লাইলাতুল কদর পেতে হলে শেষ দশকে কী করা চাই

[যারা এতেকাফ করছেন, তারা পরম সৌভাগ্যবান। লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য এতেকাফই শ্রেষ্ঠ ইবাদত ও মাধ্যম। এতেকাফকারীগণ শ্রেষ্ঠ পন্থায় লাইলাতুল কদরের  সন্ধানে আছেন মাশাআল্লাহ! আমরা সবাই তাদের কাছে বিশেষ দুআ প্রার্থী! এ প্রবন্ধটি মূলত যারা এতেকাফ করছেন না – তাদের জন্যে।]

লাইলাতুল কদর পেতে হলে কী করা চাই?

সন্ধান করা চাই। এটাই আসল। আগ্রহ-উদ্দীপনা, আশা নিয়ে লাইলাতুল কদরের সন্ধান করা চাই।

নেক কাজের মাধ্যমেই সে ‘সুমহান রাত’টি সন্ধান করতে হবে। সুনির্দিষ্ট কোন নেক কাজ বা আমল নয়; শরীয়তসম্মত সব আমলই কিছু কিছু করা যায়। তবে নামায (বেশি বেশি সেজদা), দুআ ও তেলাওয়াত অগ্রগণ্য। আর দুআ’র মধ্যে হাদীসে বর্ণিত দুআ اللهم إنك عفو تحب العفو فاعفو عنى (অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালবাস, অতএব আমাকে ক্ষমা কর!) বেশি পাঠ করা উচিত।

আল্লাহ পাকের কাছে আন্তরিকতার সাথে ‘খালি হাত’ পাতব। ইনশাআল্লাহ হাত ‘খালি’ ফেরত আসবে না। কবি বলেন,

তোমার কাছে কিছু না চাইতে
এ্যাত কিছু পাইলাম,
যখন সামান্য কিছু চাইলাম
বহু গুণ বেশি পাইলাম!

এখন আরো বেশি থেকে বেশি চাব
….সেই তাওফীকটুকুও চাই মাওলা!
তারপরও তোমার দেয়ার শেষ হবে না
তোমার শান মত দাও আল্লাহ!

যতটুকু সহজ ও সম্ভব রাত জেগে ইবাদত করুন। শেষ দশ রাতই সাধ্যমতন জেগে কিছু ইবাদত করুন। তবে বেজোড় রাতকে বেশি প্রাধান্য দিন। বর্তমানে রাত সংক্ষিপ্ত! একটু সাহস করলে সবাই রাতের বড় অংশ জেগে তাহাজ্জুদ, দুআ, তেলাওয়াত করতে পারব ইনশাআল্লাহ।

কী দুআ করব?

নিজের সকল প্রয়োজনের জন্য খুলে খুলে আল্লাহকে বলুন – তাঁর কাছে দুআ করুন (এটা তো সবসময়ই করা উচিত)। এছাড়া নিজ পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-প্রতিবেশির জন্য, বন্ধু-বান্ধবদের জন্য ও পুরো উম্মতে মুসলিমার জন্য বিশেষ দুআ করব ইনশাআল্লাহ। উম্মতের নিপীড়িত, নির্যাতিত ও অভাব-অনটন-অসুবিধায় পতিতদের জন্য বিশেষভাবে দুআ করব। যারা চলে গেছেন, যারা আছেন, যারা আসবেন – সবার মাগফেরাত, কল্যাণ ও চির-মুক্তির জন্যেও দুআ করা উচিত।

পবিত্র রমযানে আমাদের দ্বারা যতটুকু অবহেলা হয়েছে তার জন্য এখন খুব ক্ষমা চাওয়া দরকার এবং বাকি সময়টির সবিশেষ কদর করা দরকার। তওবা ওইস্তেগফারের মাধ্যমে নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহ পাকের সোপর্দ করার সুবর্ণ সুযোগ এখন!

সব ‘ফেতনা-ফ্যাসাদ’ ও অকল্যাণ থেকে বেঁচে ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণের ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দুআ করা সবচেয়ে জরুরী।

অনাগত ভবিষ্যতের জন্য ‘আশ্রয় চাওয়া’র দুআ-গুলোকে খুব প্রাধান্য দেবেন! ‘মুনাজাতে মাকবুল’ – শায়খ আশরাফ আলী থানভী রাহিমাহুল্লাহের কুরআন-হাদীসের দুআ সংকলন। সেটির প্রতি মঞ্জিলের শেষের দিকে এ জাতীয় ‘আশ্রয় চাওয়া’র দুআগুলো আছে। পারলে প্রতি রাতে এগুলো পড়ুন!

এমনভাবে চিন্তা করুন যে, সামনের রমযানে আমি হয়ত আর দুনিয়ায় থাকব না; আমার হায়াত হয়ত বা তার আগেই শেষ হয়ে যাবে (আল্লাহ তাআলা আমাদের হায়াতে বরকত দিন, নেক হায়াত দান করুন। আমীন)! তাই যা অর্জন ও কামাইয়ের – এটাই সুযোগ।

রমযান তো কুরআন নাযিলের মাস। লাইলাতুল কদর হল কুরআন নাযিলের রাত। তাই নামাযের মধ্যে, বাইরে এ রাতে সাধ্যমতন কুরআন তেলাওয়াত করা উচিত। হাদীসে আছে, রোযা ও কুরআন আল্লাহ’র দরবারে সুপারিশ করবে আর তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল হবে! আমরা কি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হতে চাই না যাদের জন্য রোযা ও কুরআন সুপারিশ করবে? অবশ্যই হতে চাই। তাই শেষ দশকের রাতগুলোতে তেলাওয়াতে মনোযোগী হব এবং সারাজীবন কুরআনকে জীবনে জড়িয়ে রাখার শপথ করব ইনশাআল্লাহ। এমন নয় যে, রমযানও শেষ আর কুরআনের সাথে আমার সম্পর্কও শেষ! আল্লাহ ক্ষমা করুন, এর চেয়ে বড় বঞ্চনা আর কী হতে পারে?!

এভাবে চিন্তা আর চেষ্টা করলে আমরা বঞ্চিত হব না এবং ইবাদত বরকতপূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ পাক তাওফীক দিন। আমীন।

পরিশেষে, Islaminlife পরিবার আপনাদের সবার কাছে বিশেষ দুআ প্রার্থী এবং আমরাও সবার জন্য দুআ করছি ও করব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদের ক্ষমা করে দিন ও এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাগুলো কবুল-মকবুল করে নিন। আ-মীন ইয়া রাব্বাল আলামীন!

One thought on “লাইলাতুল কদর পেতে হলে শেষ দশকে কী করা চাই

  • June 7, 2018 at 1:11 AM
    Permalink

    ইনশাআল্লাহ.. আমীন

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *