মহিলাগণের ইতিকাফ: মৌলিক নিয়ম, নির্দেশনা ও মাসায়েল

প্রিয় পাঠক, লক্ষ করুন: এই প্রবন্ধের একদম শেষে মহিলাগণের ইতিকাফ-এর নিয়মটি pdf আকারে দেওয়া আছে। আপনারা ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

মহিলাগণও ইতিকাফ করে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করতে পারেন। যদি তিনি বিবাহিত হন, তার স্বামীর অনুমতি প্রয়োজন হবে।

স্বামীর উচিত হবে বিশেষ কোনো অসুবিধা না থাকলে এমন একটি মহৎ নেক আমলে স্ত্রীকে অনুমতি দেওয়া। অনুমতি দেওয়ার পর স্বামী যদি কোনো কারণে স্ত্রীকে ইতিকাফ ভাঙতে বলেন, ইতিকাফ ভাঙতে স্ত্রী তখন বাধ্য নন, যেহেতু স্বামী তাকে অনুমতি দিয়েছিলেন।

মহিলাগণের জন্যও রমযানের শেষ দশকে ইতেকাফ সুন্নত, অর্থাৎ, ২০শে রমযান সূর্য ডোবার সময় থেকে নিয়ে ঈদের চাঁদ দেখার আগ পর্যন্ত। যদি কোনো মহিলা এই ১০ দিনের মধ্যে কম সংখ্যক দিন ইতেকাফ করেন, তাহলে সেটা নফল ইতিকাফ হবে।

তাকে বাড়িতে একটি জায়গা সুনির্দিষ্ট করে নিতে হবে যেখানে তিনি নামায পড়ে থাকেন। যদি এমন কোনো নির্দিষ্ট স্থান বাসায় না থাকে তাহলে তিনি ইতিকাফের জন্য সুবিধামতন একটি জায়গা নির্ধারণ করে নেবেন।

যদি তিনি তার বাড়ির এক স্থানে নামায আদায় করে থাকেন আর এখন তিনি বাড়িটির অন্য কোনো অংশে ইতিকাফ করতে চান, তাহলে ইতিকাফে বসার আগে তিনি নিয়্যত করে নেবে যে, এখন থেকে (অর্থাৎ, ইতিকাফরত অবস্থায়) তিনি এখানেই নামায পড়বেন। তাহলে সেই স্থানে তিনি ইতিকাফ করতে পারবেন।

ইতিকাফের কামরাটি/স্থানটি এমন হবে যেখান থেকে তিনি শরঈ অনুমতি (অর্থাৎ,শরীয়ত যেক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছে) ব্যতীত বের হবেন না। সেখানেই ইবাদত করবেন, খাবেন ও ঘুমাবেন। শুধুমাত্র প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য বের হবেন।  মোট কথা, প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফ করার স্থান ত্যাগ করা যাবে না।

মহিলাগণ ইতিকাফ চলাকালীন অবস্থায় তার ইতিকাফের জন্য নির্ধারিত জায়গায় অবস্থান করবেন। কোন বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তার নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করা যাবেনা। তবে একান্ত বাসার কোন কাজের প্রয়োজন হলে ইতিকাফের স্থানে বসেই তা করতে পারবেন। রান্না-বান্নার কাজে সাহায্যের প্রয়োজন হলে ইতিকাফের স্থানে বসে রান্নার কাজে সহায়তা করতে পারবেন। অনেকের ছোট বাচ্চা আছে। নিজ জায়গায় অবস্থান করে বাচ্চার দেখাশুনাও করতে পারবেন। সোজা কথা, ইতিকাফের স্থান বিনা প্রয়োজনে ত্যাগ করা যাবে না। কারণ এতে ইতিকাফ ভেঙে যাবে।

খেয়াল রাখবেন, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া এসব কাজে মশগুল না হওয়াই উত্তম। নিজেকে আমল ও ইবাদাতে মশগুল রাখার চেষ্টা করতে হবে।

প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল বা ফোনে কথা বলা ইতিকাফের সম্পূর্ণ পরিপন্থী কাজ। এ বিষয়টি আমরা বিশেষ লক্ষ রাখি।

মহিলাগণ সাধারণত তাদের হায়েযের সময়টি জানেন। হায়েযের সময়কাল লক্ষ করে ইতিকাফে বসা উত্তম। পূর্ণাঙ্গ সুন্নত ইতেকাফে, মহিলাদের বিশেষ সময় (অর্থাৎ, হায়েয) উপস্থিত হয়ে গেলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। তাকে পরে তা রোযাসহ কাযা করে নিতে হবে। যতদিনেরই ইতেকাফ বাকি থাকুক না কেন, মাত্র একদিনেরই কাযা আদায় করলেই চলবে। ফরয রোযার কাযার সঙ্গেও ইতিকাফের কাযাটি তিনি আদায় করতে পারেন অথবা কোনো নফল রোযার সঙ্গেও আদায় করতে পারবেন। হায়েয যদি রমযান শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয়, রমযানের রোযার মধ্যেই ইতিকাফের কাযা আদায় করতে পারবেন।

যদি তার খাবার আনা নেওয়ার জন্য অন্য কেউ না থাকে, সেক্ষেত্রে অবশ্য তিনি তার সুনির্দিষ্ট জায়গা ত্যাগ করে খাবার নিয়ে আসতে পারবেন। তার খাবার আনা নেওয়ার জন্য অন্য কেউ থাকলে তার ইতিকাফের স্থানটি তিনি ত্যাগ করতে পারবেন না।

একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়লে জাগতিক (দুনিয়াবী) কথা বলতে পারবেন, কিন্তু সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা থাকবে সকল জাগতিক বিষয় ও কাজ থেকে পৃথক হয়ে ইতিকাফ করা। যিকির, তেলাওয়াত, নামাযে নিবিষ্ট থাকা; এছাড়া দ্বীনি বইও পড়তে পারবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ইখলাসের সাথে ও সঠিকভাবে নেক কাজ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

যেসব গ্রন্থ থেকে মূলত এ বিষয়গুলো সংগৃহিত:

خواتين كي مسائل أور أن كا حل

آب كي مسائل أور أن كا حل

الفتاوى الهندية

ولا بأس أن يتحدث بما لا إثم فيه كذا في شرح الطحاوي

بهشتي زيور

أحكام اعتكاف، مفتي تقي عثماني

أحسن الفتاوى

فتاوى محمودية

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *