যাদের অনুসরণ করা হবে, তাদের সাথেই হাশর হবে

بســــــــم الله الرحمن الرحيم

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَتَّخِذُواْ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاء بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللّهَ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

অর্থ: মুমিনগণ! ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা নিজেরাই একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদেরকে বন্ধু বানাবে, সে তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা’আলা যালেমদের হেদায়াত দেননা। সূরা মায়ি’দা: ৫১

 

إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُواْ الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاَةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ

অর্থ: হে মুসলিমগণ! তোমাদের বন্ধু তো কেবল আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ, যারা আল্লাহ্ তা’আলার সামনে বিনীত হয়ে সালাত আদায় করে ও যাকাত দেয়। সূরা মায়ি’দা: ৫৫

 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَوَلَّوْا قَوْمًا غَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ قَدْ يَئِسُوا مِنَ الْآخِرَةِ كَمَا يَئِسَ الْكُفَّارُ مِنْ أَصْحَابِ الْقُبُورِ

অর্থ: হে মুমিনগণ! আল্লাহ্ তা’আলা যাদের প্রতি ক্রুদ্ধ, তোমরা সে সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করো না। তারা আখেরাত সম্পর্কে হতাশ হয়ে গেছে। যেমন কাফেরগণ কবরে দাফন-কৃত লোকদের সম্পর্কে হতাশ। সূরা মুমতাহিনা: ১৩

যত্নসহকারে যে বিষয়গুলি থেকে বাঁচা দরকার, তার মধ্যে অন্যতম হল বিজাতীদের (ইসলাম ছাড়া অন্য সব ধর্মের মতাদর্শ বা পথ) অনুসরণ-অনুকরণ। যে মুমিন এমন কথাকে বিশ্বাসের মধ্যে স্থান দেবে যে, বিজাতীয়দের ভাল জিনিসতো নেয়া দরকার, তাতে বাঁধা কোথায়(!?) অথবা, বিজাতীয়দের অনুসরণের প্রতি এতোটা বাঁকা দৃষ্টি কি ইসলাম দিয়েছে নাকি(!?) ইত্যাদি… – তাকে শুধু এতটুকুই অনুরোধ, ইসলাম কী ও কেন – এটি ভালো করে জেনে নিন। নিজের ঈমান ও আকীদাকে পরিশুদ্ধ করে নিন; এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী, সেটা শ্রদ্ধেয় উলামাগণের কাছে থেকে জেনে নিন। ইনশাআল্লাহ এসব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন, মনের সব দ্বিধা দূর হয়ে যাবে।

ইসলামের মতন কোন ধর্মই নয়। কারণ ইসলাম আল্লাহ তাআলার মনোনীত। তাই ইসলামের বিধান পূর্ণাঙ্গ আর অপরিবর্তনীয়। অবস্থা, সময় – সবকিছুর পরিবর্তনের মাঝেও ইসলামের মৌলিক নীতিমালা অপরিবর্তনশীল।

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে বিশ্বাস করেছে, অথচ তাঁর বিধানকে মনে প্রাণে মেনে নেয়নি, সেই ব্যক্তির ঈমানও প্রশ্নবিদ্ধ। আজতো ইসলামের শত্রুদের পথ ও পন্থাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বিজাতীয় কৃষ্টি কালচারকে সভ্যতার নাম দিয়ে অজ্ঞতাবশতঃ মুসলমান নামের ভাই-বোনেরা তার উপর আমল করে। পৈত্রিক সূত্রে ঈমান লাভ হলেই তো আর ঈমানকে জীবনে ধরে রাখা যায় না! মৌলিক বিশ্বাস, আমল-আখলাক — যাদেরটা আমি গ্রহণ করবো, আমি তো তাদেরই নিকটবর্তী হব।

মানুষ যে মনীষীদের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা স্থাপন করে, সেটা কিসের ভিত্তিতে হয়ে থাকে? এই সব সম্পর্ক মূলত: তাদের প্রতি বিশেষ ভালোবাসা ও দুর্বলতা হেতুই হয়ে থাকে। এই ভালোবাসা ও দুর্বলতার মূল হেতু হলো তাদের শিক্ষা-দীক্ষা গ্রহণ, তাদের প্রতি আস্থা-বিশ্বাস স্থাপন, তাদের অথবা তাদের নিকটবর্তীদের সঙ্গ-লাভ।

কেউ মুমিন বলে দাবী করে যদি অমুসলিম কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানীদের, নেতাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রাখে, তার কাছে কি কুরআন ও সুন্নাহর ভালোবাসা পূর্ণমাত্রায় থাকা সম্ভব? কখনোই নয়। অমুসলিম মনীষী ও ব্যক্তিবর্গ যদি কারো অন্তরের বিশ্বাস ও ভালোবাসা প্রভাবিত করতে পারে তাহলে অবশ্যই  তার ঈমানের দাবী প্রশ্নবিদ্ধ।

মূল কথা অমুসলমানদের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করা, তাদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বা লেনদেন করা ইত্যাদি এক বিষয়। আর তাদের জীবনকে অনুসরণীয় করা, তাদের চালচলনকে বরণ করে নিয়ে সেগুলিকে নিজ জীবনের অভ্যাস হিসেবে গড়ে তোলা ও তাদের শিক্ষাদীক্ষা ও বিশ্বাসের প্রতি আন্তরিক দুর্বলতা ও চর্চা — সবই ভিন্ন একটি ব্যাপার। নিঃসন্দেহে শেষোক্ত অবস্থা ঈমানকে ধ্বংস করারই মাধ্যম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এটি থেকে আমরা মসুলমানগণ বৃহত্তরভাবে অনেক বেশি গাফেল ও উদাসীন। অবস্থা তো এতটাই আশঙ্কাজনকে যে, আমাদের অনেকের চাল-চলন, বেশ-ভূষা হঠাৎ করে দেখলে তাদেরকে মুসলমান বলেই মনে হয় না! একেবারে খালি চোখে যেটি দৃশ্যমান — বৃহৎ সংখ্যক মুসলমানদের বিয়ে-শাদী, মৃত্যু ইত্যাদি কেন্দ্রিক আচারণ-অনুষ্ঠান  ও আরো সব সামাজিক কার্যক্রমে অনেকাংশই আজ অমুসলিমদের অনুসরণ চলছে। এসব দেখলে রীতিমতন চিন্তিত হতে হয় যে, একজন মুসলিম এ জাতীয় কাজকে কিভাবে প্রশ্রয় দিতে পারে?! আল্লাহ তাআলার কাছে আমরা পানাহ চাই।

হাদীসের ভাষ্য খু্‌বই পরিষ্কার। যার সাথে যার মিল হবে সে তার সাথেই থাকবে, তাদের কেয়ামত, হাশর, শেষ পরিণতি সবই একরকম হবে। আমরা যেন আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল ﷺ এর বিধানকে আঁকড়ে ধরে রাখি। আমাদের জীবনের সবগুলো দিক যেন কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সজ্জিত হয়। এ চেষ্টা আজীবন অব্যাহত রাখতে হবে। নিজেকে বাহ্যিক-অভ্যন্তরীণ উভয়ভাবেই একজন মুমিন, সর্বোপরি একজন মুসলমান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। হে আল্লাহ, তুমি আমাদেরকে তৌফিক দান করো! আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *