মানুষ নেক তৌফিক থেকে বঞ্চিত হয় কখন – ১

শাক্বীক বিন ইব্রাহীম রহ. (ইন্তেকাল: ১৯৩ হিজরী) একজন তাবে-তাবেঈন ছিলেন।আমরা জানি যে, রাসূলে কারীম ﷺ -এর থেকে তিন যুগ পর্যন্ত (প্রায় তিনশত বছর) খায়রুল ক্বুরুন। আর সেই ‘খায়রুল ক্বুরুন’ বা শ্রেষ্ঠ তিন যুগের একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি শাক্বীক বিন ইব্রাহীম রহ.। তিনি তাবেঈনগণের সঙ্গ দ্বারা সৌভাগ্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অন্যতম। তাঁকে কেউ প্রশ্ন করেছিল: হযরত! কি জিনিস মানুষকে নেক তৌফিক (ভাল কাজ করা/দ্বীন-দুনিয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা) থেকে বঞ্চিত করে দেয়? হযরত রহ. জবাবে বলেছিলেন*, এমন জিনিস (প্রধানত:) ছয়টি। প্রথমটি হল, নে’আমতের না-শোকর করা, অর্থাৎ, মানুষ যদি প্রাপ্ত নে’আমতের না-শোকর করে, সে নেক তৌফিক থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়।

নে’আমতের না-শোকর বড়ই দুর্ভাগ্যের বিষয়। যদি একজন বান্দা অন্য বান্দার উপকারের না-শোকরি করে, তাহলে যেকোন সাধারণ বিবেকই প্রথম ব্যক্তিকে ভর্ৎসনা করবে। আর যদি মহামহিম-কারীম যে রব, তাঁর না-শোকরি করা হয় তাহলে সেটা কত বড় দুর্ভাগ্যজনক, কত ন্যক্কারজনক! এ সম্পর্কে স্বয়ং কুরআন মাজীদই বলছে (অর্থ), …যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে আমার শাস্তি বড়ই কঠোর। সূরা ইব্রাহীম: ৭। এঁর ব্যাখ্যায় তাফসীরে উসমানির লেখক লেখেন: বর্তমান নে’আমত কেড়ে নেয়া হবে, আর  না-শোকরির (অকৃতজ্ঞতার) শাস্তি ভিন্ন থাকবে।

মুখে আলহামদুলিল্লাহ বলেই শোকরের সবকিছু পূর্ণ হয়ে গেছে মনে করা চরম এক নির্বুদ্ধিতা ও ইচ্ছাকৃত শুধুই এমনটা করা হঠকারিতা। কথা ও কাজে মিল থাকতে হবে। প্রতিটি শ্বাসে ও মুহূর্তে আল্লাহ তাআলার যে অজস্র ও অসংখ্য নে’আমত আমরা ভোগ করছি, সেগুলোর সত্যিকার শোকর কি কোনদিন আদায় সম্ভব?! না, কখনোই নয়। কিন্তু সাধ্য অনুযায়ী তো সম্ভব এবং বান্দা আদিষ্ট তার জন্যই। যখন নামাজের সময় হবে তখন তো নামাজই পড়তে হবে। যখন গুনাহের আহবান সামনে আসবে তখন সেটা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল ﷺ যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা শিরোধার্য – মেনে নিতেই হবে। যদি এর বিপরীতে মনকেই প্রশ্রয় দেয়া হয়, তাহলে আর শোকর হল কোথায়? ঈমানের আলো পেয়েও যে কিনা সেই অনুযায়ী চলে না, তার মতন হতভাগ্য আর কে?
চলবে ইনশাআল্লাহ

———————————————————————–
* এই ছয়টিই কুরআন ও হাদীস থেকে চয়নকৃত। আমাদের সালাফ (পূর্বসূরিগণ) কখনোই এঁর বাইরে কথা বলতেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *