চিন্তাগত ও কর্মগত ভ্রষ্টতা থেকে উত্তরণ জরুরী

আমাদের যে চিন্তাগত ও কর্মগত ভ্রষ্টতা পেয়ে বসেছে এর থেকে দ্রুত তওবা করতে হবে। আমরা উম্মতের খেদমত ও সংশোধনে ভূমিকা রাখতে চাই কিন্তু নিজের অবস্থার কোন উন্নতি চাই না – এ কেমন বিস্ময়কর ইচ্ছা ও মানসিকতা!

আজ আমরা মুসলমান চিন্তাই করছি দুনিয়ার মত করে! ইন্দ্রিয় শক্তির পূজারীদের মত করে আমি – একজন মুসলমান নানান বিষয়ের বিচার বিবেচনায় নেমেছি। তাই মুখ দিয়ে কথা বলুন আর কলম দিয়ে লেখুন – সব নফস্ থেকে উৎসারিত কথা বের হচ্ছে আমাদের! কোথায় আখেরাতের চিন্তা আর আল্লাহ তাআলার সামনে দাঁড়ানোর ভয়? চিন্তার ভ্রষ্টতা যখন দৃঢ় হল তখন আমাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গেরও অপব্যবহার শুরু হয়ে গেল। এক পর্যায়ে বিবেক-বুদ্ধি এতটাই লোপ পেল যে নিজের অন্যায়কে ‘ন্যায়’ ঠাওরালাম শুধু না – উচ্চস্বরে নিজের অপকর্মের পেছনে ‘মহৎ যুক্তি আছে’ – এমনও ঘোষণা দিয়ে বসলাম!

ভয়ের কথা। প্রায়ই এসব কাজে আমার হিংস্র সঙ্গীরাও আমাকে তীব্র উৎসাহ যোগায়। আমাকে আরো বড় অন্যায় করতে খুব উদ্বুদ্ধ করে। ফলে অন্যায় কাজে আমি আরো জ্বালানি পেয়ে যাই। বাড়িয়ে দেই সীমালঙ্ঘন। কবরে যখন যাব তখন কিন্তু আমি সম্পূর্ণ একাই যাব। কে তখন আমাকে সাহায্য করবে? এই সীমালঙ্ঘনে যারা আজ উৎসাহ আর সহযোগিতা করছে, তাদের কয়জন শাস্তিভোগের সময় আমাকে তার অংশীদার হিসেবে স্বীকার করবে?!

আসুন চোখ বন্ধ করে নিজের জীবনের সত্যিকার উদ্দেশ্য ও জাতির প্রকৃত কল্যাণে নিয়োজিত হই! এর জন্য লাগবে ঈমান ও নেক আমল। তওবা করতে হবে আল্লাহ পাকের অপছন্দনীয় যাবতীয় কর্মকান্ড থেকে! মিথ্যার সমর্থনকে উঠিয়ে নিতে হবে চিরতরে। সেই মিথ্যার আশ্রয় যেই নিক – কোনভাবেই একজন মুমিন মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা আখ্যা ব্যাখ্যা দেবে না। কোনভাবেই একজন মুমিন যাকে তাকে, যত্রতত্র সমর্থন করবে না। ভুল করে ফেললে মুমিন অবশ্যই তওবা করবে! ফিরে আসবে আল্লাহ পাকের পথে।

উম্মাতে মুসলিমার আর কত রক্তক্ষরণ দেখব?! তাদের অবক্ষয়ে আমরা আর কত উদাসীন থাকব? আর কত নিজেদের আসল পরিচয় ধামাচাপা দিয়ে মিথ্যাচার করে নিজেদের প্রতারিত করব?

আমাদের চিন্তাগত ও কর্মগত যে ভ্রষ্টতা, অবনতি ও অধঃপতন তা একদিনে হয়নি! এখনই এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে ধ্বংস অনিবার্য। এতে আমাদের পার্থিব ও পরকালীন সমূহ ক্ষতি হয়ে যাবে। প্রথমেই তাই ইসলাম শিক্ষাকে নিজের জন্য অপরিহার্য করে নিতে হবে। সাধ্যমত সেই শিক্ষার প্রয়োগ শুরু করতে হবে বাস্তবজীবনে। কুরআন শিক্ষায় ও প্রিয় নবীজি ﷺ এর সীরাত ও হাদীস অধ্যায়নে সময় বের করতে হবে। নিজের পরিচয় স্মরণ করে আল্লাহর পথে জেগে উঠতে হবে আমাদেরকে। বাঁধা আছে, বাঁধা আসবে। কিন্তু আমাদের চেষ্টা এভাবে বন্ধ রাখলে বিপরীতমুখী ‘পথ-চলা’ কোনভাবেই রোধ করা যাবে না। নিজেরা আমরা ক্ষতির মধ্যে আছি, পরিবার-পরিজনকে ক্ষতির মধ্যে ছেড়ে দিয়ে আজ চূড়ান্ত ও স্থায়ী ক্ষতির দিকে রওনা করেছি – সেই খেয়াল নেই আমাদের। মনে রাখতে হবে পার্থিব জীবন খুবই ক্ষণস্থায়ী। আল্লাহ তাআলার সামনে দন্ডায়মানের সেই দিনটি আসছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *