ব্যাপক অর্থবোধক দোআ – ১

কুরআন-হাদীসের দোআ’র গুরুত্ব সম্পর্কে আগেও আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি মুসলমান সাধারণভাবেই উপলব্ধি করতে পারে যে, কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দোআ অতুলনীয়। প্রতিটি মুসলমানের নিয়মিত আমলের মধ্যে গুরুত্বসহকারে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দোআ অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া উচিত।

আজ এমন একটি দোআ’র কথাই আলোচনা করা হচ্ছে। আল্লাহ পাক তাওফীক দিন!

সৌভাগ্যবশত: অধিকাংশ মুসলমানের মুখস্থ এই দোআটি। একাধারে এটি একটি দোআ, একটি ইস্তেগফার এবং একটি তওবাসম্বলিত বাক্য! পবিত্র কুরআনেও আছে, হাদীসের বর্ণনায়ও এসেছে। ইউনুস عليه السلام-এর দোআ:

لاَّ إِلَـهَ إِلاَّ أَنتَ سُبْحَـنَكَ إِنِّى كُنتُ مِنَ الظَّـلِمِينَ

যেকোনো বিপদে অত্যন্ত কার্যকরি দোআ ইউনুস!

আমাদের সব অবস্থাকে ঠিক করার মালিক আল্লাহ। তাঁকে ডাকতে কেন দ্বিধা আর কার্পণ্য করব?! তিনি শুনছেন ও তাঁর ক্ষমতায় সবকিছু। তাঁর হুকুমই কার্যকর হয়, অন্য কারো নয়। অতএব পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা তাঁর উপরই রাখা উচিত।

দেখুন রবকে ডাকার কী বিনয়সম্বলিত কথামালা! (দোআ ইউনুসের অর্থ:)

তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নাই
তুমি ‘সুবহান’ (অত্যন্ত পুতঃ-পবিত্র)
নিশ্চয় আমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত!

…ইউনুস عليه السلام-এর অপূর্ব দোআ এবং ইস্তেগফার, যিনি মা’সুম (নিষ্পাপ) ছিলেন। আমাদের মতন এত পাপী-তাপি মানুষের জন্যেও একই ওষুধ! কারণ এ যে মহৌষধ, অব্যর্থই বটে। আল্লাহ তাআলার রহমত আমাদের গুনাহকে মাফ না করে ছাড়ে না! তাঁর মহাশক্তি (যখনই তিনি ইচ্ছা করেন) কোনো বিপদকে মুহূর্তকাল অগ্রসর হতে দেয় না।

শুধু ইউনুস عليه السلام মুক্তি পাননি, তার অনুসৃত সবাই (অর্থাৎ যারাই সঠিক পন্থায় আল্লাহ অভিমুখী হয়েছে) দোআটি পড়ে মুক্তি পেয়েছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত এমনিভাবেই মুক্তি পাবে ইনশাআল্লাহ। আমাদেরকেও আল্লাহ তাআলা মুক্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *