কী জীবন বানানোর ছিল, কী জীবন বানাচ্ছি

সেই পুরান কথা নতুন করে বলি। কারণ বলতেই হয়। আর আসলে কোন কাজ যদি বার বার করতেই হয়, তাহলে তা স্মরণ করানোর জন্য বার বার বলতেই হয়!
নেয়ামতের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তার কদর করা হচ্ছে কতটুকু?
দেখুন – যে ব্যক্তি আজ ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করল, হ্যাঁ মাত্র আজ মুসলমান হল…তার অবস্থাটা দেখুন! তার অবস্থার সাথে আমাদের (যারা জন্ম থেকেই ইসলাম পেয়েছি) অবস্থার সবকিছু মিলিয়ে দেখা যুক্তিসঙ্গত না হলেও, কিছু বিষয় তো অবশ্যই তুলনা করা যায় আর তাতে ফায়দাও অনেক।
মানুষের সবচেয়ে বড় নেয়ামত হল তার স্রষ্টাকে চেনা, তার জীবনের লক্ষ্যকে বোঝা। আমাদের উপর আল্লাহ তাআলার অপরিসীম নেয়ামত হল দ্বীন, ইসলাম। যে দ্বীন আমরা পেয়েছি অতি সহজে, বিনা মেহনত ও পরিশ্রমে। অথচ আজ কোন নও মুসলিমকে জিজ্ঞাসা করুন যে সে কিভাবে ঈমান-ইসলাম পেয়েছে? দশজনের মাঝে সর্বোচ্চ একজন বাদে নয়জনই দেখবেন কী বলে!
কত প্রশ্ন, কত চিন্তা, কত সফর, কত ত্যাগ-তিতিক্ষা-কুরবানী, কত পরিশ্রমের পর সে ঈমান-ইসলাম পেয়েছে! তারপরও তার মুখে নির্মল হাসি। সে বড় কৃতজ্ঞ। তার নামায, তার ধ্যান, খেয়াল, চিন্তা-ফিকির, চেতনার মধ্যে যেমন আছে একাগ্রতা তেমন খুলুসিয়াত (আন্তরিকতা)। তার জ্ঞান আহরণের আগ্রহ, তার দ্বীনকে মানার জযবা ও প্রচেষ্টা সবই কত প্রাণবন্ত! হ্যাঁ আমরা হয়ত এভাবে কালেমা পড়ে, আনুষ্ঠানিক ভাবে মুসলমান হইনি। আমরা ইসলামে প্রবেশের সময় হয়ত সেই পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যেমনটা সেই নওমুসলিমের হয়েছে, কিন্তু তারপরও আমাদের দেখা উচিত যে, আমাদের জীবনের কোন একটি সময়ে, কোন ঘটনায়, কোন মুহূর্তে কি এতটুকু অনুভূতি একটি দিনের জন্যও এসেছিল, যেমন আনন্দ-প্রশান্তি ও হৃদয়-স্পন্দন, আত্মিক উৎকর্ষ অনুভব করছে কোন নও মুসলিম? আরও আশ্চর্য হল জীবনের অনেক কিছু হারিয়ে ইসলাম পেয়ে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ কে পেয়ে যে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা একজন নও মুসলিম প্রকাশ করে, তাতে বোঝা যায় যে ঈমানের নূর তার অন্তরকে প্রচণ্ড প্রভাবিত করেছে! সেই নূর তার অন্তরের অন্তঃস্থলে পৌঁছেছে…নচেৎ, হাতে কিছু নেই, বাহ্যিক-ভাবে কিছুই অর্জিত হয়নি, কিন্তু সীমাহীন এক আনন্দে সে উদ্বেলিত – কিছু একটা পাওয়ার আনন্দ! কী পেয়েছে – তা না সে নিজে দেখতে পাচ্ছে, আর না সে কাউকে তা দেখাতে পারছে! তাই কবি বলেছেন:
অন্তরে যার আল্লাহর ভালোবাসা প্রবেশ করল সে অন্তর্জগতের ধনী
তার ধন-সম্পদ সীমাহীন; সেগুলি আজ দেখা যায় না
সেগুলির ফায়দা কিন্তু সে ঠিকই পাচ্ছে…
কাল সেগুলি যখন দেখা যাবে অন্যরা শুধু অফসোস করেই মরবে!
আমাদের (যার জন্মসূত্রে মুসলমান) কাছে ঈমান-ইসলাম কি পুরান হয়ে গেছে?! আমরা কি তাঁর স্বাদ লাভে ধন্য হতে পারছি না?! না না, আসলে ঈমান-ইসলাম কি পুরান হয়?! পুরান হলে বরং তা জীবনকে আরও দামী করে ছাড়ে..
আসল কথা হল, আমাদের অন্তর ঈমান-ইসলাম থেকে শূন্য হতে চলেছে।
হায় আফসোস! যে জিনিসের সন্ধানে শত-কোটি মানুষ জীবন বিসর্জন দিতে তৈরি হয়েছে, আজও হচ্ছে – আমরা সেই জিনিসই সাথে নিয়ে বসে আছি – তার মূল্য তো বুঝিই না, উল্টা হয় তা সস্তায় বেচতে প্রস্তুত অথবা নষ্ট হলে হোক – কোন পরোওয়া নেই! আল্লাহর পানাহ। ঈমানের নূর আমার অন্তর থেকে বের করে দিতে পারি…কিন্তু সেটাতো কোনদিন নষ্ট হবে না, আমি তা হারিয়ে নিজেই বরবাদ আর ধ্বংস হয়ে যাব! অন্য কোন অন্তর ঠিকই তা কবুল করে নিবে। আরও স্পষ্ট কথায়, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়াত দিবেন। তাই আমার কাছে এই অমূল্য জিনিস থাকতে তার কদর করি!
দেখুন আপনার কী আছে আর কী নাই? আপনার কাছে ঈমানের মত সম্পদ থাকতে আপনি কেন মনে করছেন আপনি দুখি, গরীব, বঞ্চিত বা হতভাগ্য?! আপনার সামনে কোন মুসলমান যখন দুনিয়ার কোন কিছু হারালে হা-হুতাশ করে তাকেও এ কথা স্মরণ করিয়ে দিন…
অত্যন্ত দামী নেয়ামত নিয়ে বসে আছি আমরা! তাঁর কোন অনুভূতি আমাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। শুকরিয়ার বড়ই অভাব! দুনিয়ার থেকে চলে যাওয়ার সময়টিতে বুঝে আসবে যে কী জীবন বানানোর ছিল – হায়! কী জীবন বানিয়েছি! আয় আল্লাহ, এমন আফসোস যেন করতে না হয়…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *