ফেতনা: তার রূপ ও সে সময় করণীয়: ৩

ফেতনা ও পরীক্ষা নানা আকারে আসতে থাকবে। একটি-দুটি নয়, বহু হাদীসে সেগুলি বর্ণিত আছে। রাসূলে আকরাম ﷺ এর পবিত্র কথাগুলো কোন্ মুসলমান অস্বীকার করতে পারে? আল্লাহর রাসূল ﷺ উম্মতকে বার বার ঐ সময় সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

তিরমিযীর এক হাদীসে আছে, [মুসআব ইবনে উমায়ের রা., যিনি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে অত্যন্ত বিলাসী জীবনযাপন করতেন, আর ইসলাম গ্রহণের পর চামড়ার তালিযুক্ত ছেড়া-পুরাতন চাদর পরে আল্লাহর রাসূলের সামনে আসলেন এবং আল্লাহ রাসূলﷺ কেঁদে ফেললেন। তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন (অর্থ)] ঐ সময় তোমাদের কী অবস্থা হবে, যখন (সম্পদ ও জীবনপকরণের এমন প্রাচুর্য দেখা দিবে যে,) তোমাদের কেউ সকালে এক জোড়া কাপড় পরে বের হবে আর সন্ধ্যায় আরেক জোড়া পরে বের হবে, খাবারের জন্য তার সামনে একটি পাত্র রাখা হবে, আর অন্যটি উঠিয়ে নেয়া হবে। আর তোমরা নিজেদের বাড়ী-ঘর পর্দা দিয়ে এমনভাবে সাজাবে যেভাবে কাবা শরীফে গেলাফ পরানো হয়। এ কথা শুনে কেউ কেউ নিবেদন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ সময় তো আমাদের অবস্থা বর্তমানের চেয়ে অনেক ভাল হবে। রসূলুল্লাহ ﷺ বললেন (অর্থ), না, তোমরা বর্তমানে (অভাব অনটনের এ যুগে) ঐ যুগের (ভোগ-বিলাসের যুগ) তুলনায় অনেক ভাল আছ।

– এই হাদীসটি এবং এমন আরো বহু হাদীসের মাধ্যমে সম্পদের বৃদ্ধিকে উম্মতের জন্য অপছন্দনীয় ও নানান ক্ষতির কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পদ আয় ও আহরণে ইসলাম বাঁধা দেয়নি। কিন্তু সীমা অবশ্যই টেনেছে। অতিরিক্ত চাহিদার লালসা, দুনিয়াকেই লক্ষ বস্তু বানানোর প্রবণতা, অন্যের হক লুন্ঠন ইত্যাদি সম্পদের ফেতনা। এর চক্করে পড়ে বহু মানুষ নেক আমল তো বটেই, খোদ ঈমান পর্যন্ত হারিয়ে ফেলে।

তিরমিযীর আরেক হাদীসেই আছে: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন (অর্থ): যখন তোমাদের শাসকগণ তোমাদের উত্তম লোকদের মধ্য থেকে হবে, তোমাদের ধনী ও বিত্তশালীদের মধ্যে উদারতা ও বদান্যতার গুণ থাকবে এবং তোমাদের কাজকর্ম পরামর্শ ভিত্তিক হবে,তখন ভূপৃষ্ঠ তোমাদের জন্য এর উদর থেকে উত্তম হবে। পক্ষান্তরে যখন তোমাদের শাসকগণ তোমাদের মন্দ লোকদের মধ্য থেকে হবে, তোমাদের ধনীদের মধ্যে যখন (বদান্যতার পরিবর্তে) কৃপণতা ও সম্পদ-পূজা এসে যাবে এবং তোমাদের কাজকর্ম (জ্ঞানীদের সাথে পরামর্শের পরিবর্তে) নারীদের মতামতের উপর চলবে, তখন ভুমির উদর তোমাদের জন্য এর পৃষ্ঠ থেকে উত্তম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *