প্রকৃত ভালোবাসা

একবার এক আল্লাহ্ ওয়ালা আলেমের কাছে এক যুবক এলো। সে অত্যন্ত পেরেশান। আলেম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন – কী হয়েছে? সে বলল, হযরত! সব শেষ…। আমাকে তাড়াতাড়ি এমন এক পথ বাতলে দিন যেন আমি এ থেকে নিস্তার পাই! আমি যার পেছনে লম্বা এক সময় হন্যে হয়ে ঘুরেছি, যার জন্য জীবনের অনেক কিছু ত্যাগ করেছি – আজ সে আমার সমস্ত স্বপ্নের মধ্যে ছাই ঢেলে দিয়েছে, সে আমাকে ছেড়েই চলে গেছে! আমার জীবনের সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষটি আমার জীবনে আর নেই….এই জীবন দিয়ে তাহলে আর কী হবে?! আমাকে আত্মহত্যার অনুমতি দেয়া যায় কি?? এই জীবন এখন আর ভাল লাগে না। এই জীবন এখন সম্পূর্ণ বৃথা বলেই মনে হয়।

ঐ আলেম বললেন, ও: এই বিষয়! বেটা তুমি কেমন ব্যক্তিকে ভালবাসলে?! তোমার অন্তর কেমন ভালোবাসার জন্য ওয়াকফ্ করলে…এই ভালোবাসার তো আজ না হয় কাল এই পরিণতি হবেই, তা কি তোমার জানা ছিল না? যুবক বলল, না, একদমই জানা ছিল না। আলেম বললেন, এখনও কি তুমি এমন কারো ভালোবাসা চাও যার ব্যাপারে এই আশঙ্কা আছে যে, সে তোমাকে যেকোন সময় ছেড়ে দিয়ে চলে যাবে? যুবক একদমই দৃঢ়তার সাথে বলল, অসম্ভব হযরত! কখনোই না। দ্বিতীয় বার এই ভুল??! হতেই পারে না। আলেম তখন বললেন, তাহলে তো হলই, যাও এখন। যুবক বলল, কিন্তু হযরত! আমি এখন কিভাবে বাঁচব? আপনি যে বললেন এমন কারো ভালোবাসা চাও…সবাই কি তাহলে এমনই নাকি?? এমন আবার কে যার বিষয়ে এই আশঙ্কা নেই?! তাকে খুঁজব কিভাবে? সবারই তো এমনটাই হবে? নাকি? তাহলে তো কাউকে ভালোবাসাই দায়?!

আলেম তখন বোঝালেন, বেটা দেখ! মানুষের সাথে, বিশেষ করে তুমি যে ভালোবাসার পথ ধরেছ – এমন ভালোবাসা তা কোনদিনই নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়ার কোন পথই নয়। এ পথে যেকোন পক্ষই আশঙ্কায় থাকবে। আজ না হয় কাল, এখন না হয় তখন, যেকোন পক্ষ ছেড়ে চলে যেতেই পারে! শুধুই দুনিয়ার জন্য যে ভালোবাসা, তার এটাই নীতি। তুমি যতই পাগলপারা হও – লাভ নেই। অথচ এমন ভালোবাসার পিছনেই বেশির ভাগ মানুষ বেগার খাটছে! এই যেমনটা তুমিও খাটলে! এই পথে কেউ যদি দুনিয়াতে মৌজ-মস্তি কিছু করেও ফেলে – খুব শীঘ্রই এগুলোর ভয়াবহ হিসাব সামনে আসবে। শান্তভাবে এটা ভাব। আর যদি খাঁটি ভালোবাসা চাও, চাও চিরন্তন ভালোবাসা – তাহলে তো তুমি মুসলমান। তোমার অন্তর তো মূলত তাঁর জন্যই যিনি ‘ভালোবাসা’র সৃষ্টিকর্তা! অন্য যত সঠিক ও সত্য ভালোবাসা দুনিয়াতে রয়েছে, সবই কেবল তাঁর সেই ভালোবাসার অধীন! অতএব, মৌলিকভাবে তাঁকেই ভালবাস….তিনি এমন সত্ত্বা, যাঁকে ভালবাসলে কোনদিন তোমাকে ছেড়ে চলে যাবেন না! সেই ভালোবাসা বাদ দিয়ে যত ভালোবাসা মানুষ খুঁজবে – শুধু বিচ্ছেদ, বেদনার হাহাকার দেখবে আর নানান আশংকাই থেকে যাবে। আল্লাহর ভালোবাসা বাদ দিয়ে অন্য ভালোবাসা বেকার, দুনিয়াতে একটু সুখভোগ হলেও আখেরাতে তার জন্য আফসোস আর আযাব!

যুবক সম্বিৎ ফিরে পেল। সে বলে উঠল, জী হযরত..! আপনার কথা বুঝেছি। আল্লা্হর ভালোবাসা পেতে আপনিই আমাকে সাহায্য করুন! আমি এমন ভালোবাসাই চাই। আমি তাঁর পথে কেবল তাঁর প্রিয় পাত্রদেরই ভালোবাসা চাই। এর বিপরীত ভালোবাসাগুলি আসলেই মিথ্যা! [এই আল্লাহ ওয়ালা আলেম ছিলেন শায়খ জুনায়েদ বাগদাদি রাহিমাহুল্লাহ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *