মানুষের সঙ্গে আচার-ব্যবহার: কিছু মৌলিক বিষয়

মানুষের সঙ্গে আচার ব্যবহার উত্তম হওয়া জরুরি। হতে পারে আমরা ভালো ব্যবহার করলে কেউ আমাদের ওপর সুযোগ নিতে চাবে। কিন্তু ন্যায়নীতিতে দৃঢ় থেকেও উত্তম আচরণ করা যায়। বরং এটিই ইসলামের শিক্ষা। মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে হলেও আচার-ব্যবহার সুন্দর ও মার্জিত করা চাই। যেখানে ভালো ব্যবহার করলে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে ও ক্ষতির আশংকা রয়েছে সেখানে তো কর্তৃপক্ষ শাসন করবেই; স্থান, কাল ও পাত্র অনুযায়ী তো আচার-ব্যবহারে পার্থক্য হবে। শরীয়ত মৌলিকভাবে উত্তম আচরণ শিক্ষা দিয়েছে। উত্তম আচরণ কথাটিকে কেউ যদি যথাযথ আচরণও বলে তাও সঠিক হবে। প্রত্যেককে তার নিজের অবস্থান বুঝতে হবে এবং যার সঙ্গে সে কথা ও কাজে জড়িয়ে পড়ছে, বুঝতে হবে সেখানে করণীয় কী(?)

ন্যায়নীতিতে দৃঢ় থাকতে যিনি বলেছেন তিনিই মানুষের সঙ্গে সদাচরণেরও আদেশ করেছেন। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা একদিকে আমাদেরকে তাঁর হুকুম-আহকাম মানার বিষয়ে আপোষহীন থাকতে বলেছেন, আর অন্যদিকে মানুষের প্রতি উত্তম আচরণ করতে বলেছেন। প্রিয় নবীজি ﷺ উম্মতকে যে ভারসাম্যপূর্ণ আচার-আচরণ ও ব্যবহার শিখিয়েছেন তার কোনো তুলনাই নেই!

প্রিয় নবীজি ﷺ দেখিয়েছেন যেখানে শাসন করতে হবে সেখানে শাসনটিও উত্তম আচরণ। দেখতে হবে এটি আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্য কিনা। নিজের স্বার্থে আঘাত লাগছে বলে রাগান্বিত ও উত্তেজিত হওয়া যাবে না। এখানে আমাদের ভুল ও ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যায়। তবু যদি আমরা তওবা করি ও আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতে থাকি ইনশাআল্লাহ সংশোধন সম্ভব।

হাদীসে তো আছেই যে (যাঁর মাফহুম বা উদ্দেশ্য এমন:), যারা আমাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করে শুধু তাদের সঙ্গে নয়, যে বা যারা আমাদের সাথে উত্তম আচরণ করে না, তাদের সঙ্গেও আমাদেরকে উত্তম আচরণ করতে হবে। বরং, শেষোক্ত ক্ষেত্রের উত্তম আচরণই তো বলে দেবে আমাদের আখলাক আসলেই উত্তম।

এখানে একটি কথা প্রনিধানযোগ্য। বিশেষ ক্ষেত্র ও অবস্থা থাকতে পারে (উপরে যেমনটি বলাই হলো: শাসন, কঠোরতা ইত্যাদি)। কিন্তু আমরা যেন নিজ থেকেই নিজের সব আচরণকে যৌক্তিক না বানিয়ে নিই; এমনটা ক্রমাগত করা হলে তা হবে নিজ সংশোধনের অন্তরায়। আমরা আলেমগণ থেকে নিজের বিভিন্ন অবস্থা বর্ণনা করে জেনে নেব কার সঙ্গে আমাদের কেমন আচরণটি সঠিক, অর্থাৎ শরীয়তসম্মত। এভাবেই আমাদের আচার-আচরণ সুন্দর, সঠিক, ভারসাম্যপূর্ণ — মোটকথা, সুন্নাহসম্মত হবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *