়

বছরে বার মাসের মধ্যে মাত্র একটি মাস আল্লাহ পাক আমাদের কাছে বিশেষভাবে চাইলেন। সেটাও যদি আমরা অবহেলা করি, কেমন হয় বলুন? সাধ্যমতন আমরা এ মাসে তাঁর নাফরমানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেই। ইনশাআল্লাহ সারাজীবন সেটার বরকত পাব!

একটি মাস অসৎ সঙ্গদের থেকে সম্পূর্ণ ছুটি চেয়ে নেই। দেখবেন কত আত্মিক প্রশান্তি!

এই একটি মাস দুআ’র মধ্যে আর আখেরাতের চিন্তায় বেশি মগ্ন হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। মৃত্যুকে খুব স্মরণ করা উচিত। এতে বাস্তবতা সামনে আসবে। বাস্তবতা যত সামনে আসবে তত বেশি নেক কাজে মনোনিবেশ করা সহজ হবে। কারণ আমরা তখন আল্লাহ পাকের বিশেষ সান্নিধ্য ও রহমত প্রাপ্ত হব ইনশাআল্লাহ!

রমযান হল কুরআনের মাস। এ মাসে কুরআন থেকে দূরে থাকা মানে বাকি সময়ও কুরআন থেকে বঞ্চিত থাকার আশঙ্কা! এটা একজন মুমিন ভাবতেই পারে না। বেশি থেকে বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা এ মাসের অন্যতম আমল। আজ আফসোসের সাথে বলতে হয় যে, জীবনের উল্লেখযোগ্য সময়তো বটেই – রমযানের পর রমযান চলে যায়, কিন্তু কুরআন পড়ার শিক্ষা অমাদের ভাগ্যে জুটে না! এটা নিজের উপর বড় জুলুম। অনেক বড় বঞ্চনা। আমরা আজ এবং এখনই এ ব্যাপারে সজাগ হই। যেকোন অবস্থায় মৃত্যুর ছোবল চলে আসবে!

পবিত্র রমযানে আরেকটি সুমহান আমল হল তারাবীহ। খতম তারাবীহ এক বিশেষ নেয়ামত। যদি পড়তে খুব বেশি কষ্ট হয় – একাকী সূরা তারাবীহ পড়ব ইনশাআল্লাহ। তবু আল্লাহ পাককে এতগুলো সেজদা কম করব না, যেটা অন্য সময় ভাগ্যে জুটবে না। তারাবীহ পুরোপুরি ত্যাগ করব না।

…আর রোযা তো রাখবই ইনশাআল্লাহ। জবান ও নজরের হেফাজতের সাথে রোযা রাখব।

এ মাসে অন্যের প্রতি এহসানকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি করব ইনশাআল্লাহ। সাধারণত যেটা হয়ে থাকে যে, আমরা বান্দার হকগুলো ভুলে যাই। অথচ তা আল্লাহ তাআলা’রই বেঁধে দেয়া। এ মাসে দান-সাদাকা, আচার-আচরণের ব্যাপারে আরো উন্নতির প্রয়াস চালাব ইনশাআল্লাহ।

চেষ্টার মাধ্যমে বান্দা সফল হবে। জাগতিক চেষ্টার জন্য এগারটি মাস কত দৌড়-ঝাপ করা হয়ে থাকে! আর রমযান এলে যদি সেই একই দিকে দৌড়-ঝাপ করা হয় (বরং আজ অবস্থা হল, রমযানে দুনিয়ার দৌড়-ঝাপ আমরা আরো বাড়িয়ে দেই!! – আল্লাহ’র পানাহ) তাহলে নিজের উপর এর চেয়ে বড় জুলুম আর কী হতে পারে?! প্রিয় রাসূল ﷺ এর সেই সতর্কবাণী কি আমরা বেমালুম ভুলে বসেছি? তিনি কি এমন দুআ করেননি — যে কিনা রমযান পেল আর নিজের মাগফেরাত করিয়ে নিতে পারল না, সে ধ্বংস হোক! আল্লাহ পাকে আমাদের হেফাজত করুন। আমীন।

হে আল্লাহ! রহমত, বরকত, মাগফেরাত আর নাজাত তো চাই-ই, তোমার ভালোবাসা ভরা জীবন চাই! তোমার প্রিয় রাসূল ﷺ এর সান্নিধ্য চাই জান্নাতে! আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *