ফেতনা: তার রূপ ও সে সময় করণীয়: ২

ফেতনা সম্পর্কে জানার আমাদের অনেক আগ্রহ দেখা যায়। এটা দুই অর্থেই বলা হচ্ছে। এক হল, আমরা পত্রিকা পড়ি, খবর দেখি; কোথায় কী হচ্ছে সে খবর রাখতে খুব তৎপর হয়ে থাকি। বরং, রীতিমত বিচার বিশ্লেষণ ও গবেষণাও নেমে পড়ি – উদ্দেশ্য যা-ই হোক। আরেক হল, কুরআন হাদীসে এই সময় ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী জানিয়েছে, ফেতনা সম্পর্কে কী বলেছে, কী কী ঘটবে, এ বিষয়ে আমাদের জানার আগ্রহ অনেক।

প্রথম বিষয়ে বলতে হয়, পত্রিকা পড়া এবং খবর দেখাই তো আজ যেন এক স্বতন্ত্র ফেতনা! এরও যে একটা সীমা থাকা উচিত সে বিষয়ে আমরা যেন সম্পূর্ণ বেখবর! সবার কাজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পত্রিকা পড়া নয়। সবকিছু বিচার ও বিশ্লেষণ করা সবার দায়িত্ব নয়। আজ অনেকে বলে থাকে শুনবেন, ‘ঠিক মতন পত্রিকাটা পর্যন্ত পড়ার সময় পাই না’! অর্থাৎ, পড়ি ঠিকই তৃপ্তি করে পড়তে পারি না। [এর পাশাপাশি এমন আফসোস কম শোনা যায়, ‘পবিত্র কুরআন ঠিক মত পড়তে পারছি না…’]। মুসলমানের সকাল হবে কুরআনুল কারীমের তেলাওয়াতের মাধ্যমে। কিন্তু আফসোস। আমাদের সকালের শুরু হচ্ছে পত্রিকা পড়া দিয়ে। আবারও বলছি, পত্রিকা পড়ুন। খবরাখবর রাখুন। কিন্তু যে কাজ যত বেশি গুরুত্বপূর্ণ তার যত্ন আগে করুন।

পত্রিকা আর খবরের প্রতি আমাদের যতটুকু সচেতনতা, নিজের পরিণতির প্রতি কি আমরা ততটুকু সচেতন? তাহলে তো ফজরের নামাজ জামআতে পড়ার কথা, অন্যান্য সব কাজেও আখেরাত প্রাধান্য পাওয়ার কথা।

আর দ্বিতীয় বিষয়, ‘কুরআন-হাদীসে ফেতনা সম্পর্কে কী বলেছে, তা জানার আগ্রহ’ – এ তো ভাল। এটা জানার পাশাপাশি এও জানা জরুরী যে, ফেতনার সময় করণীয় কী? বরং শেষোক্ত বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে সেগুলো জানা ও তদনুযায়ী বাস্তবে পদক্ষেপ গ্রহণ খুবই জরুরী।

বুখারী ও মুসলিমের একটি হাদীসের অর্থ: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন (অর্থ): নি:সন্দেহে এমন হবে যে, তোমরা (অর্থাৎ, আমার উম্মতের লোকেরা) পূর্ববর্তী উম্মতগুলোর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। এমনকি তারা যদি গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করার চেষ্টা করে থাকে, তাহলে এ ক্ষেত্রেও তোমরা তাদের অনুসরণ করবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর দ্বারা কি ইয়াহুদী ও নাসারাগণ উদ্দেশ্য? তিনি [ﷺ] বললেন, তাহলে আর কারা?

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *