কী রেখে যাচ্ছি বিদায়ের আগে – ১

পৃথিবী ছেড়ে তো চলেই যাব আমরা। কী রেখে যাব এখানে? এটা এজন্যই বিবেচ্য ও ভাববার কারণ, এমন নয় যে, এখানে যা-ই রেখে যাই লাভ-ক্ষতি সমান!

প্রতিটি মানুষ এ জগতে আসার পর যখন বড় হয়, বুঝতে শেখে, তখন এক সময়ে তার চিন্তা, চেতনা ও চেষ্টা কোন এক দিকে কেন্দ্রীভূত হয়।

পার্থিব হায়াত যে সীমাহীন নয়, জীবন যে নশ্বর – এ কথাটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে। মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করে আখেরাত হল আল্লাহ তা’আলার কাছে হিসাব দেয়ার স্থান। শুধুমাত্র হিসাব দেয়ারই স্থান নয়, বিনিময় পাওয়ারও স্থান হল আখেরাত। আল্লাহ তা’আলা জানিয়ে দিয়েছেন:

অর্থ: প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং তোমাদের সবাইকে (তোমাদের কাজের) পুরোপুরি প্রতিদান কেয়ামতের দিনই দেয়া হবে। তারপর যাকেই জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হবে ও জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, প্রকৃত অর্থে সে-ই সফলকাম হবে। আর পার্থিব জীবন তো প্রতারণার উপকরণ ছাড়া কিছুই নয়। সূরা আলে ইমরান: ১৮৫

পুরোপুরি প্রতিদান বা পূর্ণাঙ্গ বিনিময় পাওয়ার আসল জায়গা আখেরাত। পার্থিব এ জগতে পাঠানোই হয়েছে পরীক্ষার জন্য।

আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণ আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলার সুস্পষ্ট বাণী আমাদের কাছে পৌঁছে দুনিয়া থেকে তাঁরাও বিদায় নিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং দেখুন কী বলছেন:

অর্থ: হে মানুষ! নিশ্চই আল্লাহ তা’আলার ওয়াদা সত্য। সুতরাং এই পার্থিব জীবন যেন কিছুতেই তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে এবং মহা ধোঁকাবাজ (শয়তান) আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কেও যেন তোমাদের ধোঁকায় ফেলতে না পারে। সূরা ফাতির: ৫

যারা নবীগণের আহবানে সাড়া দিয়েছে তাদের দৃষ্টি আখেরাত পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটা পরম সৌভাগ্যের বিষয়! যাদের দৃষ্টি আখেরাত পর্যন্ত পৌঁছেছে তারা পার্থিব জমা-খরচ, আয়-উন্নতি ও ফলাফলকে আল্লাহ পাকের বিধানের আলোকে চিন্তা করবে; নিজের চেষ্টা ও সাধনাকে (সাধ্যমত) বিলীন করবে আল্লাহ তা’আলার ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *