পবিত্র রমযান আসছে: এখনি প্রস্তুতির সময়

পবিত্র রমযান আসছে…রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমযান আসছে। কুরআন নাযিলের মাস রমযান আসছে। তাকওয়া অর্জনের মাস রমযান আসছে। ইবাদতের মাস রমযান আসছে।

পবিত্র রমযানের প্রস্তুতি তো রজবের চাঁদ দেখা থেকেই শুরু হওয়ার কথা, তারপরও যদি না হয়ে থাকে – এখন আর কালক্ষেপণের সুযোগ কোথায়? প্রস্তুত হতেই হবে!

একজন মুসলমান মাত্রই সর্বাত্মক চেষ্টা করে বেশী থেকে বেশী আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল ﷺ এর আনুগত্যের। পবিত্র রমযানে পানাহার, স্ত্রী-গমন থেকে বিরত থেকে, নিজের ইসলাহ তথা সংশোধনের মাধ্যমে যেভাবে তা সম্ভব – বছরের অন্য সময় সেটা সম্ভব নয়। তাকওয়া অর্জনের জন্য এত মোক্ষম সুযোগ বছরের অন্য কোনও সময়ে সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের “তাকওয়া” অর্জনের তাগিদ পুরো কুরআনে বহুবার করেছেন, আর পবিত্র রমযান মাস দিয়েছেনই যেন আমরা তাকওয়া অর্জন করে মুত্তাকী হতে পারি।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের অধিকাংশের জীবনে পবিত্র রমযান ব্যাপকভাবে অবহেলিত, তাকওয়া অর্জনের বিপরীতে গুনাহ্ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা! আখেরাতের চিন্তা-ফিকির ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ার কারণে, দ্বীনের কাজে অবহেলার কারণে, আমাদের অন্তর আজ দুনিয়ার প্রতি ধাবিত। দুনিয়ার মাল, দুনিয়ার যশ, দুনিয়ার উন্নতির বাজার খুবই গরম! কিন্তু দ্বীনি-শিক্ষা, দ্বীনদারি, আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ, চিরস্থায়ী সাফল্য নিয়ে ভাবার মানুষ কম। পার্থিব উন্নতি তথা দুনিয়া অর্জনের জন্য দ্বীনকে যেভাবে কুরবানি করা হচ্ছে, দুনিয়াকে যেভাবে হালাল-হারামের সীমার বাইরে গ্রহণ করা হচ্ছে, এ কথা বলার আর সুযোগ কোথায় যে, “এই দুনিয়া করাটা” আমাদের দ্বীনেরই অংশ(?!)

এটা কোনভাবেই সহনীয় নয় যে, একজন ঈমানদার পবিত্র রমযানকে ব্যবসার অপূর্ব সুযোগ মনে করে মন-দেহ এই দিকে নিবিষ্ট রাখবে! এটা কোনভাবেই সহনীয় নয় যে, একজন ঈমানদার সাহরী-ইফতার তৈরি ও খাওয়ায় এতটা মগ্ন হবে যে, তার ইবাদত ব্যাহত হবে! এটা হতে পারে না যে একজন ঈমানদার এই পবিত্র রমযান মাসে নিকৃষ্ট স্থান বাজারে বাজারে অনর্থক ঘুরবে। বছরের অন্যান্য সময়গুলি অবহেলায় কাটল, এখন যদি পবিত্র রমযানও সেই একই ভাবে অতিবাহিত হয়ে যায়, তা নিতান্তই দু:খজনক!

ঐ হাদীসটি এখনই স্মরণ করার সময়, যেখানে প্রিয় নবীজী ﷺ তিনবার মিম্বরের তিন ধাপে পা রেখে তিন বার “আমীন” বলেছিলেন! তার মধ্যে একটি বদ-দোআ তো ঐ হতভাগার বিরুদ্ধে ছিল, যে কিনা পবিত্র রমযান পেয়েও নিজের ক্ষমা করিয়ে নিতে পারেনি।
রোযা তো ইনশাআল্লাহ আমরা রাখবই; তারাবীহ্ পড়ব, হালাল দ্বারা সাহরী-ইফতার করব, গীবত-শিকায়েত থেকে বেশী যত্ন সহকারে বিরত থাকব, সব গুনাহ ছাড়ব – কম-সে-কম একটি মাস! বেশী বেশী পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত করব। দান সদকা বাড়াব, তওবা করব, ইস্তেগফার করব – বিশেষভাবে ক্ষমা চাব সারা জীবনের গুনাহের জন্য। সাহরীর সময় উঠে তাহাজ্জুদ পড়ব। দোয়া-কান্নাকাটি বাড়াব। যিকির-আযকারে দিন-রাত অতিবাহিত করব। দরূদ শরীফ খুব বেশী পড়ব। নিজের সংশোধনের চিন্তা গভীরভাবে করব। শেষ দশকে ইবাদত বহুগুণ বাড়িয়ে দিব; সবচে’ উত্তম যদি এ’তেকাফ করতে পারি! এক কথায়, সাধ্য অনুযায়ী নেক আমল বাড়িয়ে দিব।

অনন্তকালের জন্য আখেরাতে পাড়ি জমাব আমরা। এটা জীবনের শেষ রমযান মনে করে আমল করব। ইখলাসের সাথে প্রতিটি আমল, তওবা, ইস্তেগফার, তিলাওয়াত ও দোয়ায় মগ্ন হব। আর এই চিন্তা-ফিকির-প্রচেষ্টা সামনে রেখে ঐ মাসে পার্থিব কাজে মনোনিবেশ করব কম; যা করতেই হবে, তা তো করব; কিন্তু পার্থিব কাজ যত কমানো যাবে ততই ফায়দা। এখনি সেইভাবে প্রস্তুত হওয়া চাই। আগে-ভাগেই রমযান আসার পূর্বে এমন সব কাজ করা চাই, যা রমযানে করলে ইবাদত বিঘ্নিত হবে।

আর সবচে’ বেশী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গুনাহ্ ছাড়ার ফিকির করা। গুনাহ তথা আল্লাহ তাআলার নাফরমানি পরিত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরী। নফল আমলগুলি কম হোক বা একেবারই না হোক, কিন্তু গুনাহ্ পরিত্যাগ করা হল – এটা বহু গুণে উত্তম গুনাহ্ জারী রেখে নফল আদায় করার চেয়ে। গুনাহ্ তো গুনাহ্ই! ঈমান নিয়ে দুনিয়ার থেকে যাওয়ার পথে গুনাহ্ মারাত্মক হুমকি; আর তো দুনিয়ার পেরেশানি, আযাব-গযব আছেই! রমযানে যত্ন সহকারে গুনাহ্ পরিত্যাগ অত্যাবশ্যকীয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের তৌফিক দিন পুরোপুরিভাবে গুনাহ্ ছেড়ে দেওয়ার! আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *