ফেতনা: তার রূপ ও সে সময় করণীয়: ৭

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন: একদিন নবী করীম ﷺ (সাহাবীদের সামনে) দ্বীনি কথাবার্তা বলছিলেন। এমন সময় এক বেদুঈন আসল এবং জিজ্ঞাসা করল, কেয়ামত কবে হবে? তিনি উত্তরে বললেন, যখন আমানত বিনষ্ট করে দেয়া হবে, তখন কেয়ামতের অপেক্ষা কর। বেদুঈন লোকটি জিজ্ঞাসা করল, আমানত কিভাবে বিনষ্ট করা হবে? তিনি ﷺ বললেন, যখন অযোগ্য পাত্রে দায়িত্ব অর্পণ করা হবে, তখন কেয়ামতের অপেক্ষা কর। বুখারী।

হযরত জাবের ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেছেন (অর্থ): কেয়ামতের পূর্বে কিছু মিথ্যুক লোকের আবির্ভাব ঘটবে। তাই তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাকবে। মুসলিম।

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন (অর্থ): যখন গনীমতের মালকে সম্পদ বানিয়ে নেয়া হবে, আমানতকে গনীমত মনে করা হবে, যাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে, এলমকে দ্বীনকে দ্বীনের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য স্বার্থে অর্জন করা হবে, মানুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে এবং মায়ের অবাধ্যতা করবে, বন্ধুকে কাছে টানবে আর পিতাকে দূরে সরিয়ে রাখবে, মসজিদে উচ্চস্বরে কথা হবে, গোত্রের সর্দার হবে তাদের ফাসেক ও পাপাচারি ব্যক্তিটি, সমাজের নেতা হবে তাদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তিটি, কারো প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হবে তার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য, গায়িকা ও গান বাদ্যের ব্যাপক প্রচলন হবে, মদ পান করা হবে এবং উম্মতের পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদেরকে অভিশাপ দিবে, তখন তোমার অপেক্ষা কর লাল ধূলিঝড়ের, ভূমিকম্পের, ভূমি ধ্বসের, চেহারা বিকৃতির ও পাথর বৃষ্টির। এছাড়া অন্যান্য নিদর্শন ও বিপর্যয়েরও অপেক্ষা কর, যেগুলো একটির পর আরেকটি এভাবে আসবে, যেভাবে একটি মালার সূতা কেটে দিলে এর দানাগুলো একটির পর আরেকটি পতিত হতে থাকে। তিরমিযী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *