মানুষ নেক তৌফিক থেকে বঞ্চিত হয় কখন – ৪

আলোচনা চলছিল নেক কাজ থেকে বঞ্চিত থাকার চতুর্থ কারণ তওবা করতে বিলম্ব করা নিয়ে:​
আল্লাহ তাআলা আমাদের ঈমান দান করেছেন। আবার মুসলমানদের মাঝে কত নেক মানুষের সাথে চলার সুযোগ দিয়েছেন। তারপরও গুনাহ হলে তওবা করতে কেন এত বিলম্ব ও গাফলতি করছি আমরা? এর পরিণতি কি আমাদের অজানা?
যারা জানে ও বিশ্বাস করে, অর্থাৎ ঈমান এনেছে, তারা কি আর তাদের মতন – যারা জেনেও বিশ্বাস করছে না, অর্থাৎ, ঈমান আনছে না?
ক্রমাগত গুনাহ দ্বারা রিযিকের বরকত কমে যায়, অন্তর ও শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। জীবনীশক্তি হ্রাস পায়। কাজকর্মে উৎসাহ-উদ্দীপনা কমে যায়। নেক মানুষের সাথে সম্পর্ক কমে যায়। খারাপ মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। ভাল কথা, ভাল কাজ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশি এমন কি বন্ধু-বান্ধবের সাথে তিক্ততা তৈরি হয়। মনে শান্তি থাকে না। মৃত্যুর কথা স্মরণ হলে শুধু ভয় হয়। আখেরাতের আলোচনা থেকে বিমুখ হয়। যদি জীবনের দীর্ঘ সময় মানুষ আল্লাহ থেকে গাফেল থাকে, তার শেষ পরিণতি হুমকির মধ্যে পড়ে যায়।
কেউ জন্মের সাথে সাথে ঈমান পেল, অথচ ঈমানবিহীন অবস্থায় সে দুনিয়া থেকে বিদায় নিল – তার চেয়ে হতভাগ্য আর কে?!

মুমিন সাধারণভাবে তো সবসময় তওবা-ইস্তেগফার করবেই। গুনাহ হয়ে গেলে অনতিবিলম্বে সে তওবা করে নেবে।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর নাম কোন মুসলমান জানে না? এই ফকীহ্ সাহাবীকে কেউ যখন জিজ্ঞেস করল, হযরত! কেউ গুনাহ্ করে ফেলল, ক্ষমার সুযোগ আছে? প্রশ্ন শুনে সাহাবী প্রথমে উনার চেহারা এক পাশে ফেরালেন। তারপর ঐ ব্যক্তির দিকে তাকালেন। তখন ইবনে মাসউদ রা.-এর চোখ অশ্রুসিক্ত। বললেন, হাঁ! দুই সময় আসার আগ পর্যন্ত তওবার দরজা খোলা। মৃত্যু আসার পূর্বে ও সূর্য পশ্চিম দিকে উঠার আগে (কেয়ামতের আগে) তওবা করে নিলে গুনাহ মাফ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

শাক্বীক বিন ইব্রাহীম রহ. কে আল্লাহ তাআলা উত্তম বিনিময় দিন। কত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ করিয়েছেন! আমাদের হায়াত শেষ হয়ে আসছে। তওবাকে ত্বরান্বিত করা জরুরী। তওবা শীঘ্রই করে নেয়া নেক আলামত। এতে বিলম্ব করা নেক তৌফিক থেকে বঞ্চিত থাকার অন্যতম কারণ।

কেউ বলতে পারি না কখন কার কী দশা হবে! সুতরাং তওবা করে নেই আজই এবং এখনি।  চলবে ইনশাআল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *