রমযানের শেষ দশক: যে চিন্তা ও কাজগুলো বিশেষ বিবেচনার

​​​এই তো বিশেষ রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের অমূল্য ​সময়গুলো চলেই যাচ্ছে…যাবে! এখন একটু বিশেষ মনোযোগী হয়ে যাওয়াই উচিত। মুবারক রমযানের সবচেয়ে মুবারক শেষ দশ রাত। এখন আর অবহেলার সুযোগ কোথায়? এখন অন্তত জীবনকে সফল করার লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিন ও নিচের কাজগুলো করুন। জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনে খুব সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ:

বিষয়গুলো নিয়ে খুব ভাবি। খুব চিন্তা করি এবং বরকতময় রমযানের শেষ দশকে নিজেকে সংশোধনের চিন্তা করে অগ্রসর হই। বান্দার পক্ষ থেকে চিন্তা ও প্রচেষ্টা শুরু হলে আল্লাহ তাআলা সহায় হয়ে যান; তখন আর কিছুই লাগে না!

* খাঁটি তওবা করে ফেলুন। বিশেষভাবে নামাযে আলসেমি, বান্দার হক নষ্ট করা থেকে এবং মুখ ও চোখের গুনাহ থেকে​ তওবা করুন​। অন্য​ কোনো​ কু​-অভ্যাস থাকলে তা থেকেও।​ যে বিষয়ে সাহস হয় না, মন চায় না, সেই বিষয়ে আল্লাহকে এটাই বলুন যে, হে আল্লাহ!​ ​সাহস হচ্ছে না, মন চাচ্ছে না, তবু তুমি তাওফীক দিয়ে দাও। এটা করাও আর অসম্ভব কিছু না!​ ইনশাআল্লাহ তবু আমরা বঞ্চিত হব না।

* রমযান পরবর্তী জীবনে যে নেক কাজগুলো দৈনিক করা উচিত​ এবং সহজেই করা যায় ​- ​মোটামুটি তার একটি রুটিন করে ফেলুন।​ যেমন: দৈনিক তেলাওয়াত বা তেলাওয়াত শেখার জন্য প্রতিদিন বা সপ্তাহে অন্তত দু/তিন দিন – কিছু সময় বের করবেন ইনশাআল্লাহ। সেই চিন্তা ও কাজ বাস্তবায়নে এখনই লেগে যান।​ আসলে একজন মুসলমানের রুটিন জাগতিক কাজগুলোরও সময় ও সময়-সীমা নির্ধারণ করে ফেলা উচিত। একটি সুন্দর পরিকল্পনা ও সে অনুযায়ী চেষ্টা অব্যাহত থাকলে আজ-না হয় কাল, একদিন জীবনকে রুটিনমাফিক চালানো যাবে ইনশাআল্লাহ। আর এই যে চেষ্টা করেও ‘বার বার হার মানা’ – এও কি কম?! মোটেই নয়।

* কুরআনের সাথে সম্পর্ক স্থায়ী করার ​’​প্রোগ্রাম​’​ হাতে নিন। কোনোভাবেই এত বড় নেয়ামতকে অবহেলা কোরেন না। যে কাজ ও চিন্তা আপনাকে​ পবিত্র​ কুরআন থেকে দূরে রাখে, তা ঝেঁটিয়ে-পিটিয়ে জীবন থেকে বের করুন।​ যদি একবারে মন্দ কাজগুলোকে জীবন থেকে বের করতে না পারেন, অন্তত কিভাবে তা থেকে বাঁচা যায় তার সঠিক নির্দেশনা আলেমদের থেকে নিতে শুরু করুন। ​

* রাসূলে কারীম ﷺ-এর পবিত্র জীবন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হেদায়াতের দিশারী। প্রত্যেকটি মুসলমানের উচিত রাসূলে কারীম ﷺ-এর পবিত্র জীবন এবং তাঁর সাহাবি রা. দের জীবনী পড়া ও অনুসরণ করা। নিজের এবং অধীনস্থ সবার জীবনে পবিত্র সুন্নতের প্রতিফলন আনার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য অত্যবশ্যক। পার্থিব ও পরকালীন সফলতা অর্জনের শ্রেষ্ঠতম ও সহজতম পথ হল রাসূলে কারীম ﷺ-এর সুন্নত অনুসরণ-অনুকরণের পথ। এটি ভুলে বসে বা অবহেলা করেই আজকে আমাদের এই দুর্দশা। আসুন এ ব্যাপারে বিশেষ যত্নবান হয়ে যাই!

​* ​সৎ অর্থাৎ নেক স​ঙ্গী​​ অবলম্বনকে নিজের​ জীবনের​ জন্য জরুরি করে নিন। যত খারাপ​ বন্ধু ও সঙ্গ আছে সবগুলোকে চির তরে তালাক দিন। ​আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল ﷺ হল শ্রেষ্ঠ সঙ্গী! ​তারপর যারা তাঁদের সবচেয়ে কাছে – তারা। ‘আলেম বা-আমল’ যারা জানেনও এবং জানার ওপর আমল করেন – তাদের সঙ্গ অবলম্বন করুন। যাকে আল্লাহ’র ওয়াস্তে ভাললাগে ও আল্লাহ’র ওয়াস্তে ভাল বলে দৃঢ় বিশ্বাস হয় তার সঙ্গ অবলম্বন করুন। প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান এমন আলেমদের থেকে জেনে নিন ও শরীয়ত সম্মতভাবে সামাজিকতা, লেনদেন এবং চরিত্র গঠনে জীবন গড়ে তুলুন। দুনিয়া ও আখেরাতকে গড়ে তোলার জন্য ‘মুত্তাকী’ (যারা পরহেযগার, খোদাভীরু)দের সাথে চলার কোনো বিকল্প নেই। অন্য সব আলেম (যাদের আপনে অনুসরণ করছেন না) ও সাধারণভাবে সব মুসলমানদের প্রতি সুধারণা ও শ্রদ্ধা রাখুন। কোনভাবেই হিংসা-বিদ্বেষ, ঝগড়া, ফ্যাসাদ ও মারামারিতে লিপ্ত হোয়েন না! আজ ভেদাভেদে সৃষ্টির মাধ্যমে শয়তান আমাদের দ্বীন-দুনিয়াকে ধ্বংসের প্রয়াস চালাচ্ছে।

* দুআ আর যিকির (যা কিছু রমযানে শুরু করেছেন) আর ছেড়েন না। যতভাবে পারা যায় নিজের ‘সময়’কে দুআ-যিকিরে ​বাঁধুন!​ জীবনের রুটিনে দুআ ও যিকিরকে বেঁধে ফেলুন। নিজের উপর এঁকে জরুরী করে নিন। প্রতি নামাযের পর দুআ, তাসবীহ-তাহলীল আদায়, সকাল-সন্ধ্যার দুআ পাঠ এবং জায়গায়-জায়গায় (অর্থাৎ, স্থান-কাল-পাত্র অনুযায়ী) হাদীসের দুআগুলো পড়ে চব্বিশ ঘন্টার পুরোটই ‘যিকিরের জীবন’ বানানো সম্ভব। একজন মুসলমান চলতে, ফিরতে, উঠতে, বসতে আল্লাহকে স্মরণ করবে, আল্লাহকে ডাকবে, তাঁর কাছেই সব অভাব-অভিযোগের কথা বলবে। এটি বড় পবিত্র, আলোকিত ও মুবারক (বরকতপূর্ণ) অভ্যাস! ​

হে আল্লাহ! আপন রহমতে আমাদের তাওফীক দাও। আমীন।

One thought on “রমযানের শেষ দশক: যে চিন্তা ও কাজগুলো বিশেষ বিবেচনার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *