নেক কাজে দৃঢ়তা বৃদ্ধির উপায়: ১

পবিত্র রমযান মাসে আছি আমরা। এখন মুমিন হিসেবে আত্মসংশোধন, জীবনকে আখেরাতমুখী করার তাড়না অনেক বেশি। এটা আল্লাহ তাআলা’র বিশেষ রহমত ছাড়া আর কিছু নয়। এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। এ বরকতময় সময়ে নিজেকে সংশোধনের একটু চেষ্টা করি আমরা! এর ফলে সারাজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে ইনশাআল্লাহ। ‘নেক কাজে দৃঢ়তা বৃদ্ধির উপায়’ শীর্ষক প্রবন্ধটি এ উদ্দেশ্যেই লেখা…আল্লাহ পাক কবুল করুন। (আমীন)

নেক কাজে দৃঢ়তা বৃদ্ধির জন্য কয়েকটি কাজ খুবই সহায়ক। আমাদের সাইটে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্নভাবে এগুলো আলোচনা করা হয়েছে। পবিত্র রমযানে বিষয়গুলোকে একত্রে সংক্ষেপে একটু আলোচনা করা হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমল করার তাওফীক দিন। আমীন।

বার বার তওবা করতে হবে

তওবা ভঙ্গ হোক। তবু তওবা জারি রাখা অর্থাৎ তওবা অব্যাহত রাখা উচিত।

এ আলোচনা আমরা একাধিকবার করেছি। কিন্তু আবারও করছি। বার বার এ আলোচনা করার মধ্যে অনেক উপকার নিহিত।

আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন যে বান্দা তুমি তওবা কর, আমি তওবা কবুল করব। তওবাকে উপেক্ষা করলে জীবনে সমস্যার কোনো অন্ত থাকে না! এক তো  মৃত্যু যেকোন মুহূর্তে এসে উপস্থিত হবে। এছাড়াও তওবা না করার দরুণ বান্দার সাথে আল্লাহ তাআলা’র সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে থাকে। নেক কাজে মন বসে না, এক সময়ে আল্লাহ মাফ করুন, নেক-কাজের কথা পর্যন্ত অন্তরে প্রভাব ফেলে না। এ অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য গুনাহ হয়ে গেলে তাৎক্ষনিক তওবা করে ফেলা উচিত। [আর বাস্তবে গুনাহ আমাদের কার দ্বারা হয় না?! তওবা ও ইস্তেগফার সবসময় কিছু করা উচিত।] 

এতটুকু বুঝতে হবে যে, তওবার শর্ত সাধ্য আনুযায়ী পালন করা জরুরী। গুনাহের জন্য লজ্জিত হওয়া, গুনাহকে পরিত্যাগ করা ও ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প হল মূল শর্ত। কোনো বান্দার হক নষ্ট করে থাকলে তার হক ফিরিয়ে দেয়া, তার কাছে ক্ষমা চাওয়া জরুরী। সম্ভবত এখানে আমাদের গাফলতি খুব বেশি। আমরা হয় অন্যের হক আদায় করব না – এমন চিন্তা করে রেখেছি। অথবা ক্ষমা চেয়ে নেব – এমন চিন্তা করেছি। অথবা উদাসীন হয়ে বসে আছি। এটা আমাদের দ্বীন-দুনিয়া বরবাদ করে দেবে। আল্লাহ হেফাজত করুন! নিজে থেকে এ বিষয়ে খুব তৎপর হয়ে যেতে হবে। কোনভাবেই অন্যের হককে হালকা করে দেখার অবকাশ নেই। যদি পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে থাকে – যেটা আমাদের তওবা বিলম্বিত হওয়ার জন্যই হয়ে থাকে – তবু সমাধান খুঁজতে হবে। কোনো আলেমের শরাণাপন্ন হয়ে বিষয়টি খুলে আলোচনা করে ‘হল্’ তথা সমাধান করতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা শুরু হলে আল্লাহ তাআলা সাহায্য করবেন, তিনিই রাস্তা খুলবেন।

তওবা বার বার করার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ’র পথে অগ্রসর হয়। তওবাকারী বান্দা কখনোই হঠকারী হিসেবে চিহ্নিত হয় না। আল্লাহ তাআলা তওবাকারীকে ভালবাসেন। হাদীসে আছে যে, দিনের গুনাহগারকে ক্ষমা করার জন্য রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর তওবার হাত প্রসারিত করে দেন, রাতের গুনাহগারকে ক্ষমা করার জন্য দিনে আল্লাহ তাআলা তাঁর তওবার হাত প্রসারিত করে দেন। আরও আছে যে, সাধারণভাবে সব বান্দাই গুনাহগার; উত্তম সে যে তওবাকারী। আরও আছে যে, তওবাকারী এমন যেন তার কোনো গুনাহ নেই! আমরা কেন তওবা করতে অবহেলা-অনীহা-বিলম্ব করছি?! আসুন আন্তরিকভাবে তওবা করে নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *