ধোঁকার সব বস্তু আর কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরী

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের পবিত্র রমযান মাসে অপ্রয়োজনীয় ও গুনাহের কাজ তো ছাড়বই ইনশাআল্লাহ, পার্থিব প্রয়োজনীয় কাজগুলিতেও কম সময় দিয়ে ইবাদতেই অধিক মনোযোগী হব ইনশাআল্লাহ (তবে যার যে দ্বায়িত্ব রয়েছে, তা অবহেলা করে অবশ্যই নয়)।

যে কাজগুলি সাধারণত আমাদের প্রচুর সময় নষ্ট করে এবং শুধু পবিত্র রমযানে বলব কেন, বছরের বাকি এগারো মাসও আমরা যেই কাজগুলি করে আমরা নিজেদের সমূহ ক্ষতি করে থাকি, তার মধ্যে অন্যতম হলো:

পত্র-পত্রিকা পড়া, Internet/google/facebook -এর যত্রতত্র ব্যবহার, mobile ফোনে আলাপচারিতা, আড্ডা-গল্প-গুজবে কালক্ষেপণ, বাজার সদাই-এ ব্যস্ত হয়ে পড়া, ব্যবসার জন্য পাগল-পাড়া হওয়া। শয়তান অতি চালাক ও ধোঁকাবাজ। সারা বছর এমনভাবেই সে আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করে যেন রমযান মাসে সে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আমরা তার সবক না ভুলি! আমরা এই একটি মাস যদি নিজেকে তার ধোঁকাবাজির সবক থেকে নিজেকে বিরত না রাখতে পারি, তাহলে আমরা কেমন মুসলমান হলাম?!

যেখানে ইফতারির সময় অসংখ্য জাহান্নামীকে আল্লাহ তাআলা মুক্তি দিবেন, যে মাসে আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত নাযিল হতেই থাকে – আসমানের দরজাগুলি সব খোলা থাকে, জান্নাতের আটটি দরজা উন্মুক্ত থাকে, দোযখের সাতটি দরজা থাকে বন্ধ….সেই মাসকে কিভাবে আমরা অবহেলা করব! কম-সে-কম রোযা রাখি, তারাবীহ্ পড়ি, গুনাহ্ থেকে বাঁচি! এটাই আমার জীবনের শেষ রমযান হতে পারে, সামনের বছর আমি আর এই পৃথিবীতে নাও থাকতে পারি – এই চিন্তাটুকু করে হলেও পবিত্র রমযানকে রহমতের বিনিময়ে আমার আযাবের কারণ না বানাই! আল্লাহ তায়ালা বলেন:

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ فَلا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَلا يَغُرَّنَّكُمْ بِاللَّهِ الْغَرُورُ

অর্থ: হে মানুষ! নিশ্চই আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা সত্য। কোনভাবেই যেন পার্থিব জীবন তোমাদেরকে ধোঁকায় ফেলতে না পারে, আর আল্লাহ তাআলা সম্পর্কেও যেন সেই ধোঁকাবাজ (শয়তান) তোমাদেরকে ধোঁকায় ফেলতে না পারে, সে অতি বড় ধোঁকাবাজ। (সূরা ফাতির: ৫)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *