বুঝে আসুক বা না

বুঝে আসুক বা না, ভাল লাগুক বা না, আমি আল্লাহ্ তাআলার পথে চলতে থাকব। নবীজি ﷺ-কে অনুসরণ ও অনুকরণে চেষ্টা চালিয়ে যাব। আলেমগণকে ভালবাসব, তাদের কথা শুনতে থাকব, মানতে থাকব। এটি সাধারণ একটি উপদেশ। কিন্তু প্রতিটি উম্মতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশ।

দ্বীন তথা ইসলামের গুঢ় তত্ত্ব ও বিস্তারিত জ্ঞান একবারে আসে না। আসার প্রয়োজনও নেই। আবার সবার জন্য তা অর্জন করাও জরুরী নয়। শরীয়তের মৌলিক বিষয়াদি জানাটা সবার জন্যই অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এবং মৌলিক জ্ঞানগুলোকে ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ মনে করার কোন অবকাশই নেই। কেউ যতই অভিজ্ঞ ও বিজ্ঞ আলেম হোক না কেন তার ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য (দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে সঠিক জ্ঞান তো তাঁর অবশ্যই আছে! এজন্যই তিনি আলেম) আন্তরিকতা বা এখলাস, যেটা মনের এমন এক অবস্থা যা ‘আল্লাহর জন্যই’ উপলব্ধিকে সবার উপরে স্থান দেয়, এঁর মূল্য এত বেশি যে, অনেকক্ষেত্রে শুধুই এতটুকু আল্লাহর পথে কবুল হতে সহায়ক হয়।  যখন আল্লাহর পথে চলতে আন্তরিকতার সাথে একটু সাধনা করা হয় তখন দায়িত্ব আল্লাহ তাআলাই নিয়ে নেন, যিনি মায়ের বুকের দুধ টানতে আমাকে শিখিয়েছেন। যিনি শিশু অবস্থায় ক্ষুধা লাগলে কান্না করে খাবার চাইতে শিখিয়েছেন। এখনও তাঁরই হাজারও নেয়ামত ভোগের মধ্যেই আছি। আমাকে ঈমান ও ইসলামের মতন দৌলত দিয়ে তিনিই ধন্য করেছেন!

মুফতী তাকী উসমানী দা. বা. বড় দরদের সাথে হাকীমুল উম্মত মাওলানা থানভী রহ.-এর একজন খলীফার একটি ঘটনা বলেছেন। উনার নাম হযরত বাবা নজম আহসান রহ.। তিনি তেমন বিশেষ কোন মজলিস করতেন না; ছোট্ট একটা কামরায় বসে থাকতেন। মানুষ তার কাছে আসত, তিনি দু-এক কথা নসীহত স্বরূপ বলতেন।

একদিনের ঘটনা। এক স্বাধীনচেতা টগবগে যুবক হযরত রহ.-এর কাছে আসল। দেখলে তার সম্পর্কে আন্দাজ করা যায় যে সে তো বর্তমানকালে সাধারণ রীতি রেওয়াজ যেমন হয়ে থাকে সে বেচারা সেভাবেই জীবন যাপন করছে। যুবকটি এসে হযরতকে বলল যে, তার কোন এক আত্মীয় কিছু দিন পূর্বে হুজুরের এখানে এসেছিলেন। তিনি একটা কলম ফেলে গেছেন। এবং যুবুকটি জানাল যে সে এসেছে সেটা ফেরত নিয়ে যেতে। হযরত রহ. সেই কলম বের করে যুবকটির হাতে দিলেন। যুবকটি কলমটি নিয়ে ফেরত যেতে লাগল। হযরত রহ. তাকে ডেকে বললেন, ভাই একটা কথা শুনে যাও! যুবকটি ডাক শুনে হযরতের কাছে বসল। হযরত তাকে বললেন, এই যে দ্বীনের উপর চলা – এটা কঠিন কিছু না! প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে একটু তওবা-ইস্তেগফার করে নিলেই চলে। এতুটকুই কথা। ব্যস! বড় কোন উপদেশসম্বলিত কথা নয়, বা ওয়াজ নয়।

আল্লাহ্ পাকই জানেন, এই কথার কী প্রভাব সেই যুবকের উপর পড়ল! পরে জানা গেছে, হযরতের এই একটি নসীহত সেই যুবকের জীবন সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিয়েছে। সেই যুবক নেক মুসলমান বনে গেছে! মূলত নেক ব্যক্তির কথার প্রভাবে এমনটা হয়েছে।

একজন আল্লাহওয়ালা ও একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিকতা – উভয় উদাহরণই এ ঘটনায় বিদ্যমান। আমরা আল্লাহ তাআলার পথে চেষ্টা-তদবীর করে গেলে এর ফল আল্লাহ আমাদের দিয়ে দেবেন, ইনশাআল্লাহ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *