সুন্নত অহংকার মিটিয়ে সংশোধন, সম্প্রীতি ও ঐক্য তৈরি করে

কোনো মুসলমানের অন্তর রাসূল ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা-শূন্য নয়। তাই কোনো মুসলমানের অন্তর রাসূল ﷺ-এর সুন্নতের প্রতি ভালোবাসা-শূন্যও নয়।

আমলের দিক থেকে উম্মতের মাঝে সুন্নতের অনুসরণে কম-বেশি আছে। কিন্তু ভালোবাসা সবার অন্তরে রয়েছে।

যদি আমরা রাসূল ﷺ-এর সুন্নতের রহমত, বরকত, নূর ও উপকারিতাগুলো জানতাম তাহলে কোনোভাবেই সুন্নতকে ছাড়তাম না! কিন্তু দেখা যায়, সুন্নতকে ছেড়ে তো দেই-ই, আবার সুন্নতের উপর আমলে অবহেলায় আমরা খুব খোঁড়া ও ক্ষতিকর যুক্তি দিয়ে থাকি।

এমন শোনা যায়, অর্থাৎ কেউ কেউ বলে থাকে, আমি বাহ্যিকভাবে সুন্নতকে খুব একটা অনুসরণ করতে পারি না, কিন্তু অমুক অমুকের চেয়ে তবু আমি অনেক ভালো। কারণ অমুকের মুখে দাড়ি থাকলেও আর মাথায় টুপি থাকলেও সে ‘এই করে’ বা ‘সেই করে’। আমি যদিও সুন্নতকে ধারণ করি না (অর্থাৎ, আমার দাড়ি-টুপি না থাকলে কী হয়েছে?), ওসব বড় বড় অন্যায় থেকে আমি সম্পূর্ণ মুক্ত।

বাহ্যিকভাবে কথাটি যুক্তিসঙ্গত ও সুন্দর। কিন্তু বাস্তবে কথাটির অন্তরালে রয়েছে অহংকার।

আমার মাঝে অপূর্ণাঙ্গতা আছে, সেটাকে আবার অন্যের দোষ প্রকাশের মাধ্যমে আমি যুক্তি দিচ্ছি যে, আমি তার চেয়ে বা অন্যদের চেয়ে উত্তম। এভাবে  দ্বীনের পথে নিজের অগ্রসর হওয়াকে আমিতো রোধ করলামই, অন্যকে দোষারোপ করে আরেকটি বড় অন্যায় করা হলো।

কেউ যদি কেবল বাহ্যতই সুন্নত ধারণ করে এবং শঠ প্রকৃতির হয়, তাকে আমরা ভালো বলছি না। কিন্তু তাকে দেখে কেউ যেন বাহ্যিক সুন্নতের আমলগুলোকে ক্ষুদ্র মনে না করে এবং নিজে আমল করতে বিরত না হয়।

এভাবেও চিন্তা করা দরকার যে, আমি অন্যের অন্যায়কে বড় করে দেখব না। আমার অন্যায়ও আল্লাহ পাকের সামনে রয়েছে, সেই খবর রাখতে হবে। বরং সেটা বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। সুস্থ বিবেক দিয়ে চিন্তা করলে প্রত্যেকে অন্যের দোষ অনুসন্ধান থেকে তওবা করবে। ফলে নিজের দুর্বলতা সামনে চলে আসবে। ইনশাআল্লাহ এটা হবে নিজ উন্নতির কারণ।

দেখুন, মুসলমানদের মধ্যে পুরুষদের জামআতে নামায আদায় আবশ্যকীয় করা হয়েছে। এর মাঝে গভীর হেকমত আছে। সব শ্রেণীর মুমিনগণ এক কাতারে, এক সাথে গায়ে গায়ে মিশে দাঁড়ায়। সাধারণত যারা অহংকারী তারা সবার সাথে সহজভাবে মিলেমিশে চলতে পারে না। তাই তাদেরকে জামআতে উপস্থিত হতে দেখা যায় না, বা দেখা কম দেখা যায়। তাদের (কারো কারো) নালিশ, মসজিদে গেলে এর-ওর নানা সমস্যা (দোষ) চোখে পড়ে। তার অবশ্যই চিন্তা করা দরকার যে, একতো সে সর্বসাধারণের কথা ও ব্যবহারকে গ্রহণ করতে পারছে না। আরেকদিকে যে আল্লাহ তাআলার আদেশও (অর্থাৎ, জামআতে নামায পড়ার নির্দেশ) গ্রহণ করতে পারছে না।*

সবাইকেতো সহনশীলভাবে সবার সাথে চলে আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে হবে। আল্লাহ তাআলার অন্যান্য বান্দাদের যেমন দোষে-গুণ — উভয়ই আছে, আমিও কি ঠিক তেমন নয়? আমি কি দোষমুক্ত?!

আমরা আজ থেকে সিদ্ধান্ত নেই যে অন্যের নেতিবাচক আচরণ দেখে:

– প্রিয় নবীজি ﷺ এর সুন্নত ছাড়ব না (সব নেক কাজই তো ‘সুন্নত’-এর মূল অর্থে সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত)

– অন্যের এক/দু’টি আচরণ দেখে তার সম্পর্কে কোনো প্রান্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাবো না (কারণ এটাও সুন্নত বিরোধী)

– নিজেকে কখনোই গণ্য-মান্য মনে করব না, বা কবুল ও মকবুল ভেবে নির্ভয় হয়ে যাব না। (এটাতো পতনের অন্যতম কারণ)

হে আল্লাহ আমাদের সবাইকে তুমি ক্ষমা করে নেক তাওফীক দান কর! আমীন।

*[কিন্তু সাবধান! এর অর্থ এ নয় যে, আমরা যারা জামআতে নামায পড়ি তারা নিজেদেরকে উত্তম সাব্যস্ত করব। বা যেসব পুরুষ বাসায় একাকী নামায পড়ে থাকে তাদের ‘সবাই’কে অহংকারী মনে করব — এমন কখনো নয়। সবার আল্লাহ তাআলাকেই ভয় পেতে হবে। উদ্দেশ্য, নিজ সংশোধন]

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

প্রবন্ধটি অবশ্যই প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেক-কাজে বরকত দিন!

error: