তওবার মাধ্যমে ফিরে আসি

রমযানুল মুবারক পাওয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। এই পবিত্র সময়টি অর্জনের জন্য রজব থেকে দু’আ করা হয়েছে। সাধারণত যেটা হয়ে থাকে – নেয়ামত হাতে চলে আসলে নেয়ামতের মূল্যায়ণ সঠিকভাবে করা হয় না। যখনই এই নেয়ামত হাতছাড়া হবে তখনই বোঝা যায় কত অমূল্য নেয়ামত হাতছাড়া হল! তাই নেয়ামত থাকা অবস্থায়ই আমাকে দেখতে হবে, আমি এ নেয়ামতের কতটুকু কদর করছি।
রমযানুল মুবারককে অবহেলা করার ফল:  রমযানুল মুবারক পেয়েও নিজের ক্ষমা করিয়ে নিতে না পারা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়! এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বয়ং জিব্রাইল আ. বদ-দু’আ করেছেন আর আল্লাহর রাসূল ﷺ আমীন বলেছেন; কত মারাত্মক কথা! 
কোন্ ক্ষতিতে বেশি প্রভাবিত: পার্থিব জীবনের সামান্য ক্ষতিতে আমরা চিন্তিত হই, কোন সমস্যা, অসুবিধা, রোগ-শোক কিংবা আর্থিক কিছু ক্ষতি হয়ে গেলেই মন অস্থির হয়ে উঠে। বিপদ দূর করার জন্য দু’আর মধ্যে লাগি, সমস্যা কাটিয়ে উঠার জন্য চেষ্টার অন্ত থাকে না। কিন্তু আখেরাতের ক্ষতি হলে হতে দেই – নেক আমল আর ইবাদতের বেলায় আমরা নানান ব্যাখ্যা দাঁড় করাই। পার্থিব ক্ষতিকে সেখানে বরং সেক্ষেত্রে “ওজর” হিসেবে পেশ করি। 
রমযানুল মুবারকের অমূল্য সময়েও যদি আমরা অবহেলার অভ্যাস জারি রাখি তাহলে এত নালিশ, অভিযোগ করে লাভ কি?! আল্লাহ তা’আলা সন্তুষ্ট হলেই তো মুসলমানের পার্থিব ও পরকালীন জীবন শান্তিময় হবে। তাঁকে অসন্তুষ্ট করে তো মুসলমান শান্তিই পেতে পারে না!   
এখন কী করণীয়: রমযানুল মুবারকে অধিক যত্নের সাথে তো গুনাহ থেকে বাঁচবই – জায়েয পার্থিব কাজগুলোও সংক্ষিপ্তভাবে সেরে নিব। বেশি থেকে বেশি নিজেকে তেলাওয়াত, যিকির, দু’আ, তওবা-ইস্তিগফার ও নামাযের মধ্যে নিবিষ্ট রাখব। চেষ্টা করে তারপর ওজরখাহি করা আর কিছুমাত্র চেষ্টা ছাড়া শুধু নিজেকে অপারগ, ব্যস্ত কিংবা দুর্বল বলে ঘোষণা দেয়া নিজের উপর জুলুম ছাড়া আর কিছু নয়। সবচেয়ে বড় কথা, আল্লাহ তা’আলা আমাদের প্রত্যেকের শক্তি, সাধ্য-সামর্থ্য দিয়েছেন, তিনি আমাদের সাধ্য-সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত। তাঁকে তো আর ফাঁকি দেয়া যাবে না! একই শক্তি, সামর্থ্য কিন্তু বহু জায়গায়, বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে! অথচ আল্লাহর জন্য এই শক্তি-সামর্থ্য কোথায় কতটুকু ব্যয় করছি আমি? এখনই তওবার মাধ্যমে ফিরে আসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *