নিশ্চই আমার রব আমাকে দুটি জান্নাত দিয়েছেন

হযরত ইবনে উমর রা.-এর শাসনামলে এক যুবক মসজিদে ইবাদত করত। হযরত উমর রা. তার ইবাদত দেখে বিস্মিত হতেন। যুবকের পিতা বড় কমজোড় হয়ে গিয়েছিলেন। যুবক ইশার নামাযের পর পিতার খেদমত করতে চলে যেত। তার গমন পথে এক রমণী তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল। তারপর থেকে সেই রমণী সেই যুবককে তার দিকে আহবান করত। বিভিন্নভাবে, হাসি কৌতুক করে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালাত। একদিন সেই যুবক রমণীর সাথে তার বাড়ীতে চলে গেল। যুবক রমণীর বাড়ীতে প্রবেশ করার মুহূর্তে এই আয়াতটি তার মনে পড়ল: ان ا لذين اذا مسهم طا ئف من الشيطا ن تذ كر وا فا ذاهم مبصر ون অর্থ: যারা খোদাভীরু, যখন তাদের মধ্যে শয়তানের পক্ষ হতে সংশয় সৃষ্টিকারী পয়দা হয়, তখন তারা স্মরণ করে ও স্পষ্টভাবে (প্রকৃত বিষয়টি) দেখতে পায়।

এই সময় তার অন্তরে আল্লাহ তাআলার ভয় এমন প্রবলভাবে উদয় হলো যে, সে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। এদিকে তার ঘরে ফিরতে দেরি হওয়ায় তার পিতা সন্তানের খোঁজে বাইরে বের হয়ে এক স্থানে ছেলেকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখলেন। তিনি ছেলেকে সেখান থেকে বাড়ী নিয়ে আসলেন। দীর্ঘ সময় পর ছেলেটির জ্ঞান ফিরল। পিতা ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন, সত্য করে বলো তোমার কি হয়েছিল? যুবক তখন সেই আয়াতটি পাঠ করল এবং মাটিতে পড়ে গিয়ে ইন্তেকাল করল।

যুবকের ইন্তেকালের পর লোকেরা তার গোসল ও কাফন দেয়ার পর দাফন সম্পন্ন করল। পরদিন সকালে এক ব্যক্তি হযরত উমর রা. কে এই ঘটনা জানালে তিনি সমবেদনা প্রকাশের জন্য যুবকের পিতার কাছে গিয়ে বললেন, ঐ সময় আমাকে কেন সংবাদ দেয়া হলো না? পিতা বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! তখন রাত ছিল, আপনার কষ্টের কথা বিবেচনা করেই সংবাদ দেইনি। হযরত উমর রা. যুবকের কবরের কাছে যেতে চাইলেন। কয়েকজন সাহাবীসহ তিনি কবরের কাছে গিয়ে পাঠ করলেন: و لمن خا ف مقا م ربه جنتا ن অর্থ: যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের নিকট দাঁড়ানোকে ভয় করে, তাঁর জন্য দুটি জান্নাত (সূরা আর্ রাহমান)। হযরত উমর রা.-এর এই আয়াত পাঠের পর কবর থেকে যুবকের আওয়াজ শোনা গেল: হে উমর! নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে দুইটি জান্নাত দিয়েছেন!

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি রহ.: রচিত “নুরুছ্ছুদুর” এর উর্দু “কবরকে হালাত”-এর বাংলা তরজমা “কবর জগতের কথা” – হাফেয মোহাম্মদ খালেদ (দা. বা.), মোহাম্মাদী লাইব্রেরী, চকবাজার – থেকে সংকলিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *