উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি (মৃ. ১০১ হিজরী : ৭২০ খৃস্টাব্দ)

পঞ্চম খলীফা রাশেদ। নবুওতের ধারায় প্রবর্তিত রাষ্ট্রশাসনের পঞ্চম শাসক। যুহদ ও দুনিয়া বিমুখতার সুতোয় তৈরী করেছিলেন পরিহিত কাপড়। যা অন্য কেউ পরিধান করেনি। চাটাইয়ের তখতে বসে দেশ শাসন করেছিলেন। ইতিহাসকে রাজত্বের ছিদ্রপথে না গলিয়ে যুহদ-অনাড়ম্বর আর ন্যায়-ইনসাফের পথে পরিচালিত করেছিলেন।
ন্যায় ও ইনসাফের বাতি দিয়ে জুলুমের অন্ধকার তিরোহিত করেছিলেন। কোন দিন কল্পনাও করেননি যে, একদিন কলম তাঁর সীরাত ও কাহিনী ইতিহাসের পাতায় পাতায় লিপিবদ্ধ করবে। তিনি মহৎ খলিফা, ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ, পঞ্চম নেক শাসক, উমর ইবনে আব্দুল আযিয। সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। মর্যাদা, তাকওয়া-পরহেযগারির ময়দানে উম্মতের অন্যতম ব্যক্তি। জন্মেছিলেন মদীনা শরীফ এলাকায়। নবুওয়তের সৌরভ আর স্মৃতির ইতিহাস যাঁর অন্তরে টইটুর ছিল। সোনার চামচ মুখে দিয়ে লালিত পালিত হয়েছিলেন। সাহাবা কেরামের ইলম আর তাবেঈনদের ইজতেহাদ যাঁর হৃদয়ে রেখাপাত করে ছিল।
ওয়ালীদের শাসনামলে তিনি মদীনা শরীফের গভর্নর ছিলেন। পরবর্তীতে সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক তাঁকে সিরিয়া বিষয়ক মন্ত্রী বানান। তিনিই তাঁকে পরবর্তীতে খলীফা বানানোর জন্য ওসিয়ত করে যান। ওসিয়ত অনুসারে দামেস্ক মসজিদে তাঁকে মুসলিম রাষ্ট্রের প্রধান শাসনকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তখন তিনি খলীফা হন।
শারীরিকভাবে তিনি খুবই ক্ষীণ ছিলেন। চোখগুলো কোটরগত ছিল। পাতল গড়নের সাদা শুভ্র ছিলেন। দেখতে বেশ চমৎকার এবং চারিত্রিক মাধুর্যময় ছিলেন। ন্যায় ও যুহদের জগতে একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁর শাসনামলে নেকড়ে ও মেষ-ছাগল একত্রে চরে ফিরে খেতো। রাজ্যজুড়ে ধনসম্পদের প্রাচুর্য ছিল। (শাসনের দাপটে নয় বরং ন্যায় ও ইনসাফের জোরে বাঘে গরুতে একঘাটে পানি খাওয়ার এক অনন্য ও বিরল দৃষ্টান্ত ছিল তাঁর আমলে)
মহীয়সী মাতা: উম্মে আ’সেম বিনতে আ’সেম। যিনি হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর নাতনী ছিলেন।
তাঁর রাজত্বকাল ছিল আড়াই বছর। উমর ইবনে আব্দুল আযীযের মাহাত্ম হিসেবে বর্ণনা করা হয় যে, তিনি ছিলেন যুহদ ও সাধনার জগতে অনুসরণীয় পৃথিকৃত। দুনিয়া যাঁর সামনে সেজেগোছে এসেছিল। লুটিয়ে পড়েছিল তাঁর পদযুগলে। কিন্তু তিনি ভ্রক্ষেপই করেননি। এই তো রোম সম্রাট দুঃখে কাতর হয়ে বসে আছেন। রাজ্যের দুশ্চিন্তা তাঁর মনে, দু’তালুর মাঝে মাথা ফেলে দিয়ে চিন্তিত। জিজ্ঞেস করলে, জবাব দিল, একজন মহৎ মানুষ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। লোকজন জিজ্ঞেস করলো, কে সেই লোক? বাদশাহ বললেন, উমর ইবনে আব্দুল আযীয। এরপর বললেন, ঈসা ইবনে মারইয়ামের পর কেউ যদি মৃত লোকদেরকে জীবিত করতে পারতো, তো আমার বিশ্বাস তিনি হলেন উমর ইবনে আব্দুল আযীয। লোকসমক্ষে আরও বললেন, দরজা বন্ধ করে দুনিয়া বিমুখ সন্নাসী দেখে আমি বিস্মিত হয়নি। আমি বিস্ময়াভিভূত হয়েছি সেই সাধক দেখে, যাঁর পদতলে দুনিয়া ঘুর ঘুর করেছে আর তিনি তা উড়িয়ে দিয়েছেন। দুনিয়া পেয়েও যিনি সাধক হয়েছেন তিনি আমার কাছে বড় সাধক।
এই তো মালিক বিন দীনার যুহদ ও দুনিয়া বিমুখতার বর্ণনা দিচ্ছেন উমর ইবনে আব্দুল আযীযের নিকট। লোকদের মাঝে বসে বলতে লাগলেন, মানুষ বলে, মালিক বিন দীনার যাহেদ-সাধক। (আমি বলি) আসল যাহেদ হলো উমর ইবনে আব্দুল আযীয। তাঁর কাছে দুনিয়া এসেছিল কিন্তু তিনি তা পরিত্যাগ করেছেন। তিনি রাজত্বের ভূষণ কাঁধ থেকে নামিয়ে ফেলেছেন। খুলে ফেলেছেন অহঙ্কারের চাদর। আত্মপ্রতারণার শিকার হননি।
যখন উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ. সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিককে সমাহিত করে কবর থেকে উঠলেন, মাটি থেকে ধপাস করে একটা আওয়াজ শোনতে পেলেন। কেমন যেন বড় কোন ঘটনা সংঘটিত হলো। তিনি বললেন, কিসের এই আওয়াজ? লোকজন বলল, আমীরুল মুমিনীন! এসব আপনার আরোহণের বাহন। আপনার কাছাকাছি এসেছে চড়ার জন্য। একথা শোনার পর তাঁর হৃদয়জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলো। তিনি বললেন, আমার সাথে এসব বাহনের কী সম্পর্ক ? এগুলো আমার থেকে সরাও। আমার বাহনের খচ্চর হাজির করো। আনা হলো খচ্চর। তিনি তাতে সওয়ার হলেন। আল্লাহ্ ভীতির ভূষণ নিয়ে অশ্বতর চড়লেন। দেহরক্ষী হাতিয়ার নিয়ে সম্মুখে চলতে উদ্যত হলে তিনি চেঁচিয়ে বললেন, আমার সামনে থেকে সরো। আমার সাথে হাঁটবে না। আমি একজন সাধারণ মুসলমান…..
তিনি চললেন খচ্চর আরোহণ করে। ঈমানের আভা ছড়িয়ে এগিয়ে চললেন ধুলা মাড়িয়ে। বিনয়ের মূর্তপ্রতীক হয়ে। কখনও উদরপূর্তি আহার গ্রহণ করেননি। তিনি বলতেন, দুর্ভোগ সেই ব্যক্তির যার উদরপূর্তি নিয়ে সর্বাধিক মাথা ব্যথা। জনৈক ব্যক্তি হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহ.-এর নিকট বলল, আহার বর্ধক দাওয়াই আপনার জন্য প্রস্তুত করে দিই? এতে আপনার খাবারের প্রতি রুচি বাড়বে। মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, আহার টনিক দিয়ে আমি কী করব? টয়লেটে গিয়ে আমি পরিণতি নিয়ে চিন্তা করে কূলকিনারা পাই না। ভেবে ভেবে সারা এটাই জাগতিক দৌড়ঝাঁপের শেষ কথা !
তিনি আত্মার বিশুদ্ধি ও সাধনাকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানিয়েছিলেন। শরীরকে বেঁচেবর্তে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন। বাড়িঘর নির্মাণ নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত করেননি। তিনি বলতেন, দুনিয়া ও দুনিয়ার যাবতীয় অর্থসম্পদ ও বিষয়-আশয় থেকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত ও আদর্শ অনেক অনেক উত্তম। তাই তিনি কখনও ইমারত তৈরি করেননি। নেও কাটেননি কোন ঘরের। বুনিয়াদ রাখেননি কোন বাসা-বাড়ির।
জনৈক যাকাত কর্মকর্তা পত্র লিখে জানালেন, তাদের শহরে ফাটল দেখা দিয়েছে। তিনি উত্তরে জানালেন, তাকওয়া দিয়ে সুদৃঢ় করো এবং জুলুম-নির্যাতন থেকে সড়ক-মহাসড়কগুলো সাফসুতরা করো নাও।
তিনি ছিলেন আধ্যাত্মিক হেকিম। লোকজনকে পরকালের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন। আমল ও ধর্মকর্ম করার তাগিদ দিতেন। একবার যাকাত আদায় সংক্রান্ত জনৈক দায়িত্বশীল লোকের বিরুদ্ধে নালিশ আসে হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ. এর কাছে। তিনি তাকে পত্র মারফতে জানালেন, ভাই! তোমাকে স্মরণ করছি রাতভর। মনের কল্পনার জগতে ভাবলাম জাহান্নামে জাহান্নামীদের চিরদিন অবস্থানের কথা।
দায়িত্বশীল ব্যক্তি পত্র পড়ে দেশ ছেড়ে দিল। এসে হাজির আমীরুল মুমিনীনের নিকট। উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ. তাকে বললেন, কেন আসছো? আপনার চিঠি আমার অন্তরকে মুক্ত করে দিল। আমৃত্যু আর কখনও সরকারি কোন কাজে যোগদান করবো না।
একবার উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ.-এর কানে আসল যে, তাঁর ছেলে একহাজার দিরহাম মূল্যমানের পাথরমণি দিয়ে একটি আংটি বানিয়েছে। এ কথা শোনে তিনি চিঠি লিখলেন, জানতে পারলাম, তুমি একহাজার দিরহাম দিয়ে একটি আংটি তৈরি করেছো। আমার চিঠি পাওয়ামাত্র আংটিটি বিক্রি করে দিবে। তার বিনিময়ে একহাজার লোককে তৃপ্তিভরে আহার্য দান করে দিবে। মাত্র দুই দিরহাম দিয়ে আংটি বানিয়ে নিবে। পাথরটি হবে লোহার। তার উপর লিখে রাখবে 🙁 رَحِمَ اللهُ امْرَءًا عَرَفَ قَدْرَ نَفْسِهِ ) আল্লাহ্ রহম করুন সেই ব্যক্তির উপর যে নিজের মর্যাদা উপলব্ধি করতে পেরেছে।
তাঁর তাকওয়া-তাহারাত ছিল অতুলনীয় ধরনের। সংবেদশীল পরহেযগারির পরাকাষ্ঠা তিনি দেখিয়েছিলেন। এসব কিছুর কারিগর তিনি নিজেই। আকল-বুদ্ধির ছাড়িয়ে ছিল সেই তাকওয়া। নবী ও রাসূলদের তাকওয়ার ন্যায় তাঁর তাকওয়া ছিল। একবার গনীমতের কস্তুরি উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ.-এর নিকট আসল। তিনি নাক চেপে ধরলেন। বললেন, এই কস্তুরির ঘ্রাণ কেবল সেই নিতে পারবে যে এর মালিক। মুসলমান ব্যতীত এর ঘ্রাণ নিতে আমার কাছে খারাপ লাগে। একা আমি তার সুবাস নিতে পারি না। কারণ এতে সকল মুসলমানের হক রয়েছে। তিনি বড় মাপের মুত্তাকি ছিলেন। রাষ্ট্রীয় কোন উট বা সম্পদ কখনও নিজের কাজে ব্যবহার করতেন না। একবার যাকাত বিভাগের এক কর্মকর্তাকে পত্র লিখে মধু কিনে আনার জন্য বললেন। তিনি সেই মধু আনলেন। রাষ্ট্রীয় কোন অর্থকড়ি সেই কাজে লাগাননি। তবে একমাত্র রাষ্ট্রীয় ডাকবিভাগে ব্যবহৃত উটের সাহায্যে সেই মধু পাঠালেন। তিনি বললেন, কেমন বাহনের মাধ্যমে এই মধু এসেছে? লোকজন বলল, ডাক বিভাগের উটের সাহায্যে। তিনি সেই মধু বিক্রি করার নির্দেশ দিলেন, যার মূল্য তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিলেন।
বিনয় ও নম্রতার মুকুট দিয়ে নিজের হৃদয় ও আত্মাকে সুসজ্জিত করেছিলেন। মানুষকে শিখাতে থাকলেন বড় হওয়ার আসল সূত্র। নিজের কর্মকা- দিয়ে লিখতে থাকলেন রাজা-বাদশাহদের বিনয়ের ইতিহাস। একবার বসে বসে কি জানি লিখছেন। পাশেই এক মেহমান। বাতির জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে তা নিভে যাওয়ার উপক্রম হল। মেহমান বললেন, বাতির প্রয়োজনীয় জ্বালানির ব্যবস্থা করে দিবো? তিনি বললেন, না। মেহমানকে কোন কাজে লাগানো কোন শালীনতা নয়। মেহমান বললেন, তাহলে কাজের লোককে জাগিয়ে দিই? তিনি বললেন, সে এইমাত্র ঘুমিয়েছে। কাঁচা ঘুম থেকে তাকে উঠানো ঠিক হবে না। এ কথা বলে উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ. নিজেই চেরাগে তেল ঢেলে মেহমানের পাশে এসে বসলেন। মেহমান বলল, আমীরুল মুমিনীন আপনি নিজেই করলেন এই কাজ? তিনি বললেন, যখন জ্বালানি আনতে গিয়েছিলাম তখন আমি উমর ছিলাম। যখন ফিরে আসি তখনও আমি উমর।
মাসলামা ইবনে আব্দুল মালিক প্রবেশ করলেন উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ.-এর বাড়িতে। তিনি বাড়ির এক কোণে বসে আছেন। পরনে একটি তহবন্দ। মাসলামা মনে করলেন তিনি অসুস্থ। জিজ্ঞেস করলেন, কি অবস্থা আমীরুল মুমিনীন? উত্তর দিলেন, কোন অসুবিধা নেই। তবে কাপড় শুকানোর অপেক্ষায় আছি। মাসলামা বললেন, আরেকটা জামা বানিয়ে নেন। এ কথা শুনে তিনি কাঁদতে লাগলেন। দাড়ি বেয়ে চোখের পানি পড়তে লাগলো। বারবার এই আয়াত পড়তে লাগলেন : تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
‘এটা আখেরাতের সেই আবাস যা আমি নির্ধারিত করি তাদের জন্য যারা এই পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।’ (সূরা কাসাস, আয়াত : ৮৩)
একবার তিনি অসুস্থ। ক্ষীণ ও কমজোর শরীর নিয়ে বিছানায় শায়িত। নিজের চাচাত ভাই ও শ্যালক মাসলামা ইবনে আব্দুল মালিক দেখতে আসল। লক্ষ্য করে দেখেন, তাঁর গায়ে ময়লা জামা। তিনি তার বোনকে বললেন, ফাতেমা, আমীরুল মুমিনীনের জামাটা ধুয়ে দাও। ফাতেমা বললেন, এখনই ধুয়ে দিচ্ছি। পরবর্তীতে মাসলামা ইবনে আব্দুল মালিক এসে দেখেন তাঁর গায়ে সেই পুরনো মলিন জামা। ধমকের স্বরে নিজের বোনকে বললেন, তোমাকে না বললাম, আমীরুল মুমিনীনের জামাটা ধুয়ে দাও। লোকজন তাঁকে দেখতে আসবে? ফাতেমা দুঃখের সাথে বললেন, কসম, তাঁর তো অন্য কোন জামা নেই।
মৃত্যুকালে তিনি কাঁদলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আমীরুল মুমিনীন কেন কাঁদছেন? সুসংবাদ গ্রহণ করুন। খুশির সংবাদ আপনার জন্য। কারণ আপনার দ্বারা আল্লাহ্ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক সুন্নাত ও আদর্শ জীবিত করেছেন। তিনি আপনার মাধ্যমে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
এ কথা শোনে আরও কাঁদতে লাগলেন। বললেন, আমাকে কি সৃষ্টিকুলের হালত জিজ্ঞাসা করার জন্য দাঁড় করানো হবে না? পরক্ষণে বললেন, আমাকে একটু বসাও। লোকজন তাঁকে ধরে বসালেন। তিনি ভীতসন্ত্রস্ত আশাবাদী হয়ে (গুণহের) স্বীকারবোধ নিয়ে বললেন, আপনি তো আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন কিন্তু আমি গাফলতি করেছি। আপনি আমাকে নিষেধ করেছিলেন কিন্তু আমি নাফরমানি করেছি। এ কথা তিনবার বললেন। এরপর বললেন, যাই হোক, আল্লাহ্ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি একমাত্র উপাস্য।
এরপর চারপাশের লোকজনকে আকার-ইঙ্গিতে বললেন, তোমরা বের হয়ে যাও। আমি একটি দল দেখতে পাচ্ছি, যাঁরা মানুষও নয় জিনও নয়। লোকজন বের হয়ে গেল। তারা বাইরে অপেক্ষা করতে লাগল। পাশে থাকলো কেবল কাজের লোকটি। তিনি বারবার এই আয়াতটি তেলাওয়াত করতে লাগলেন :
تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ ‘এটা আখেরাতের সেই আবাস যা আমি নির্ধারিত করি তাদের জন্য যারা এই পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।’ (সূরা কাসাস, আয়াত : ৮৩)। এরপর কাজের লোকটিও বের হয়ে গেল। উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ. বাইরে অপেক্ষামান বিশেষ দলকে ভিতরে প্রবেশ করতে ইঙ্গিত করলেন। তাঁরা ভিতরে প্রবেশ করলেন। এরই মধ্যে তিনি দুনিয়া থেকে চলে গেলেন। কিবলামুখী হয়ে শায়িত। আগ্রহ আর বাসনার ডানায় ভর দিয়ে তাঁর পূত-পবিত্র আত্মা চলে গেল ঊর্ধ্বাকাশে। নিথর দেহকে বিদায় জানালেন। হিজরী ১০১ সালে নশ্বর এই জগত ছেড়ে চলে গেলেন পরলোকে।