বাস্তবমুখী কাজ ও চিন্তা-চেতনা

আমরা যত বেশি বাস্তবমুখী চিন্তা করব তত বাস্তবভিত্তিক কাজ করব। অন্তত বাস্তবমুখী চিন্তা করে অবাস্তব বিষয়কে প্রশয় দেব না।

ইসলাম পূর্ণ বাস্তবতা শিক্ষা দেয়। অহেতুক, অবাস্তব ও ক্ষতিকর বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলে।

যারা বলে ‘নামায পড়লে কী লাভ?’ তারা বাস্তবতার সাথে টক্কর দেয়। সত্যকে মেনে নেয় না। নিজেদের মনগড়া সিদ্ধান্তকে তারা সত্য/বাস্তব বলে থাকে এবং প্রবঞ্চনার শিকার হয়। আবার কেউ এমন কারো অনুসরণ করে যে মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরেছে, বাস্তবতা বিমুখ।

মুমিন আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল ﷺ কে বিশ্বাস করে বাস্তবতা ও সত্যের সামনে মাথা নত করেছে। মাথা খাটায়নি! মাথা হেট করেছে। এটাই সফল হওয়ার মূলমন্ত্র।

যারা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল ﷺ কে বিশ্বাস করেনি তারা বাস্তবতা ও সত্যের সামনে মাথা নত করেনি। তারা বিস্ময়ের সাথে বাস্তবতা ‘টের’ পাবে মৃত্যুর সাথে সাথে! সূরা তাকাসুরে আল্লাহ তাআলা এ কথাটি বলেছেন। আরো অন্য আয়াতে নানাভাবে বাস্তবতা অস্বীকারকারীদের অবস্থা উল্লেখ করেছেন।

শয়তান আর শয়তানের বন্ধুরা আমাদেরকে বলে, দুনিয়াই হল বাস্তব। দুনিয়ার হায়াত হল বাস্তব। টাকা-পয়সা, নারী-বাড়ি হল আসল ও বাস্তব। দুনিয়ার সহায়-সম্পত্তি বাস্তব। মৃত্যু যে বাস্তব এটা তারা একদমই বলে না। মৃত্যু পরবর্তী জীবন তো বলেই না! আমাদের মন্দ সঙ্গীরা বাস্তবাতার আলোচনা বলতে বুঝে ও বোঝায় দুনিয়াতে মাল কামাই আর টাকা-পয়সা, নারী-বাড়ি অর্জন। আখেরাতের নাম পর্যন্ত অনেকের কাছে বিরক্তির উদ্রেক করে! ঈমানভিত্তিক চিন্তা তাদের কাছে অলীক ও অবাস্তব।

মানুষের চিন্তা-চেতনার সচ্ছতা ও পবিত্রতা আল্লাহ তাআলার বিধানকে স্বীকার করে এবং বিশ্বাস করে কাজ করার ওপর নির্ভর করে৷ কেবল এতটুকু বিষয় যদি কারো অন্তরে থাকে – আমার মৃত্যু হবে এবং আখেরাত সত্য,  আল্লাহ’র কাছে আমার জবাবদিহিতা আছে – এতটুকু চিন্তা ও বিশ্বাস তাকে আল্লাহ’র প্রতি অবিশ্বাসকারীদের থেকে সুস্পষ্টভাবেই পৃথক করে দেয়। এ মানুষটির দ্বীন অথবা দুনিয়ার মৌলিক চিন্তা, কথা ও কাজ  বাস্তবমুখী হয়ে থাকে। অধিকাংশ মানুষ দুনিয়ার কাজকর্মকেই মুখ্য ও বাস্তবতা ভেবে বসে আছে। মূলত ‘বাস্তবতা’ তো মুমিনের অর্জিত হয়, যে কিনা মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *