নিজের হিসাব ও উপকারী চিন্তা-কাজে আত্মনিয়োগ

নেক আমল, নফল ইবাদত ইত্যাদি সম্পন্ন করার জন্য আপনার কতটুকু অবসর, সুস্থতা ও আনুকূল্য প্রয়োজন? একটু থামুন। চিন্তা করুন – গভীরভাবে।

পুরো উম্মতের মাঝে কি আপনি সবচেয়ে দুখি মানুষ? আপনার জান-মাল কি অনেক হুমকির সম্মুখীন? আপনি কি যুদ্ধ-বিগ্রহ কবলিত এলাকার বাসিন্দা? শত্রু কি আপনার নাকের ডগায় এসে বসে আছে আর অবস্থা এমন যে, যেকোন সময় আপনি তার দ্বারা মহা-ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায়? নাকি পুরো উম্মতের মাঝে আপনি ব্যস্ততম ব্যক্তির অন্যতম? নাকি আপনি হাসপাতালের বিছানায় ভীষণ ব্যথায় কাতড়াচ্ছেন? অথবা বড় কোন রোগে ভুগছেন? নাকি আপনি এখন বড় কোন জুলুমের শিকার হয়ে কারাগারে আবদ্ধ? (এমন যেকোন অবস্থায় থাকলে আল্লাহ তাআলার কাছে আপনার পূর্ণ নিরাপত্তা, শান্তি, সুস্থতা ও মুক্তি কামনা করছি, দোআ করছি যেন দ্রুত আপনার এই বিপদ, কষ্ট ও উৎকন্ঠা দূর হয়ে যায়! হে আল্লাহ, তুমি দুস্থ, নিপীড়িত, বিপদগ্রস্ত, অসুস্থ, চিন্তান্বিত প্রত্যেক বান্দার কষ্ট দূর করে দাও। আমীন)

…..যদি আপনার অবস্থা এমন না হয়, তাহলে আর দেরি অথবা আলসেমি কেন? দুনিয়ার কাজ তো চলছেই – চলবে! কাজের ফাঁকে কুরআন পড়ুন। নফল নামাজ পড়ুন। ইস্তেগফার ও দোআ-দরূদ পড়তে থাকুন। হালাল-হারামকে সাধ্য অনুযায়ী বেছে চলুন।

আরেকটি কথাও বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। দুনিয়ার জীবন অবিচ্ছেদ্য সুখ অথবা দুখের নয়। সম্পূর্ণ প্রতিকূলতামু্ক্ত নয়। প্রত্যেক উম্মতই নানান অবস্থা ও প্রতিকূলতায় রয়েছে। কেউই বলতে পারবে না আমি জান্নাতি আনন্দ পৃথিবীতে পেয়ে গিয়েছি! বিপদাপদের দেয়ার মাঝে আল্লাহ তাআলার হেকমত ও নিগূঢ় রহস্য বিদ্যমান। বিপদ যদি চলেই আসে তখন শুধু হা-হুতাশ করে লাভ হবে কী?! আর দুনিয়ার জীবন শেষ হয়ে গেলে তো গেলই! আর কোনোদিন তা ফিরে পাওয়া যাবে কি?

তাই যে সময়টুকুই পাওয়া যাচ্ছে সেটা কাজে লাগাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *