পরামর্শ করে কাজ

প্রিয় নবীজী ﷺ পরামর্শ করে কাজ করতেন। অথচ আমরা জানি যে, প্রিয় নবীজী ﷺ এর উপর ওহী নাযিল হত।

পরামর্শ করে কাজ করা সুমহান একটি সুন্নত। দ্বীনি হোক বা দুনিয়াবি, আমাদের উচিত পরামর্শ করে কাজ করা।

পরামর্শ কার সাথে করব? যথাসম্ভব মুত্তাক্বী ও দ্বীনদার ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শ করা উচিত। যে আমাকে পরামর্শ দেবে কিন্তু কেবল জাগতিক লাভ-লোকসানের আলোকে – তার পরামর্শ নিয়ে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাস্তবে তার সিদ্ধান্তে কাজ করলে এ আশঙ্কাই বেশি যে, আমাকে দুনিয়া এবং আখেরাত – উভয় জগতেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। এমনটা হলে আমার পরামর্শ করে কাজ করার লাভ হলো কী? সমাধানের পরিবর্তে অসুবিধা ও বিপদ বেড়ে গেল!  এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে চরম ঔদাসিন্যতা বিদ্যমান। অর্থাৎ, আমরা এটা চিন্তাও করি না যে, কোন্ ব্যক্তি আমার জন্য সঠিক পথপ্রদর্শক।

যদি বা কখনো আমরা দীনদার ও বুদ্ধিমান কাউকে পরামর্শের জন্য পেয়ে যাই ও সৌভাগ্যবশত তার সাথে বিস্তারিত পরামর্শও করি, তারপরও অনেক সময় আমরা কাজ করি নিজ বুদ্ধিতেই! তাহলে আর পরামর্শ করলাম কেন? এটা ঠিক যে সবক্ষেত্রে পরামর্শ গ্রহণের পরও সে অনুযায়ী পুরোপুরি কাজ করা সম্ভব হয় না। হঠাৎ কোনো বিশেষ অবস্থা উদয় হয়। কিন্তু পরামর্শ আবারও করা যায়। এতে অনেক সুচারুভাবে ও সবরের সাথে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। অভিজ্ঞ ব্যক্তির পথনির্দেশ নিয়ে কাজ করার মধ্যে যেমনি আছে শান্তি তেমনি আছে উভয় জগতের সফলতা। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এটা সুন্নত হওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলার রহমত এতে ব্যাপক।

মানুষ খুব সীমিত জ্ঞানের অধিকারী। যতটুকু সে ভাবতে পারে বা দেখে ততটুকুই তার চিন্তা ও প্রচেষ্টার সীমা। যেখানে ও যে সময়ে যে কাজটি সুন্নত তা করা মানে হলো, আমি সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করলাম। এভাবেই প্রতিটি সুন্নত অশেষ কল্যাণের দরজা খুলে দেয়!

সুন্নত অনুযায়ী আমলেই পার্থিব ও পরকালীন কল্যাণ নিহিত রয়েছে। একজন মুমিন এ বিশ্বাসই লালন করে ও সুন্নত অনুযায়ী আমল করে চির সফলতা অর্জন করে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *