প্রতিটি কাজ: আশা আর ভয় নিয়ে

যেকোনো কাজ বড়ই আশা আর ভয় নিয়ে করা দরকার। যেমন, আমি দ্বীনের কাজ কেন করবো? হা – নিজের নাজাতের জন্য।

এই কথাটি খুব ছোট এবং পুরনো মনে হতে পারে। কিন্তু, বার বার এর মুরাকাবা (চিন্তা ফিকির) করা চাই!

আমি নামায পড়লাম, তেলাওয়াত করলাম, তালীম দিলাম, তাবলীগে নিয়োজিত হলাম – সবই আমার নিজের ফায়দার জন্য! আল্লাহ তাআলা আমার উপর রাজী হন! আমার নাজাত মিলে যাক! আল্লাহ তাআলার কি আমাদের ইবাদাতের দরকার? উনি কি আর আমাদের কারো মুখাপেক্ষী? কখনোই নয়।

কাকরাইলের একজন মুরুব্বী ছিলেন, ভাই আযীযুল মাকসুদ (রহ:)। উনি বলতেন, ইখলাস পয়দা করার জন্য, যেকোনো কাজ করার আগে মনে মনে বলো, “লিল্লাহি তাআলা” – আল্লাহ-র জন্য, অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য। কি সুন্দর পথনির্দেশ!

আমরা সবাইতো সব বিষয়ে সেই আল্লাহ তাআলা-র সন্তুষ্টিরই মুখাপেক্ষী। হযরত আবু বকর (রা:)-এর একটি কথা বলেছেন হযরত আবদুল হাই আরেফী রহ:, উনার প্রিয় খলীফা – মুফতী তাকী উসমানী দা: বা:-কে। মুফতী তাকী উসমানী দা: বা: বলেছেন তার এক বয়ানের মধ্যে। কথা সার হলো: প্রতিটি কাজ করার পর, শুকরিয়া আদায় স্বরূপ একবার বলো ‘আলহামদুল্লিাহ্’, অর্থাৎ, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলারই! আর, একবার বলো ‘আস্তাগফিরুল্লাহ্’, অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি আমায় ক্ষমা কর!

বান্দার কাজই এই! সে প্রতিটি কাজই করে আশা নিয়ে – আমার আল্লাহ কবুল করবেন! আবার ভয় থাকবে – হায় আমার ত্রুটি আর গুনাহ্-র কারণে মাহরুম (বঞ্চিত) না হয়ে যাই! এই চিন্তাটি বান্দাকে তার অভীষ্ট লক্ষে পৌছে দিবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *