জীবন কি গড়ছে না ভাঙছে

মানুষের জীবন মিটিয়ে দেয়ার জন্যই। কোন না কোন ভাবে মানুষ তার জীবনকে মিটিয়ে দিচ্ছে, অর্থাৎ ধ্বংস করছে। জীবন নিঃশেষ হচ্ছে। গতকাল আপনার বয়স একদিন কম ছিল, আজ এক দিন বেড়েছে। অর্থাৎ, জীবন আরো একদিন বেশি নিঃশেষ হল। তাই বয়স বাড়লেও, হায়াত কমছে। প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস, পদচারণ, কথাবার্তা, চাহনি আসলে নিঃশেষরই আলামত বা চিহ্ন। কত মূর্খ আমরা যে, পার্থিব আয়-উন্নতির লাগামহীন চিন্তা করতে থাকি! যশ-খ্যাতি-সম্পদ অর্জনেই শুধু রাত-দিন প্রতিযোগিতা করি। আসলে যেই ঘাম ঝরাচ্ছি তা যখন কেবলই ভাঙার জন্য ব্যয় হয় তখন আর সত্যিকার লাভ কতটুকু?
আমরা চিন্তা করি এভাবে যে, বাড়ী হলে শান্তি আসবে। কেউ মনে করি, গাড়ী হলেই সুখ মিলবে। এভাবে এক এক বিষয়কে আমাদের তরফ থেকে নির্ধারণ করে নেয়া হয়। এগুলোর জন্য আগ্রহ ও চেষ্টা থাকা তো ঠিক আছে। কিন্তু এগুলোকেই যদি মনে করা হয় চূড়ান্ত শান্তির সোপান তাহলে সেটা কি ঠিক হল? একটু চিন্তা করা প্রয়োজন যে, এই সবকিছুর বাস্তব অবস্থা ও পরিণতি আসলে কী। এগুলোর মাধ্যমে অর্জিত আরাম আয়েশ কতক্ষণ থাকবে আর এগুলির শেষ পরিণতি কী হবে?
…..এ বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া কি বোকামি নয়?
এক হল মানুষ বস্তু দ্বারা নিজেকে, নিজের জীবনকে সুসজ্জিত করল। আর আরেক হল, মানুষ নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করল যেন জগত তার মাধ্যমে সুসজ্জিত হয়।
সত্য এবং বাস্তবতা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখলে যেটা হয় তা হল, সুসজ্জা গ্রহণের মাধ্যমে হোক আর দানের মাধ্যমেই হোক, জীবন কেবল ধ্বংসই হতে থাকে। শুধু ভাঙতে থাকে। জীবন গড়ে না। এরূপ জীবনের মৃত্যু মানে তখন বাস্তবিকই মৃত্যু। বরং, এমন জীবনের মৃত্যু অর্থ তখন ‘ব্যর্থ হয়ে যাওয়া’। কেউ মৃত্যু বরণ করল মানে হল ‘ব্যর্থতা বরণ করল’! কারণ, সে জীবনের ফলাফল হয়েছে অসফল, ব্যর্থ, অনুত্তীর্ণ, ফেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *