মানুষ নেক তৌফিক থেকে বঞ্চিত হয় কখন – ৩

শাক্বীক বিন ইব্রাহীম রহ. বলেন: নেক তৌফিক, অর্থাৎ, ভাল হওয়ার ও ভাল কাজ করার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার চতুর্থ কারণ গুনাহ হলে তওবা করতে বিলম্ব করা।

গুনাহ করে শীঘ্রই তওবা করার কথা আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন। বলা হয়েছে (অর্থ): তওবা, যা (কবুল করা) আল্লাহর দায়িত্বে – তা কেবল এমন লোকদের জন্য, যারা নির্বুদ্ধিতা-বশত মন্দ কর্ম করে ফেলে, অত:পর তারা অবিলম্বে তওবা করে। ফলে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। সূরা: নিসা – ১৭

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তওবাকারী ও তওবা সম্পর্কে যা বলেছেন তা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আসলে ভাল বান্দা নির্বুদ্ধিতা-বশতই গুনাহ করে! গুনাহ করার মুহূর্তে তার হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। কারণ সে হঠকারী নয়। সে বুক ফুলিয়ে গুনাহ করে না। তার অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে গিয়ে বলা হয়েছে ‘অবিলম্বে তওবা করে’। পরের কথা ‘ফলে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন’ দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এমন ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা কর্তৃক ক্ষমাপ্রাপ্ত। তাই সে রহমতপ্রাপ্ত ও সৌভাগ্যবান।

এটা ঈমানদারদের একটি ভাল গুণ যে, গুনাহ যদি হয়েই যায়, সে দ্রুত আল্লাহ তাআলার প্রতি নত ও লজ্জিত হয়। আফসোস করে যে, এমন কথা কেন বললাম। এমন আচরণ করলাম। এমন কাজ কেন করে ফেললাম! মূলত এটাই তো তওবার মৌলিক বিষয়। অনুশোচনা।

ইমাম গাযযালী রহ. বলেছেন, পাপ মোচনের জন্য দুই তাপের এক তাপে জ্বলতেই হবে। হয় দুনিয়াতে তওবার ‘অনুতাপে’ জ্বলতে হবে নতুবা জ্বলতে হবে দোজখের ‘আগুনের তাপে’। বুদ্ধিমান তো সে-ই যে কিনা গুনাহ হয়ে গেলে তাড়াতাড়ি তওবা করে, বাঁচতে চায় বহুগুণ উত্তপ্ত ও যন্ত্রণাময় দোজখের আগুন থেকে।

তওবা মানেই ফিরে আসা। ফিরে আসা আল্লাহর দিকে – তাঁর অপার ক্ষমা, রহমত ও সন্তুষ্টির দিকে। ইতিহাস কত নেক মানুষের কথা লিখেছে যাঁরা কিনা জীবনকে কোন এক সময়ে অন্য ধারায় প্রবাহিত করেছিল। কিন্তু তারপর তওবার মাধ্যমে এমনভাবে আল্লাহর পথে অগ্রসর হয়েছে যে, আল্লাহওয়ালাদের খাতায় শুধু তাদের নাম স্থান পায়নি – তাঁরা বিশিষ্ট আল্লাহওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে চির স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন! ফুযায়াল বিন আয়ায, মালেক বিন দীনার, বিশরে হাফি, হাবীবে আজমি – আরও কত… তাঁদের উপর আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত বর্ষিত হোক! আজ উম্মত তাঁদের নাম গর্বসহকারে নেয়, তাঁদের ঘটনা থেকে উৎসাহ-উদ্দীপনা গ্রহণ করে, শিক্ষা নিয়ে নিজেরাও হয় সংশোধিত।

আমরা কেউ কেউ এমন চিন্তা করি: তওবা করে নিব, এখন এই কাজটা করে নেই।পরে তওবা করে নেব।হয়ত কাল করব।বা এই মজাগুলো চেখে নিয়ে তারপরই করব; দেখি…শীঘ্রই নামাজ শুরু করব আর ভাল হয়ে যাব। রমজান তো আসছে; এইতো রমজানে রোযা-নামাজের মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করব। এমন সব চিন্তা-চেতনা আমাদেরকে ‘হঠাৎ মৃত্যুর ছোবল’ বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুলিয়ে রাখে। শয়তান এটাই চায়। কারণ, গুনাহে অনেক অভ্যস্ত হয়ে গেলে তওবা আরও বিলম্বিত হয়। তখন তওবা করার মানসিকতাও নষ্ট হতে থাকে। হায়াত আশি বছর কেন? একশ বছর পেলেও তখন আর তওবা নসীব হয় না!

কারণ – ঐ যে! গুনাহ করে তওবাকে বিলম্বিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ফেরাউন উত্তম উদাহরণ। কত সুযোগ! কত লম্বা হায়াত। কী হল পরিশেষে? ফেরাউনের মৃত্যু মুহূর্তে জীবরাঈল আ. তার মুখে কাঁদা ছুড়ছে! তোমার এখনকার ঈমান কোন কাজে আসবে না! হে আল্লাহর নাফরমান, চূড়ান্ত শাস্তির দিকে রওনা দে। সুযোগ দুনিয়াতেই ছিল। এখন তোর জন্য শুধুই যন্ত্রণাময় আযাব। চলবে ইনশাআল্লাহ

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *