বছর শেষে: আনন্দিত নাকি শোকাহত?

কোনকিছু হারিয়ে কেউ আনন্দিত হয় কি? বিশেষ করে, কারো যদি কোনো মূল্যবান কিছু হারিয়ে যায়, সে কি খুশি হতে পারে?

যদি আপনাকে বলা হয় যে, আপনার জীবনের কিছু সময় বেহুদা কাজে বা গুনাহের কাজে ব্যয় করতে হবে, তাতে কি আপনি রাজি হবেন? আবার যদি বলা হয় যে, আপনার জীবনের যে সময়টুকু আপনি বেহুদা বা গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়েছিলেন, আজ চলুন তার জন্য কিছু আনন্দ উৎসব করে নিন! এমন উদ্ভট ও দুঃখজনক প্রস্তাবে রাজি হবেন কি?

হে মুমিন! এবার একটু শান্তভাবে চিন্তা করুন। আপনার আমার জীবন থেকে একটি বছর চলে গেল। একটি বছর মানে এক বছরের হায়াত। এক বছরের হায়াত মানে অমূল্য হায়াতের বৃহৎ একটি অংশ। এ সময়টির মাঝে আমাদের সবার দ্বারাই না জানি কত বেহুদা কাজ আর গুনাহই না হয়েছে! আল্লাহ তাআলা’র ঐসব বান্দাতো কম যারা সময়ের যথাযথ কদর করে, সময়কে ইবাদতের জন্য ব্যয় করে থাকে এবং তারপরও তওবা-ইস্তেগফার করে যে, হায়! সময়কে ঠিক মতন কাজে লাগাইনি! সেখানে আমাদের মতন গুনাহগারের বছর শেষে কী করা উচিত?! আমোদ-প্রমোদ ও ফূর্তি?!

যদি বিবেক দিয়ে স্থিরভাবে চিন্তা করা হয়, অবশ্যই সত্য উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। মুমিন কখনো জেনে-বুঝে এমন কাজ করবে না যেটা আল্লাহ তাআলা’র সুস্পষ্ট নাফরমানি। হয়ে গিয়ে থাকলে তার জন্য আন্তরিকভাবে লজ্জিত হয়ে তওবা করে নেবে।

হায়াতের যে বৃহৎ অংশটি হারালাম তার জন্য আনন্দিত হওয়া মোটেই যৌক্তিক নয়। যে সময়টি চলে গেল সে সময়ে নেক কাজের পরিবর্তে গুনাহইতো বেশি হয়েছে। তাহলে এর জন্য আফসোস ও শোকাহত হওয়াটাই কি যৌক্তিক নয়?

কেউ বলতে পারে যে, ভাই আমিতো আল্লাহ পাকের নেয়ামতের শোকরগুযার হয়ে বছরের শেষ দিন এসব (আনন্দ-উৎসব-মজা) করছি! তাকে বিনীতভাবে বলছি, ভাই!‍ আপনি নেয়ামতের শোকর প্রকাশ করতে দু’ রাকআত নফল নামায পড়ুন অথবা কিছু দান-সদকা করুন। এটাও উত্তম যে, দেশ ও জাতির কল্যাণকর কোনো কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। যে আনন্দ-উৎসব আমাদের জীবনে কোন কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং আল্লাহ তাআলা’র ক্রোধ আহবান করে, সেই আনন্দ-উৎসব করে ক্ষতি ছাড়া জীবনে আর লাভ কী?!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *