মহিমান্বিত রমযান: ক্ষমা পাওয়ার ও জীবন পরিবর্তনের অপূর্ব সুযোগ

আল্লাহ তাআলার কত বড় রহম ও করম! তিনি এক দিন বা দু’ দিন নয়, সম্পূর্ণ একটা মাস দিয়েছেন এই উম্মতকে…..যেই মাসটিতে মাগফিরাত, দোআ কবুল ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনকে একেবারে সহজ করে দেওয়া হয়েছে! বাদশাহ যখন ক্ষমার এমন সুযোগ দেন, তার সদ্ব্যবহারই সবচেয়ে বড় দাবী রাখে। একটু বুদ্ধি-বিবেকবান ব্যক্তি মাত্রই এমন সুযোগ হাতছাড়া করাকে চরম বোকামী মনে করবে!

বছর ঘুরে রমযান আবার আসছে! এসেই গেল! (হে আল্লাহ আমাদের জন্য কবুল কর!) যেই রমযান মু’মিনকে পূর্ণ বছরের জন্য প্রস্তুত করার প্রয়াস দেয়। যেই রমযান পবিত্র কুরআনকে আঁকড়ে ধরার কথা মনে করায়। যেই মাস বান্দাকে উদ্বুদ্ধ করে জান্নাত অর্জনের, তাঁর অন্তরে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জনের খাঁটি তলব সৃষ্টি করে! যেই রমযান আত্মিক, মানসিক ও শারীরিকভাবে বিস্ময়কর ইবাদতের সুযোগ দিয়ে মুত্তাক্বী হওয়ার আহবান জানায়। সিয়াম ও কিয়ামের সম্মিলন – বান্দাকে বন্দেগীর এক অনাবিল স্বাদ দান করে! ….গুনাহকে গুনাহ মনে করার সুযোগ দেয়, যত্ম সহকারে গুনাহ থেকে বাঁচার বিষয়ে সতর্ক করে দেয়। নেক কাজে অগ্রসর হওয়ার বিরাট আকাংখা পয়দা করে। দুনিয়াকে তুচ্ছ মনে করতে সহায়ক হয়। আখেরাতেই যে শান্তি – সেই কথা মনে করায়। আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা, আর তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা যে আসল পুঁজি, তা স্মরণ করায়!

রমযান-কে যে পেল, আর মাগফিরাত তথা ক্ষমা-কে যে হাতছাড়া করল, সে কতই না হতভাগ্য! রমযান পেয়ে যে গুনাহ ত্যাগের অনুশীলন করতে পারল না, সে কত বড় বেওকুফ! রমযান পেল, কিন্তু ইবাদত-কে একটু আপন করতে পারল না, সে কতই না নাদান!

আসলেই আমাদের ভাবা দরকার। চিন্তা-ফিকির করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা বলছেন:

(অর্থ): “রমযান মাস – যে মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে। এই কুরআন – মানুষের জন্য হেদায়াত; যেই কুরআন সঠিক পথ দেখায় ও সত্য-মিথ্যার প্রভেদ করে দেয়।…..”  (সূরা বাক্বারা)

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা বছর-তো ইবাদত করতেনই, রমযানে একেবারে কোমড় বেঁধে ইবাদতে মশগুল হয়ে যেতেন! গুরুত্বের সাথে অনেক বেশী পরিমাণ ইবাদতে মগ্ন হতেন।  সেই পবিত্র হাদীসে, মিম্বরে উঠতে উঠতে পা রেখে হযরত জিবরাঈল আ:-এর দোআর সাথে যে তিন বার আমীন বলেছেন, তাঁর মধ্যে একটি দোআ এই ছিল: ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি, যে রমযান পেল আর নিজেকে ক্ষমা করাতে পারল না! এর অর্থ, রমযানে এতই ব্যাপক রহমত নাযিল হতে থাকে যে, এই সুযোগ হাতছাড়াকারি সত্যিই কপাল-পোড়া!

আমরা কোনভাবেই রমযান মাস-কে অবহেলা না করি। খাবো, ঘুমাবো, কাজ কর্ম করব ইনশাআল্লাহ, কিন্তু রোযা তো রাখবই, তারাবীহও পড়ব, কুরআন তিলাওয়াত-কে বাড়াব, জামআতে নামাযের পাশাপাশি নফল নামায বাড়াব, অন্যান্য নফল ইবাদত বেশী করে করব, যিকির-আযকারে মন দিব যত্ন সহকারে, দিল-মন-জান দিয়ে দোআ করব, তওবা-ইস্তেগফার করব খুব বেশী….., গুনাহ ছাড়ার পোক্ত নিয়্যত করে নিব, হারাম ত্যাগের ব্যাপারে কঠোর হয়ে যাব – আজীবনের জন্য , নিজেকে আল্লাহ তাআলার কাছে কবুল করানোর জন্য পাগলপাড়া হব…..ইনশাআল্লাহ!

হে আল্লাহ তুমি তৌফিক দাও! এছাড়া সম্ভবই না!

আখেরাতমুখী হওয়ার এই অপূর্ব সুযোগ-কে আমরা কাজে লাগাই! গুনাহর দ্বারা, গাফলতির দ্বারা আমরা রমযান-কে হেলায় না হারাই! জানিনা এটাই কি আমাদের শেষ রমযান কিনা! জানিনা এটাই কি আমাদের জীবনে শেষ সুযোগ কিনা ক্ষমা অন্বেষণের!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *