নিজ কাজে আত্মনিয়োগ ও নিবিষ্টতা: পরিশুদ্ধির অন্যতম পথ – ১

বর্তমান সময়টি আমাদের জন্য খুব নাজুক।
এক দিকে ব্যক্তিগতভাবে আমরা পরিশুদ্ধ নয়, অন্য দিকে চারপাশে কত রকম অবস্থা ও কত ধরণের আলোচনা! এর মাঝে আমাদেরকে ঈমান রক্ষার জন্য সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। সংশোধনে নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চিন্তা, কথা ও কাজে আরও বেশি সতর্ক হয়ে যেতে হবে। তা না হলে ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণভাবে আজ আমরা এতটাই অসতর্ক যে, কথা ও কাজের মাধ্যমে নিজের তো ক্ষতি করছিই, অন্যদেরও ক্ষতি করছি। কখন কোথায় কাকে কী বলছি বেশি চিন্তা-ভাবনা করে বলছি না। বরং চিন্তা করে কথা বলার সুন্দর অভ্যাস আমাদের মধ্যে আজ যেন বিলুপ্তপ্রায়।
যবান ও কলমের হেফাজত অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি কথা বার বার স্মরণ করা দরকার, যা বলছি, লিখছি – এগুলো হয় আমার পক্ষে, না হয় আমার বিপক্ষে স্বাক্ষী হয়ে যাচ্ছে।
আমাদের সালাফে সালেহীনকে আমরা যদি অনুসরণ করতে চাই তাহলে দুটি সহজ কাজ করতে পারি! একটি হল, বেশি চুপ থাকার অভ্যাস করা। আরেকটি হল, আমাদের সালাফে সালেহীনের জীবনী ও বইসমূহ অধ্যান – খুব মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকা।
উচ্চ পর্যায়ের মানুষ যারা, তাদের দায়-দায়িত্ব অনেক বেশি। তারা সেজন্য অনেক ব্যস্ত ও কাজে নিবেদিত। তাদের সাথে আমাদের কী তুলনা হয়?! তাদের কাছ থেকে আমাদের পরামর্শ এবং দিক-নির্দেশনা নিয়ে পথ চলা উচিত। তারা যদি আমাদের কোনো কাজের পরামর্শ অথবা নির্দেশ দিয়ে থাকেন (যেটার আমরা মুখাপেক্ষীয়ও বটে), আমাদের উচিত তাদের আজ্ঞাবহ হয়ে চুপচাপ কাজ করে যাওয়া – এটাই আমাদের – ছোটদের দায়িত্ব। সেই কাজের বাইরে অন্য কাজ করা এবং/ অধিক কথা বলার মধ্যে ফেতনায় (পরীক্ষায়) পতিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। শয়তান আমাদেরকে এ উস্কানিই দেয়, অর্থাৎ, আমরা মূল কাজ বন্ধ করে অপ্রয়োজনীয় কাজ ও কথায় লিপ্ত হয়ে যাই। অথচ এগুলো জীবন থেকে বাদ দিলে অনেক রকম পেরেশানী থেকে আপনা-আপনিই মুক্তি মেলে। তখন সহজে জীবনে পরিশুদ্ধিও আসতে থাকে!
আল্লাহ পাক আমাদের হেফাজত করুন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *