বিপদের প্রতিকারে অন্যতম পথ

আজ আমাদের যে বিপদাপদ, দুঃখ ও দুর্দশা সেটার অন্যতম কারণ হল আমাদের গুনাহ। গুনাহ মানেই হল সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার নাফরমানী করা। নাফরমানী কি অব্যাহত রাখা যায়?…তাও আবার বিশ্বচরাচর প্রভুর বিরুদ্ধে?!

পার্থিব জীবনে দুঃখ কষ্ট থাকবেই সত্য। কিন্তু তা যেরকম আজ সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে হাহাকার রূপ নিচ্ছে, সেটা একমাত্র আল্লাহ তা’আলাকে নারাজ করার জন্যেই।

সাধ্য অনুযায়ী গুনাহ ছাড়লে দেখবেন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্য আসছে। মানসিক প্রশান্তি লাভ হচ্ছে।

গুনাহ পরিত্যাগের অনুশীলন প্রথমে দৈনিক করতে হবে। কারণ ‘নফস’ বা প্রবৃত্তি বর্তমানে প্রতিদিন গুনাহর তাড়না দিয়ে বার বার জয়ী হচ্ছে। সেজন্য প্রথম প্রথম গুনাহ ছাড়তে একটু বেশি কষ্ট করতে হবে। কিন্তু এঁর ফলাফল হবে খুবই উপকারী! অতি শীঘ্রই গুনাহর প্রবণতা কমে গিয়ে নেক কাজের প্রবণতা বেড়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। দু’ চার মাস কষ্ট করে যদি সারাজীবন নেক পথে চলা যায় সেটা কত বড় পাওয়া!

গুনাহ ছাড়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। যতবারই গুনাহ হোক, এই চিন্তা থাকাটা জরুরী – আমাকে গুনাহ ছাড়তে হবে। এই প্রচেষ্টা আন্তরিক হওয়া নিঃসন্দেহে স্বতন্ত্র একটি বড় নেয়ামত। কারণ, গুনাহ থেকে বাঁচা মানেই হল আল্লাহর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন। শয়তান এটা জানে বলেই তার আক্রমণ অব্যাহত রাখে। সে চায় আমরা তার অনুসরণ করি। সে চায় তার সাথে আমাদেরকে দোজখের সঙ্গী করতে। আমাদেরও উচিত এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আর সেটা অব্যাহত রাখা।
কু-প্রবৃত্তি ও শয়তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয় তওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এ পথে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তাই তা পূর্ণ হয়ই হয়!
তওবা হল আল্লাহ পাকের নাফরমানী বন্ধের পথ। এ পথ অবলম্বনই আমাদের সব বিপদের প্রতিকার। সর্বোপরি, এটা আল্লাহ তাআলার সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের এক বড় মাধ্যম!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *