ঈমান ও ইসলামের ছায়াতলে থাকার পরও পথভ্রষ্ট হওয়ার কারণসমূহ

সঠিক আকীদা থেকে বিচ্যূতি

কারো দ্বীন সঠিক ও সুন্দর হওয়া প্রথমেই নির্ভর করে আকীদা দুরস্ত হওয়ার ওপর। যদি এমন হয় যে, সঠিক আকীদা অর্জিত হল, অথবা হলই না। তাহলে ঈমান ও ইসলামের ছায়াতলে আসার পরও হেদায়াতের পথ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্যূত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। কারণ, ঈমান এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ হুমকিতে পড়ে, মানুষ ঈমানবিহীন মৃত্যুবরণ করে (এতটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে আকীদা-সংশ্লিষ্ট। যেগুলোর কোনোটি জানা ও বিশ্বাস করার সঙ্গে সম্পর্কিত, অথবা কোনোটি একই সাথে আমলের সঙ্গেও সম্পর্কিত)!

ইলম অর্জন থেকে বিমুখতা

উপকারী ইলম অন্বেষণ করা থেকে বিমুখতা মানুষের অন্তরে জঞ্ঝাল সৃষ্টি করে। যে ধারণা ও বিশ্বাস মানুষ লালন করতে থাকে তার প্রভাব সরাসরি কর্মে অর্থাৎ আমলে গিয়ে পড়ে। অতএব কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান থেকে দূরে সরে মানুষ পথহারা হয়ে যায়।

আদব-কায়দাকে অগ্রাহ্য করা

এটি এমন একটি কাজ যা অনেক দ্বীনদার শ্রেণীর মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। মূলত ভদ্রতা, নম্রতা, বিনয়, মান্যতা হল দ্বীনদার হওয়ারই এক পূর্বশর্ত। বিশুদ্ধ আকীদা জেনে, ইলম অর্জন করে নেক আমল করার পরও যারা আদব-লেহাযে বিনয়ী ও মান্যকারী নয়, তারা বেয়াদব হয়ে হেদায়েত চ্যূত হয়।

বিভ্রান্তিতে পড়ে তা নিরসন না করা

অনেকে অন্যের দ্বারা অথবা নিজে নিজে চিন্তার জাল বুনে নানান বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। তখন তার চিন্তা, চেতনা ও কর্মে নানান বিষ ঢুকে। এগুলো নিয়ে কোনো যোগ্য মানুষের সঙ্গে না আলোচনা করে, না সেগুলির কোনো চিকিৎসার চিন্তা-তদবীর করার পদক্ষেপ নেয়। অনেকে আলোচনা করে কিন্তু পরামর্শ/সতর্কবাণী শুনেও সেই অনুযায়ী কাজ করে না! এ জাতীয় বেঠিক ও অশুদ্ধ চিন্তা ও কর্ম মানুষকে নানা রকম বিভ্রান্তির দিকে ধাবিত করে। এক পর্যায়ে সে অনেক সত্যকে স্বাভাবিকভাবে মানতে নারাজ হয়, নিজস্ব ধ্যানধারণাকে প্রাধান্য দেয়। এভাবে সে বিভ্রান্তিকর চিন্তা ও আমলের মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। জ্ঞান পাপীদের ও তাদের অনুসারীদের অবস্থা এমন।

নেক আমলে তীব্র অলসতা ও অনীহা করতে থাকা

অনেকে নেক আমল, বিশেষ করে ফরয ও ওয়াজিব কাজে তীব্র অবহেলা করে থাকে। তাদের এই কাজের পরিণতি অত্যন্ত মন্দ হয়। কারণ তারা “করি, করছি, করব” এত বেশি বলে ও করে থাকে যে, শেষমেষ তাদের গন্তব্যে পৌঁছানো আর হয় না!

অত্যাধিক দুনিয়া প্রীতি

এটা একেক জনের জন্য একেকভাবে এসে থাকে। যত এই দুনিয়ার কাজ-কারবার, বস্ত-আসবাবের মধ্যে ব্যস্ততা বৃদ্ধি করা হবে তত এগুলো মানুষকে গ্রাস করে। একটি সীমা পর্যন্ত ব্যস্ততা জরুরী ও প্রশংসনীয়। কিন্তু অতি ব্যস্ততা ও খুব উচ্চাকাঙ্খার পরিণতি মন্দ।সঠিক ও নেক পথ থেকে কাউকে ধীরে ধীরে, কাউকে খুব দ্রুত দূরে সরিয়ে দেয়।

গুনাহ করে তওবায় বিলম্ব করা

গুনাহ হওয়ার পরও তওবা না করা, তওবায় অবহেলা-অনীহা-বিলম্ব করা মানুষকে সত্য, নেক পথ, সততা, কল্যাণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এভাবে পথহারা হয়ে অনেকে নিরাশ ও হতাশ হয়ে যায়। ঈমান সংরক্ষিত করাই তখন কঠিন হয়ে যায়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *