প্রতিদিনের উপকারি মুরাকাবা (চিন্তা ও ধ্যান) – ১

প্রতিটি দিন অতিবাহিত হচ্ছে মানেই হায়াতের একটি অংশ নিঃশেষ হচ্ছে। কারো হায়াত হয়ত অর্ধেক বাকি, কারো সিকি, কারো বা অনেক কম। যার অতিবাহিত দিনগুলো সঠিক কাজে ব্যয় হয়েছে সে তো নেকি উপার্জন করে নিয়েছে ও নিচ্ছে। আর যার দিনগুলো বেঠিক কাজে ব্যয় হয়েছে তার ক্ষতি হয়েছে, হচ্ছে।

সুন্নাহ অনুযায়ী আজ কতটুকু আমল হলো
পার্থিব জীবন দারুল ইমতিহান – পরীক্ষার ঘর। হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে মুসাফিরের মতন জীবনযাপন করতে হবে। আমাদের সফর চলছে আখেরাতের উদ্দেশ্যে। সুতরাং মূল উদ্দেশ্য আখেরাত। আমার প্রতিটি কাজ আখেরাতমুখী হতে হবে। সাধ্য অনুযায়ী এ চেষ্টাটি অব্যাহত আছে কিনা — এটি পরখ করতে থাকব প্রতিদিন।

উলামায়েকেরাম ও বুযুর্গানে-দ্বীন এ ক্ষেত্রে সহজ নীতিমালা বলে দিয়েছেন। সুন্নাহ-আমল করার অভ্যাস গড়ে তোলাই সহজ ও সবোর্ত্তম উপায়। যত বেশি সুন্নাহর ওপর আমল হবে, ইনশাআল্লাহ তত বেশি আমাদের কাজগুলো আখেরাতমুখী হবে। নিয়্যত দুরস্ত করা, বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু, অধিক সালামের প্রসার, উত্তম আচরণ, লেনদেনে পরিচ্ছন্নতা, বড়কে সম্মান, ছোটকে স্নেহ, যে জায়গায় যে দোআর কথা বর্ণিত আছে তা পাঠ করা প্রভৃতি সবই সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।

জীবনের সবক্ষেত্রে সবর অবলম্বন করছি কিনা
কতটুকু আমি দৃঢ়তার সঙ্গে আল্লাহ তাআলার গোলামি করে যাচ্ছি? যখন যেখানে যে হুকুম — কতটুকু মানার চেষ্টা করছি। এটি দেখা, চিন্তা করা ও আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হওয়া। যে অবস্থাই আসুক, তাতে সাধ্য অনুযায়ী কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা মেনে স্থির হওয়া ‘সবর’-এর শিক্ষা। আল্লাহ তাআলা সবরকারীদের সঙ্গে (সূরা বাকারা: ১৫৩)।

সবর সাধারণ ব্যাপার নয়। ইবাদতে সবর, গুনাহর তাড়না/আহবান আসলে সবর, বিপদাপদে সবর — এভাবে যেকোনো অবস্থায় মুমিন বান্দাগণ আল্লাহ তাআলার পথে দৃঢ় থাকবে, অস্থির হবে না। হতবিহ্বল এবং হতাশ-নিরাশ হবে না সে। প্রশ্ন করি নিজেকে: আমি কতটুকু আল্লাহ তাআলার পথে সবরের সঙ্গে চলছি? জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সবর অবলম্বন করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলার শোকরগুযার বান্দা কিনা
পবিত্র কুরআনের অন্যত্র সুস্পষ্ট আছে যে, আল্লাহ তাআলার শোকরগুযার বান্দাদের সংখ্যা ‘ক্বালীল’, অর্থাৎ খুব কম (সূরা সাবা: ১৩)। এই আয়াতের প্রেক্ষিতে সাইয়্যেদুনা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি দোআ মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাতে বর্ণিত আছে: আল্লাহুম্মাজ’আলনী মিনাল ক্বালীল। হে আল্লাহ! কম সংখ্যক (ঐ শোকরগুযার)দের মধ্যে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করে নাও! (আমীন)। আমাদেরও এভাবে দোআ করা উচিত ও সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহ তাআলার শোকরগুযার হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। তাহলেই এ দোআ আমাদের পক্ষে কবুল হবে আশা করা যায়।

দিনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয় নানান ব্যস্ততায়। ব্যস্ততা মন্দ নয়। ব্যস্তার কারণ যদি হালাল বা জায়েয কাজ হয়, যদি শরীয়তের অনুমোদিত কাজে আমার সময় অতিবাহিত হয়ে থাকে এবং আমি যদি সুন্নাহ অনুযায়ী কাজগুলো সম্পন্ন করে থাকি তাহলে তো সবই আমার জন্য আল্লাহ তাআলার রহমত অর্জনের মাধ্যম হয়ে গেল! আমার হায়াতে যুক্ত হলো আরো নেককাজ, আরো নেকি। আলহামদুলিল্লাহ। সবই সুমহান-দয়াময় আল্লাহ তাআলার তাওফীকে হয়েছে। বারবার শুকরিয়া করা এবং আল্লাহ তআলার পথে দৃঢ় থাকার চিন্তাটিকে আরো মজবুত করতে থাকা। চিন্তা করুন: আপনি কাজে-কর্মে, চিন্তা-চেতনায়-বিশ্বাসে এবং কথায় কতটুকু শোকরগুযার।

তওবা-ইস্তেগফার করতে বিলম্ব করছি না তো
কাজের ময়দানে, বিভিন্ন অবস্থায় ভুলও হয়, গুনাহ পর্যন্ত করে ফেলি আমরা। নিজেকে সবসময় কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। দেখতে হবে কোথায় অসংলগ্ন কথা হয়েছে, কাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে, কোন্ কথা বা কাজ অহেতুক ও সীমালঙ্ঘনের পর্যায়ে চলে গেছে। আমার কোন্ কাজ আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। তদনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। মুমিন ভুল করবে, কিন্তু ভুলের ওপর স্থির থাকবে না। এটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নেককাজ করে আমরা অনেক বেশি খুশি হই। কিন্তু গুনাহ করে বা বাড়াবাড়ি করে আমরা দুঃখিত মনে হয় সেই অনুপাতে হই না; এটি আফেসোসের বিষয়। গুনাহ করে বরং অনেক বেশি দুঃখিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল। ক্ষতিপূরণের জন্য অস্থির হওয়া উচিত ছিল। দেখতে হবে এ অবস্থায় আমার কী হচ্ছে — আমি কি খুব দ্রুত তওবা-ইস্তেগফার করছি নাকি তওবা করতে কাল-বিলম্ব করে যাচ্ছি। দ্রুত তওবা সংশোধনকে ত্বরান্বিত করে। আর তওবা-ইস্তেগফারে অবহলো ও কালবিলম্ব করা সংশোধন ও আল্লাহর পথে অগ্রসর হওয়ার পথে বাঁধা ও অন্তরায় সৃষ্টি করে।

One thought on “প্রতিদিনের উপকারি মুরাকাবা (চিন্তা ও ধ্যান) – ১

  • Hey Allah apney amader sokor gujar banda hisavey kobul korun ameen

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *