নেক সংস্রব ও দ্বীনি জ্ঞানের অভাবের ফলাফল ও আমাদের করণীয়

আজ নেক সংস্রব ও দ্বীনি জ্ঞানের অভাবের কারণে আমাদের সার্বিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছে যে, ব্যাপকভাবে এই উপলব্ধি বিশ্বাসের পর্যায়ে উপনীত হয়ে গেছে যে, সত্যিকার দ্বীনদার ও ভাল মানুষ দুনিয়াতে আর নেই! অথবা আমাদের স্থূল দৃষ্টিতে ও বিচারে শুধু নিজের সংজ্ঞায়িত “সৎ” বা “ভাল”কেই পূর্ণাঙ্গ ভাল হওয়ার মাপকাঠি মনে হচ্ছে; ধরে নিয়েছি নিজেদের এই কাল্পনিক সীমানাই সর্বশেষ ভালর মাপকাঠি!
যারা ইচ্ছাকৃত ও হঠকারিতা স্বরূপ এমন করে থাকে – তারা তো সত্যকে অগ্রাহ্যই করে! সর্বসাধারণ মুসলমানদের এই অবস্থায় উপনীত হওয়ার অন্যতম কারণ হল, নেককার ও পরহেযগারদের থেকে বিচ্ছিন্নতা, তাদের সংস্রবের মাধ্যমে কোন প্রকারের উপকার লাভের চিন্তা-প্রচেষ্টার প্রতি চরম উদাসীনতা ও অবহেলা। কমপক্ষে এ কথা অস্বীকার করা মুশকিল যে, দ্বীনি পরিবেশ ও দ্বীনদারদের সাথে বৃহত্তর সাধারণ জনগোষ্ঠীর যোগাযোগের দূরত্ব বেশি হওয়াতে তারা ভেবে বসেছে যে, না – এই যুগে আর জুন্নুন মিশরী নেই, নেই বায়েজীদ বোস্তামী। এখন আল্লাহ তা’আলার সাহায্য ঐ আগের যুগের মতন পাওয়া এক রকম অসম্ভব ব্যাপার!
নি:সন্দেহে এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এই মারাত্মক ভুল ধারণার বশবর্তী হওয়ার ফলশ্রুতি হল, প্রকৃত ভাল মানুষ না আমাদের নজরে ধরে পড়ে, আর পড়লেও তাদের আমরা যেহেতু চিনতেই পারি না – তাই তাদের থেকে আমরা উপকৃত হওয়া তো আরও দূরের কথা! এর চেয়েও আরও এক ধাপ এগিয়ে যে মারাত্মক ধোঁকা তা হল, আমার কাছে তো নিজেকেই সর্বাধিক ভাল বলে মনে হয়?! এই কথা হয়ত কেউ মুখে বলে না, কিন্তু তার কাজে কর্মে ও অন্যদের প্রতি বিরূপ মন্তব্যের মাধ্যমে তা সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। শুধুই এতটুকুই তো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, আমরা নিজেকেই অন্যদের চেয়ে উত্তম মনে করি — যেটা নি:সন্দেহে অহংকার। তার উপর যদি কেউ নিজেই দ্বীনদার ও ভাল মুসলমান নয়, দ্বীন সম্পর্কে তার জ্ঞানও তেমন নেই, দ্বীনি মহলের সাথে যোগাযোগ নেই বললেই চলে সে যদি যথেচ্ছা  সব মুসলমানকে হেয় করে – তা কতই না মস্ত বড় দাম্ভিকতা! কোনভাবেই এই উপলব্ধি মু’মিনের শান নয়। মুমিন এই অবস্থায় স্থির থাকতেই পারে না; মুমিনের কদাচিৎ এমন যদি শুধু মনে একটু উদয়ও হয়ে যায় – সে তওবা-ইস্তিগফার করে নেয়!
আমাদের উচিত নেক সংস্রব ও দ্বীনি জ্ঞান চর্চায় উলামায়েকেরামের শরণাপন্ন হওয়া। সর্বোপরি আল্লাহ তা’আলার কাছে খুব আন্তরিকভাবে দু’আ করা উচিত, যেন তিনি আমাদেরকে সঠিক পথ দেখান, সঠিক পথেই রাখেন। তা না হলে, মন মত চলা হবে, মন গড়া পাথেয় সংগৃহীত হবে ও জীবনাবসান হবে ফেরাউন, হামান, আবু-লাহাব ও আবু-জাহেলদের মত – আল্লাহ তা’আলার পানাহ্! মুসলমানের সন্তান হয়ে ঈমান ও ইসলামের মত অমূল্য দান থেকে বঞ্চিত হওয়ার চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কী আছে?!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *