ইমাম গাযযালী (র:)-এর কিছু মূল্যবাণ উপদেশাবলী

  • নিজেকে বড় মনে করা অত্যন্ত জঘন্য পাপ। আত্ম অহংকার দ্বারা প্রকৃত প্রস্তাবে আল্লাহ্ তা’আলার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দিতা করা হয়। কেননা, বড়ত্ব একমাত্র আল্লাহ্ তা’আলার প্রাপ্য।
  • যে পর্যন্ত তুমি নিজের চোখকে হারাম বস্তুর প্রতি দৃষ্টিপাত হইতে বিরত করিতে না পারিবে, সে পর্যন্ত গুনাহ হইতে আত্মরক্ষা করিতে পারিবেনা।
  • অন্তরের মধ্যে লুক্বায়িত নোংরামি তিনটি উপসর্গের মাধ্যমে প্রকাশ পাইয়া থাকে। ১. অন্যের প্রতি বিদ্বেষ ২. রিয়া বা লোক দেখানোর প্রবণতা এবং ৩. নিজেকে বড় মনে করা।
  • নিজের চিন্তা, মতামত এবং কাজকর্মকে সর্বাপেক্ষা উত্তম এবং অন্যের সবকিছুকে তুচ্ছ জ্ঞান করার নামই আত্মপ্রশস্তি। এটি একটি মারাত্মক চারিত্রিক রোগ।
  • সদুপদেশ গ্রহণ করার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি না হওয়া এবং নিজের অভিমত খন্ডিত হইতে দেখিলেই অন্তরে ক্রোধের সৃষ্টি হওয়ার নামই অহংকার, আত্মপ্রশস্তি এবং অহংকার এমন মারাত্মক রোগ যা মানুষকে ধ্বংস করে ফেলে।
  • “ইলমে দ্বীন” সেই ইলমের নাম যে ইলম মানুষের মধ্যে আল্লাহ্ তা’আলার ভয় জাগ্রত করে; দুনিয়ার লোভ লালসা হইতে দূরে সরাইয়া দ্বীনের কাজে উৎসাহী করিয়া তুলে এবং অন্যায় অনাচার হইতে দূরে সরাইয়া রাখে।
  • জিহ্বা একটি নরম অঙ্গ। তাতে হাড় নাই। যদি বচন নরম হয় তবেই জিহ্বার স্বার্থকতা, অন্যথায় জিহ্বাই সকল অনর্থের উদ্যক্তা হইয়া দাঁড়ায়।
  • ইবাদতে কঠিন রাস্তা পরিহার করিয়া মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং যা কিছু কর নিয়মিত চেষ্টা কর।
  • আল্লাহ্ তা’আলার স্মরণে ব্যস্ত জিহ্বা, আল্লাহ্ তা’আলার প্রতি কৃতজ্ঞ অন্তর এবং সচ্চিরত্রা স্ত্রী দুনিয়ার সর্বাপেক্ষা বড় সম্পদ।
  • আল্লাহ্ তা’আলার নিকট যদি দু’আ কবুল করাইতে চাও, তবে হালাল ব্যতীত অন্য কোন কিছু পেটে দিও না।
  • সকল মানুষকে তোমার পছন্দ মাফিক চালানোর চেষ্টা না করিয়া যতক্ষণ শরীয়তের সীমারেখা অতিক্রান্ত না হয়, ততক্ষণ অন্যের রুচি ও পছন্দকে শ্রদ্ধা করিতে চেষ্টা করিও।
  • ক্ষুব্ধ হইয়া কখনও স্ত্রীর মনে কষ্ট দিও না। মনে রাখিও, তারা তোমার দ্বীন ঈমান রক্ষার সর্বাপেক্ষা বড় সহায়ক।

(কৃতজ্ঞতা স্বীকার: মাওলানা মহিউদ্দীন খান সাহেব, এই কথাগুলি হযরত অনুবাদ করেছেন।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *