ঈদ উদযাপনে অনুসরণীয় দু’টি অপূর্ব ঘটনা

১. আলী রা. এর ঈদ

রোজার ঈদ। এক ব্যক্তি হযরত আলী রা. এর ঘরে এল। দেখতে পেল, আলী রা. খুব ই সাধারণ খাবার খাচ্ছেন। লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন, আজ তো ঈদের দিন। আজও এ ধরনের খাবার খাচ্ছেন?! বাড়িতে কি একটু ভাল খাবারের আয়োজন করা যেত না?! আলী রা. জবাব দিলেন, ভাই, প্রকৃতপক্ষে ঈদ তো তাদের জন্যই, যাদের গুনাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করেছেন এবং এবং যাদের রমজানের রোজা তিনি কবুল করে নিয়েছেন।

এরপর আলী রা. বললেন, শুনো ভাই, আজও আমাদের ঈদ, আগামীকালও আমাদের ঈদ। মুমিন বান্দা যে দিন কোন গুনাহ করে না সে দিনটি-ই হল তার আসল ঈদ।

২. ছেঁড়া জামা

ঈদের দিন। খলীফা হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয রহ. দেখলেন, ছেলে আব্দুল মালিক ছেঁড়া জামা গায়ে দাঁড়িয়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে চোখে পানি চলে এল। বাবা ওমর চোখের পানি আড়াল করতে পারলেন না। ছেলে দেখে ফেলল। জিজ্ঞাসা করল, আব্বা, কাঁদছেন কেন? ওমর বললেন, তোমাকে দেখেই কাঁদছি। তোমার গায়ে ছেঁড়া জামা। একটু পর বন্ধুদের সাথে খেলতে যাবে। তাদের গায়ে নতুন জামাকাপড় দেখে তোমার মনটা ছোট হয়ে যাবে এ কথা ভেবে কাঁদছি।

ছেলে আব্দুল মালিকও ছিল বুযুর্গ পিতার আদর্শ সন্তান। বাবাকে অবাক করে দিয়ে সে বলল, আব্বাজান, মন তো ছোট হবে এমন মানুষের যে খোদার নাফরমানি করে এবং বাবা মাকে কষ্ট দেয়। আব্বাজান, আমার ধারণা, আপনি আমার প্রতি খুশি আছেন। আর হাদীসে আছে, “বাবার খুশির মাঝেই রবের খুশি নিহিত।” সে হিসেবে আমার বিশ্বাস, আমার আল্লাহও আমার প্রতি রাজি খুশি আছেন। সুতরাং আমার মন খারাপের কী আছে?! মন ছোট হবার তো প্রশ্নই ওঠে না।! সন্তানের কথা শুনে বাবা ওমরের কান্না আরো বেড়ে গেল। ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন এবং কেঁদে কেঁদে দীর্ঘক্ষণ সন্তানের জন্য দোআ করলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *